সর্বশেষ :
মুসলিমদের ঈদের নামাজে বাধা, হিন্দুদের যোগ দিবসে ৭ দিন বন্ধ রেড রোড—ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে নতুন বিতর্ক লিফটকে পুনরায় মূলধনী যন্ত্রপাতি ঘোষণার দাবি বেলিয়ার, শুল্ক কাঠামো যৌক্তিকীকরণের আহ্বান হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ চুক্তিতে কার লাভ হলো—ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্রের? কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন বিতর্ক ওবামা প্রশাসনের বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগ পুনরুজ্জীবিত করলেন ট্রাম্প, ইরানকে ‘ঘুষ’ দেওয়ার দাবি মেসির জাদুতে মুগ্ধ স্কালোনি, অবসরের প্রসঙ্গে আবেগঘন আর্জেন্টিনা কোচ মার্কিন-ইরান সমঝোতার পরও লেবানন ছাড়ছে না ইসরাইল, বাড়ছে নতুন শঙ্কা আইইএলটিএস পরীক্ষার ফলাফলে ভুল, জরিমানার মুখে কেমব্রিজ ইংলিশ বেঁচে থাকাই বড় অর্জন’, তবে ইরানের লাভ আরও গভীর: বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে চলেনি: মির্জা ফখরুল

লিফটকে পুনরায় মূলধনী যন্ত্রপাতি ঘোষণার দাবি বেলিয়ার, শুল্ক কাঠামো যৌক্তিকীকরণের আহ্বান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ২ বার

দেশের লিফট ও এসকেলেটর শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ এলিভেটর ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড অ্যাসেম্বলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলিয়া) লিফটকে পুনরায় “মূলধনী যন্ত্রপাতি” হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা এই খাতের শুল্ক কাঠামো যৌক্তিকীকরণের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে নির্মাণ খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং নিরাপদ উল্লম্ব পরিবহন ব্যবস্থা সহজলভ্য হয়।

সংগঠনটির নেতারা বলছেন, বর্তমানে লিফট আমদানিতে যে শুল্ক কাঠামো বিদ্যমান, তা বাস্তবসম্মত নয় এবং এটি নির্মাণ ও আবাসন খাতের ব্যয় অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাড়াচ্ছে। তাদের মতে, লিফটকে আবার মূলধনী যন্ত্রপাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে আমদানি খরচ কমবে এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বেলিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিফট আধুনিক নগরায়ণের একটি অপরিহার্য অবকাঠামো উপাদান। উচ্চ ভবন, হাসপাতাল, বাণিজ্যিক ভবন এবং সরকারি স্থাপনায় নিরাপদ ও কার্যকর উল্লম্ব পরিবহনের জন্য লিফটের গুরুত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। তাই এটিকে বিলাসপণ্য বা উচ্চ শুল্কের আওতায় না রেখে মূলধনী যন্ত্রপাতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান শুল্ক কাঠামোর কারণে অনেক প্রকল্পে লিফট স্থাপন ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে। এর ফলে নির্মাণ খাতে সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত আবাসনমূল্যেও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে মাঝারি আয়ের মানুষের জন্য ফ্ল্যাট বা বাণিজ্যিক স্পেসের দাম বেড়ে যাচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

বেলিয়ার নেতারা আরও বলেন, উন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশেই লিফটকে অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেখানে শুল্ক ও কর কাঠামো তুলনামূলকভাবে সহজ এবং বিনিয়োগবান্ধব। বাংলাদেশেও একই ধরনের নীতি গ্রহণ করা হলে নির্মাণ খাতে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

সংগঠনটির এক প্রতিনিধি বলেন, “লিফট এখন আর বিলাসপণ্য নয়। এটি নিরাপত্তা ও নগর ব্যবস্থাপনার একটি অপরিহার্য অংশ। হাসপাতাল থেকে শুরু করে বহুতল আবাসিক ভবন পর্যন্ত সর্বত্র এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই নীতিগতভাবে এটিকে মূলধনী যন্ত্রপাতি হিসেবে পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।”

শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণ ঘটছে এবং উচ্চ ভবনের সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে লিফটের চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ছে। কিন্তু শুল্ক ও কর কাঠামো জটিল থাকায় অনেক ক্ষেত্রে মানসম্মত লিফট আমদানি ও স্থাপন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তারা আরও বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত বা উচ্চ শুল্ক কাঠামো কখনো কখনো নিম্নমানের পণ্যের বাজার তৈরি করে, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তাই শুল্ক কাঠামো যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে মানসম্পন্ন পণ্যের প্রবেশ সহজ করা জরুরি।

বেলিয়া দাবি করেছে, লিফট আমদানির ওপর শুল্ক পুনর্বিন্যাস করা হলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে নির্মাণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির লিফট ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে, যা ভবন নিরাপত্তা ও সেবা মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে উল্লম্ব নগরায়ণ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে লিফটের গুরুত্ব কেবল আরামদায়ক চলাচলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জরুরি সেবার অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। বিশেষ করে ফায়ার সেফটি, হাসপাতাল সেবা এবং জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থায় লিফট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুল্ক যৌক্তিকীকরণ হলে স্বল্পমেয়াদে রাজস্বে কিছু পরিবর্তন হলেও দীর্ঘমেয়াদে নির্মাণ খাতে বিনিয়োগ বাড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ অবকাঠামো উন্নয়ন সরাসরি কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ প্রবাহের সঙ্গে যুক্ত।

সরকারি নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বেলিয়া বলেছে, তারা একটি ভারসাম্যপূর্ণ শুল্ক নীতি প্রত্যাশা করে, যেখানে রাজস্ব আহরণ এবং শিল্প উন্নয়ন—উভয় দিক বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন লিফট ব্যবহারের জন্য নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, লিফটকে পুনরায় মূলধনী যন্ত্রপাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং শুল্ক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের দাবি এখন দেশের নির্মাণ ও নগর উন্নয়ন খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিল্প খাতের অংশীজনরা মনে করছেন, সময়োপযোগী নীতি গ্রহণ করা হলে এটি দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত