সর্বশেষ :
সীমান্তে আটক ভারতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক, গ্রহণে অনীহা বিএসএফের চরের ১০ স্কুলে শিক্ষা সংকট, শ্রেণিকক্ষেই মাদকসেবন ও অবৈধ দখলের অভিযোগ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন তথ্য উপদেষ্টা রাজধানীতে অভিযান, ডিএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি মোশারফ গ্রেফতার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, বাসের চাপায় প্রাণ গেল যুবকের ১২ বছর ধরে অচল একটি সেতু, দুর্ভোগে কুড়িগ্রামের হাজারো মানুষ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত, আশাবাদ সরকারের বোয়ালমারীতে মাদক কারবারির সন্দেহে গণপিটুনি, ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল প্রাইভেটকার এক মাসে চারবার ভূমিকম্প, বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত নাকি স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া? চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে পারে বাংলাদেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭০ লাখ টাকার ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ, আটক ২

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ৩৬ বার

সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ৭০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় মাদক পরিবহন ও পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। জব্দকৃত সিরাপের চালানটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে একটি সন্দেহভাজন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকেই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া সিরাপগুলো অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে দেশে আনা হয়েছিল। এসব সিরাপ তরুণদের মধ্যে নেশা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে এবং দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় চোরাকারবারি চক্র এগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছে। জব্দকৃত চালানের বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা বলে প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা বলেন, মাদক পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ভারত থেকে অবৈধভাবে প্রবেশ করা নেশাজাতীয় সিরাপ, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সফল অভিযানের মাধ্যমে বড় বড় চালান জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা এখন এই চালানের পেছনে থাকা মূল হোতা, অর্থদাতা এবং গ্রহণকারী নেটওয়ার্ক শনাক্তের চেষ্টা করছেন। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বৃহত্তর চক্রের সন্ধানে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তবর্তী হওয়ায় মাদক ও চোরাচালানকারীদের একটি রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় অনেক চালান আটক হচ্ছে, তবুও মাদক কারবারিরা নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে পাচারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মাদকবিরোধী বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নেশাজাতীয় সিরাপের সহজলভ্যতা তরুণ সমাজের জন্য বড় হুমকি। এসব সিরাপ দীর্ঘদিন সেবনের ফলে শারীরিক ও মানসিক নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই শুধু অভিযান নয়, সামাজিক সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত নজরদারি এবং চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে মাদক প্রবেশের প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। মাদক পাচার, মজুত ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত যে কাউকে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জব্দ হওয়া সিরাপের উৎস, পরিবহন রুট এবং গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে, যাতে এই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত জেলাগুলোতে মাদক পাচার রোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি তরুণদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে শিক্ষা ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাম্প্রতিক এই অভিযানকে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশা করছে, ধারাবাহিক অভিযান ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সীমান্তপথে মাদক পাচার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত