সর্বশেষ :
মুসলিমদের ঈদের নামাজে বাধা, হিন্দুদের যোগ দিবসে ৭ দিন বন্ধ রেড রোড—ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে নতুন বিতর্ক লিফটকে পুনরায় মূলধনী যন্ত্রপাতি ঘোষণার দাবি বেলিয়ার, শুল্ক কাঠামো যৌক্তিকীকরণের আহ্বান হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ চুক্তিতে কার লাভ হলো—ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্রের? কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন বিতর্ক ওবামা প্রশাসনের বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগ পুনরুজ্জীবিত করলেন ট্রাম্প, ইরানকে ‘ঘুষ’ দেওয়ার দাবি মেসির জাদুতে মুগ্ধ স্কালোনি, অবসরের প্রসঙ্গে আবেগঘন আর্জেন্টিনা কোচ মার্কিন-ইরান সমঝোতার পরও লেবানন ছাড়ছে না ইসরাইল, বাড়ছে নতুন শঙ্কা আইইএলটিএস পরীক্ষার ফলাফলে ভুল, জরিমানার মুখে কেমব্রিজ ইংলিশ বেঁচে থাকাই বড় অর্জন’, তবে ইরানের লাভ আরও গভীর: বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে চলেনি: মির্জা ফখরুল

ওবামা প্রশাসনের বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগ পুনরুজ্জীবিত করলেন ট্রাম্প, ইরানকে ‘ঘুষ’ দেওয়ার দাবি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ৫ বার

মার্কিন রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ইরাননীতি। এক সাম্প্রতিক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ওবামা প্রশাসন ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তেহরানকে কার্যত “ঘুষ” দিয়েছিল। ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক, পাশাপাশি মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ককে উসকে দিয়েছে।

এক নির্বাচনী সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, ওবামা প্রশাসন ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়াসে বিপুল অঙ্কের অর্থ ছাড় করেছিল, যা মূলত দেশটির সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা ছিল। তার ভাষায়, এই অর্থ ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছিল।

ট্রাম্প বলেন, “তারা এটিকে কূটনীতি বলেছিল, কিন্তু বাস্তবে এটি ছিল একটি বড় অঙ্কের অর্থ হস্তান্তর। আমি এটিকে ঘুষ ছাড়া অন্য কিছু বলতে পারি না।”

সাবেক প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ওবামা প্রশাসনের ইরান নীতির সমালোচক। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারও করে নেন।

ওই চুক্তি, যা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ (জেসিপিওএ) নামে পরিচিত, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করার বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সুযোগ দেয়। ওবামা প্রশাসন তখন যুক্তি দিয়েছিল, কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণে আনা যুদ্ধের চেয়ে বেশি কার্যকর।

তবে রিপাবলিকান নেতারা বরাবরই দাবি করে আসছেন, এই চুক্তি ইরানের জন্য অত্যধিক সুবিধাজনক ছিল এবং এতে তেহরান উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা পেয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই পুরোনো বিতর্ককেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

ডেমোক্র্যাট নেতারা অবশ্য ট্রাম্পের বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, ইরানকে দেওয়া অর্থ কোনো নতুন সহায়তা ছিল না; বরং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ইরানের নিজস্ব সম্পদ ফেরত দেওয়ার অংশ ছিল। তারা বলছেন, বিষয়টিকে “ঘুষ” হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবতাকে বিকৃত করার শামিল।

পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, এই বিতর্ক মূলত দুই ভিন্ন কূটনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন। একদিকে ওবামা প্রশাসন আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে বিশ্বাস করত, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কৌশলকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান প্রশ্নে মার্কিন রাজনীতিতে বিভাজন নতুন নয়। গত এক দশকে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং নিষেধাজ্ঞা নীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা গেছে।

এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়েছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ইরান ইস্যু আবারও নির্বাচনী আলোচনার বড় বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কিত ইস্যুগুলো বেশি গুরুত্ব পাবে। ট্রাম্প তার প্রচারণায় ওবামা ও ডেমোক্র্যাট প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলোকে আক্রমণের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা দাবি করছেন, কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা ছিল আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তাদের মতে, সেই সময়কার সিদ্ধান্তকে বর্তমান রাজনৈতিক লাভের জন্য ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন কোনো নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত না দিলেও ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দিয়েছে যে, ওবামা যুগের পারমাণবিক চুক্তি এখনো মার্কিন রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি নিয়ে যখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, তখন ট্রাম্পের “ঘুষ” সংক্রান্ত অভিযোগ আবারও পুরোনো বিতর্ককে সামনে এনে দিয়েছে। এর ফলে ইরান ইস্যু আগামী মাসগুলোতে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও বেশি গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত