যুদ্ধবিরতির পরও কম্বোডিয়ার হামলা: থাই সেনাবাহিনীর অভিযোগে উত্তেজনা নতুন করে চরমে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৫ বার
যুদ্ধবিরতির পরও কম্বোডিয়ার হামলা: থাই সেনাবাহিনীর অভিযোগে উত্তেজনা নতুন করে চরমে

প্রকাশ: ২৯শে জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

যুদ্ধবিরতির ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মাথায়ই তা লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিতর্কিত সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত অবসানে দুই দেশের নেতৃত্ব যখন শান্তি চুক্তিতে উপনীত হয়েছে, তখনই থাই সেনাবাহিনী দাবি করেছে, কম্বোডিয়ার বাহিনী যুদ্ধবিরতি ভেঙে থাই ভূখণ্ডে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র উইনথাই সুভারি মঙ্গলবার সকালে এক বিবৃতিতে বলেন, শান্তি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও থাই সেনাবাহিনী স্পষ্টভাবে দেখতে পেয়েছে যে, কম্বোডিয়ান বাহিনী বেশ কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্টে অস্ত্রসহ আগ্রাসন চালিয়েছে। এমন আচরণ যুদ্ধবিরতির প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা এবং পারস্পরিক আস্থাকে চূর্ণ করার ইচ্ছাকৃত প্রয়াস।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, থাই সেনাবাহিনী আত্মরক্ষার খাতিরেই পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। যদিও দেশটির তরফে এই প্রতিক্রিয়া সীমিত এবং রক্ষামূলক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার মধ্যরাতে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া মালয়েশিয়ায় এক শান্তি আলোচনায় বসে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ এবং গত পাঁচ দিনে ভয়াবহ সংঘর্ষের জেরে অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যু ও তিন লক্ষাধিক মানুষের বাস্তুচ্যুতির প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শান্তি আলোচনায় উভয় পক্ষ তাদের ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত অঞ্চলে সংঘর্ষ বিরতি কার্যকরের ব্যাপারে একমত হয়।

তবে, থাই বাহিনীর এই অভিযোগে সেই শান্তি প্রক্রিয়াই এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সঙ্ঘর্ষপূর্ব পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলেও।

একই দিনে সকাল ৭টায় নির্ধারিত ছিল উভয় দেশের সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে একটি সমন্বয় সভা। কিন্তু থাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বর্তমান উত্তেজনার কারণে বৈঠকটি পিছিয়ে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দুই দেশের সম্পর্ক গত এক দশকে বারবার সংঘাতে বিপর্যস্ত হয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোর মালিকানা নিয়ে দুই দেশের ইতিহাস পুরনো হলেও গত এক সপ্তাহে যা ঘটছে, তা প্রায় যুদ্ধাবস্থার কাছাকাছি। যদিও আন্তর্জাতিক মহলের চাপ এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, তবে সর্বশেষ ঘটনাবলি তাতে বড় রকমের বাধা সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুনরায় চালু করা না হলে, এই বিরোধ সহিংস আকারে বিস্তার লাভ করতে পারে এবং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সাধারণ নাগরিকদের উদ্বেগও বাড়ছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, কারণ তারা একদিকে যেমন আগত বিপদের শঙ্কায় ভুগছেন, তেমনি শান্তি প্রক্রিয়ার ব্যর্থতা তাদের জীবনযাত্রা অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।

এখন সকলের চোখ মালয়েশিয়ায় আয়োজিত পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার দিকে। যদি দুই দেশের সামরিক নেতৃত্ব সঠিক দিকনির্দেশনায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই সংকট ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত