বিশ্বকাপে ইরানের বেজক্যাম্প মেক্সিকোতে অনুমোদন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ৭৫ বার
ইরানকে বেজক্যাম্প করার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে মেক্সিকো

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও ক্রীড়া-সংগঠনিক সিদ্ধান্তে ইরান জাতীয় ফুটবল দলের বেজক্যাম্প হিসেবে মেক্সিকোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভিসা জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিশ্বকাপ আয়োজনের অন্যতম স্বাগতিক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে ২০২৬ সালের টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে। এই তিন দেশের বিভিন্ন শহরে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কিছু দলের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা এবং অবস্থানগত জটিলতা তৈরি হওয়ায় দলগুলোর বেজক্যাম্প নির্ধারণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা FIFA সরাসরি হস্তক্ষেপ করে ইরান জাতীয় দলের জন্য বিকল্প বেজক্যাম্প নির্ধারণে উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীতে মেক্সিকো সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দলটির জন্য দেশটিতে অবস্থানের অনুমোদন নিশ্চিত করা হয়।

মেক্সিকো সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্রীড়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক জটিলতা যেন অংশগ্রহণকারী দলগুলোর পারফরম্যান্সে প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেনবামের দপ্তর থেকে বলা হয়, ইরান দলকে তাদের বেজক্যাম্প হিসেবে মেক্সিকোতে অবস্থান করতে না দেওয়ার কোনো বাস্তব বা প্রশাসনিক বাধা নেই।

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ জানিয়েছেন, শুরুতে পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় দলটির বেজক্যাম্প স্থাপন করা। তবে পরবর্তী সময়ে ভিসা প্রক্রিয়া এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়। এখন নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সীমান্তবর্তী শহর টিজুয়ানাকে বেজক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।

তাঁর ভাষায়, দলটি যেন নির্বিঘ্নে প্রস্তুতি নিতে পারে এবং ম্যাচের আগে মানসিক চাপমুক্ত পরিবেশে অনুশীলন করতে পারে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, খেলোয়াড়রা বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে সরাসরি মেক্সিকোতে পৌঁছাবে এবং সেখান থেকেই টুর্নামেন্টের নির্ধারিত ম্যাচ ভেন্যুগুলোতে যাতায়াত করবে।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে শুধুমাত্র খেলাই নয়, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও কূটনৈতিক সম্পর্কও বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে স্বাগতিক দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনেক সময় দলের অবস্থান ও চলাচলে প্রভাব ফেলে।

ইরান জাতীয় দল এই বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জি’-তে অবস্থান করছে। গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং মিশর। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের এই গ্রুপকে ঘিরে ইরান দলের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিন্ন দেশে বেজক্যাম্প স্থাপন দলীয় প্রস্তুতিতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা ও অভিযোজন ক্ষমতাও পরীক্ষা করবে। মেক্সিকোর পরিবেশে অনুশীলন করে ইরান দল উত্তর আমেরিকার কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ফিফা কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্যান্য দলের ক্ষেত্রেও একটি উদাহরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বহুজাতিক আয়োজনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য বিকল্প বেজক্যাম্প ব্যবস্থার ধারণা আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

মেক্সিকো ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, তারা ইরান দলের জন্য আধুনিক অনুশীলন সুবিধা, নিরাপদ আবাসন এবং পরিবহন ব্যবস্থার নিশ্চয়তা দেবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও টুর্নামেন্ট চলাকালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করবে।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইরান দলের বেজক্যাম্প ঘিরে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা এখন কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে টুর্নামেন্ট যত এগিয়ে আসবে, ততই এই ধরনের সিদ্ধান্ত আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের দিকে, যেখানে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের সিদ্ধান্তও সমানভাবে আলোচনায় থাকবে—ইরানের বেজক্যাম্প মেক্সিকোতে অনুমোদন তারই একটি বড় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com