সর্বশেষ :
আগে ক্লিন, পরে গ্রিন—ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর: উত্তর সিটির প্রশাসক চট্টগ্রামে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা মামলায় আসামি ১৯ জিয়াউর রহমানের ওপর গবেষণা অপ্রতুল, যা ইতিহাসের প্রতি অবিচার: ফখরুল শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু : শিক্ষামন্ত্রী স্পেনকে রুখে দেওয়া ভোজিনহার এক রাতেই ফলোয়ার ৫৭ লাখ! ‘চাঁদা দাবির’ অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি তিন মাসের মধ্যে চীনে বিডার প্রথম বিদেশি অফিস খোলা হবে : আশিক চৌধুরী তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই ভারত থেকে ফিরেছি: ডা. জাহেদ উর রহমান

আগে ক্লিন, পরে গ্রিন—ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর: উত্তর সিটির প্রশাসক

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
  • ৭ বার
আগে ক্লিন পরে ঢাকাকে গ্রিন করতে হবে: উত্তর সিটির প্রশাসক

রাজধানী ঢাকাকে সত্যিকার অর্থে সবুজ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে হলে আগে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক। তিনি বলেছেন, শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পরিবেশ উন্নয়ন এবং নাগরিক জীবনমান উন্নয়নের জন্য বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার আগে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা এবং সুশৃঙ্খল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

মঙ্গলবার রাজধানীতে নগর পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ উন্নয়নবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসক বলেন, ঢাকাকে সবুজায়নের নানা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়, কিন্তু বাস্তবতা হলো শহরের অনেক এলাকায় এখনও ময়লা-আবর্জনা, অব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ দূষণের সমস্যা রয়ে গেছে। পরিচ্ছন্ন নগরী ছাড়া টেকসই সবুজ নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়। ফুটপাত, সড়ক, খাল, উন্মুক্ত স্থান এবং জনপরিসর পরিষ্কার রাখা সমান গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষার জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি এবং কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হলেও তা সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা না গেলে পরিবেশ দূষণ বাড়ে। ফলে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ, রোগবালাই এবং নাগরিক ভোগান্তির মতো সমস্যা সৃষ্টি হয়। এ কারণে বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বর্জ্য ফেলার প্রবণতা বন্ধে নজরদারি বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নয়, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া পরিচ্ছন্ন নগর গঠন সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত শহরগুলোতে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়। সেখানে নাগরিক দায়িত্ববোধের পাশাপাশি প্রশাসনিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঢাকাকেও সেই মানদণ্ডে নিয়ে যেতে হলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

সবুজায়ন প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, নগরীর খালি জায়গা, সড়ক বিভাজক, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে অনেক প্রকল্পে গাছ লাগানো হলেও পর্যাপ্ত পরিচর্যার অভাবে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নগর সবুজায়নের বিকল্প নেই। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বায়ুদূষণ হ্রাস এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু পরিবেশবান্ধব নগর গড়ার প্রথম ধাপ হলো পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা।

পরিবেশবিদরা অনুষ্ঠানে বলেন, দ্রুত নগরায়নের ফলে ঢাকা নানা পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। জনসংখ্যার চাপ, অপরিকল্পিত নির্মাণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। একটি স্বাস্থ্যকর নগর ব্যবস্থায় উভয় বিষয়ই পরস্পর নির্ভরশীল। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকাকে আরও বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব।

সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। শিশু ও তরুণদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি হলে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নগর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, নাগরিক আচরণগত পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ। যত্রতত্র ময়লা ফেলা, ড্রেন ও খালে বর্জ্য নিক্ষেপ এবং জনপরিসর নোংরা করার প্রবণতা বন্ধ করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে ঢাকা আরও পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল এবং পরিবেশবান্ধব নগরীতে পরিণত হবে। এজন্য নগরবাসী, সিটি করপোরেশন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘আগে ক্লিন, পরে গ্রিন’ ধারণাটি শুধু একটি স্লোগান নয়; এটি টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার একটি বাস্তবসম্মত দর্শন। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে সবুজায়নের উদ্যোগও অধিক কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। ফলে রাজধানীর পরিবেশগত মানোন্নয়ন এবং নাগরিক জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত