বহুল প্রত্যাশিত একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই সড়ক সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং নিয়মিত যাতায়াতকারীরা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির কাজ কয়েক মাস আগে শুরু হলেও এখন পর্যন্ত অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম বলে অভিযোগ উঠেছে। সড়কের বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে রাখা হলেও অনেক স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ বন্ধ বা ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারাধীন সড়কের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও মাটি কেটে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও আংশিক কাজ শেষ করে পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু হয়নি। ফলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে সড়কের বিভিন্ন অংশে কাদা ও পানি জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠেছে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং ক্রেতাদের যাতায়াত কমে গেছে। ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তারা দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী কয়েকজন পরিবহনচালক বলেন, খোঁড়াখুঁড়ি ও অসমাপ্ত কাজের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে রাতে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় যানবাহন চালাতে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু কারিগরি ও প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম, নির্মাণসামগ্রী সরবরাহে বিলম্ব এবং কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজের গতি কিছুটা কমে গেছে।
তবে এলজিইডির দাবি, প্রকল্পের কাজ বন্ধ নেই এবং নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত তদারকিও করা হচ্ছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। এতে পরিবহন ব্যয় কমবে, যাতায়াত সহজ হবে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অবকাঠামো বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে সময়ক্ষেপণ হলে শুধু ব্যয়ই বাড়ে না, সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়মতো তদারকি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণকে নিয়মিত তথ্য জানানো হলে ভুল বোঝাবুঝি কমে এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার ওপরও ইতিবাচক চাপ তৈরি হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও দ্রুত কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা বলেন, জনগণ দীর্ঘদিন ধরে উন্নত সড়কের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করে প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করতে হবে।
এদিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে সড়কটি দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করা হবে। তারা মনে করেন, কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।
সব মিলিয়ে, ২৪ কোটি টাকার এই সড়ক সংস্কার প্রকল্পের ধীরগতির কারণে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হলেও এলজিইডি আশ্বাস দিয়েছে যে চলমান সমস্যাগুলো কাটিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হবে। এখন প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি কতটা বাড়ে, সেটিই দেখার বিষয়।