শিশুদের শিক্ষা-স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ জাতি গঠনের মূল: প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ৪৩ বার

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, মানবিক এবং আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের ভিত্তি তৈরি হয় শৈশবেই। তাই শিশুদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

শনিবার ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। আর সে কারণেই সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, বাস্তবমুখী এবং সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে কেবল পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে একজন শিক্ষার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতা মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। একজন শিশুর নেতৃত্বের গুণাবলি, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সৃজনশীলতা এবং সুস্থ মানসিক বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এসব গুণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য সরকার শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষাখাতের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে পাঠ্যক্রমে ধাপে ধাপে বিভিন্ন খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে এবং সাঁতারকে পাঠ্যক্রমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, খেলাধুলাকে শুধু সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে নয় বরং শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যবহারিক ক্লাস এবং মূল্যায়নের ব্যবস্থাও চালু করা হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা মাঠভিত্তিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হবে এবং সুস্থ জীবনধারার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে।

তিনি বিশ্বাস করেন, এই উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অন্যান্য সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তারের ফলে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মোবাইল ও অনলাইন নির্ভরতা বেড়েছে। খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ তাদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক ভারসাম্য রক্ষায়ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়া চর্চা বাড়াতে এবং নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইতোমধ্যে সরকার এ টুর্নামেন্টের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। সেই নীতিমালার আওতায় দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বালক রয়েছে ৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ জন এবং বালিকা রয়েছে ৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন। এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, এই টুর্নামেন্টে ছেলে ও মেয়েদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে বালক ও বালিকা দল সমানভাবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। নারী ক্রীড়াবিদ তৈরির ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, চলতি বছর সারা দেশে বালক ও বালিকা বিভাগ মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়, শিক্ষার্থী এবং ম্যাচ সংখ্যার বিচারে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্টগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি মননশীলতা গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণে লেখাপড়ার সঙ্গে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর ইতিবাচক ফলও ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের তরুণ ক্রীড়াবিদরা সাফল্য অর্জন করছে এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা অনেক শিক্ষার্থী এই ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে। ভবিষ্যতে তাদের মধ্য থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের তারকা ফুটবলার এবং ক্রীড়াবিদ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আজকের এই ক্ষুদে খেলোয়াড়রাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তারা কেবল খেলাধুলার মাধ্যমে নয় বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। তাই তাদের জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ এবং সম্ভাবনাময় পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ক্রীড়াসুলভ মনোভাব, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং দলগত চেতনার শিক্ষা অর্জন করবে। এসব গুণাবলি ভবিষ্যৎ জীবনে তাদের সফল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে তিনি ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com