আবু সাঈদ হত্যা মামলা: অভিযোগ গঠনের দ্বিতীয় দিনের শুনানি আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৮৭ বার
আবু সাঈদ হত্যা মামলা: অভিযোগ গঠনের দ্বিতীয় দিনের শুনানি আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে

প্রকাশ: ২৯শে জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের দ্বিতীয় দিনের শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

শুনানিতে গ্রেফতারকৃত ৬ জন আসামির পক্ষে তাদের নিযুক্ত আইনজীবীরা এবং পলাতক থাকা ২৪ জন আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা অংশ নেবেন। এ মামলায় ইতোমধ্যে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে অভিযোগের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। প্রসিকিউশন পক্ষ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আবেদন জানিয়ে ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন।

গতকাল সোমবার (২৮ জুলাই) এই মামলার প্রথম দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল দ্বিতীয় দিন ধার্য করে। এর আগে, গত ৩০ জুন প্রসিকিউশন এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে এবং ট্রাইব্যুনাল-২ তা আমলে নেয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ শহীদ হন। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এই ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে এবং তা গড়ে তোলে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ নামে পরিচিত একটি ছাত্র-জনতার আন্দোলন।

প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে এই মামলায় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরীসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। তারা বর্তমানে বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন এবং আদালতে হাজির করা হয়েছে।

আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনের প্রতীক। সেই আন্দোলনের প্রতিফলনেই গঠিত হয়েছে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’—যার মাধ্যমে দেশের ছাত্র ও জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠা এবং বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠে এসেছে। এই ঘোষণাপত্র নিয়েও বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

আবু সাঈদের পরিবার ও সহপাঠীরা শুরু থেকেই তার হত্যার বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন। আজকের শুনানি সেই দাবির বিচারিক অগ্রগতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও আদালতের পর্যবেক্ষণ জাতীয়ভাবে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই বিচারিক প্রক্রিয়া দেশের বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ছাত্র আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ যেন অবহেলায় বিস্মৃত না হয়—এই প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছে সমগ্র জাতি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com