সর্বশেষ :
মুসলিমদের ঈদের নামাজে বাধা, হিন্দুদের যোগ দিবসে ৭ দিন বন্ধ রেড রোড—ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে নতুন বিতর্ক লিফটকে পুনরায় মূলধনী যন্ত্রপাতি ঘোষণার দাবি বেলিয়ার, শুল্ক কাঠামো যৌক্তিকীকরণের আহ্বান হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ চুক্তিতে কার লাভ হলো—ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্রের? কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন বিতর্ক ওবামা প্রশাসনের বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগ পুনরুজ্জীবিত করলেন ট্রাম্প, ইরানকে ‘ঘুষ’ দেওয়ার দাবি মেসির জাদুতে মুগ্ধ স্কালোনি, অবসরের প্রসঙ্গে আবেগঘন আর্জেন্টিনা কোচ মার্কিন-ইরান সমঝোতার পরও লেবানন ছাড়ছে না ইসরাইল, বাড়ছে নতুন শঙ্কা আইইএলটিএস পরীক্ষার ফলাফলে ভুল, জরিমানার মুখে কেমব্রিজ ইংলিশ বেঁচে থাকাই বড় অর্জন’, তবে ইরানের লাভ আরও গভীর: বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে চলেনি: মির্জা ফখরুল

চুক্তিতে কার লাভ হলো—ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্রের? কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন বিতর্ক

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ৬ বার

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে যে বহুল আলোচিত কূটনৈতিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল, তা আজও আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নটি আরও জোরালো হয়েছে—এই চুক্তিতে আসলে কার লাভ হয়েছে, ইরানের নাকি যুক্তরাষ্ট্রের?

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রশ্নের একক কোনো উত্তর নেই। কারণ চুক্তির লাভ-ক্ষতি নির্ভর করছে দৃষ্টিভঙ্গি, রাজনৈতিক অবস্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর।

চুক্তির পক্ষে থাকা পক্ষগুলো দাবি করে, এই সমঝোতার মাধ্যমে একটি সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছিল। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, তা কূটনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানো হয়।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলো একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে বলে অনেকে মনে করেন। কারণ যুদ্ধ বা সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই একটি জটিল নিরাপত্তা ইস্যুকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল।

অন্যদিকে ইরানের জন্যও এই চুক্তি অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির ব্যাংকিং খাত, তেল রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চুক্তির পর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় ইরান বৈশ্বিক বাজারে আবার কিছুটা প্রবেশাধিকার পায়।

তবে সমালোচকদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান অর্থনৈতিকভাবে সাময়িক স্বস্তি পেলেও দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। বরং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতা আরও কঠোর হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিষয়টি আরও বেশি বিভাজন সৃষ্টি করেছে। রিপাবলিকান শিবিরের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা পেয়েছে, যা তাদের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে সহায়ক হয়েছে। তারা মনে করেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মাধ্যমে ইরানকে অতিরিক্ত সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান ভিন্ন। তাদের মতে, চুক্তিটি ছিল বাস্তববাদী কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ সাময়িকভাবে হলেও রোধ করা গেছে। তাদের যুক্তি, বিকল্প ছিল যুদ্ধ, যা মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারত।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তিকে শুধুমাত্র “লাভ” বা “ক্ষতি” দিয়ে বিচার করা যথেষ্ট নয়। বরং এটি ছিল একটি জটিল ভূরাজনৈতিক সমঝোতা, যেখানে উভয় পক্ষই কিছু না কিছু ছাড় দিয়েছে এবং কিছু সুবিধাও পেয়েছে।

ইরান চুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বস্তি পেলেও তার ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক নজরদারি বহাল থাকে। একই সঙ্গে দেশটির আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা—বিশেষ করে সৌদি আরব ও ইসরাইলের সঙ্গে উত্তেজনা—পুরোপুরি কমেনি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে কূটনৈতিক সাফল্য পেলেও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এবং আঞ্চলিক মিত্রদের আস্থার প্রশ্নের মুখে পড়ে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মিত্র দেশ এই চুক্তিকে সন্দেহের চোখে দেখেছিল।

পরবর্তীতে চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রত্যাহার সেই বিতর্ককে আরও জটিল করে তোলে। এতে করে প্রশ্ন ওঠে—যে চুক্তি থেকে এক পক্ষ বেরিয়ে গেল, সেটি আদৌ কার জন্য বেশি লাভজনক ছিল?

ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এই চুক্তির মাধ্যমে সময় ও অর্থনৈতিক কিছু সুবিধা পেয়েছে, যা তাদের রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পেয়েছে কূটনৈতিক নিয়ন্ত্রণের একটি কাঠামো, যদিও সেটি স্থায়ী হয়নি।

বিশ্লেষকদের আরেকটি অংশ বলছে, এই চুক্তির সবচেয়ে বড় লাভ হতে পারত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবর্তন, আস্থার অভাব এবং পারস্পরিক সন্দেহ সেই সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বলা যায়, এই চুক্তির ফলাফল একপাক্ষিক নয়। বরং এটি একটি “মিশ্র ফলাফল”, যেখানে উভয় পক্ষই আংশিক লাভ ও আংশিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে।

ইরান পেয়েছে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কিছুটা প্রবেশাধিকার। যুক্তরাষ্ট্র পেয়েছে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে একটি জটিল পারমাণবিক সংকট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা।

তবে চুক্তির স্থায়িত্ব ও বাস্তবায়ন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেটিই আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো চুক্তির সফলতা শুধু স্বাক্ষরের ওপর নির্ভর করে না, বরং তার ধারাবাহিক বাস্তবায়নের ওপরও নির্ভরশীল।

সব মিলিয়ে “চুক্তিতে কার লাভ হলো” প্রশ্নটি এখনো একক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি চলমান বিতর্ক, যা ভবিষ্যতের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত