টাঙ্গাইলে ভাইরাল কৃষক কবির হোসেনের দাফন সম্পন্ন, শেষ বিদায়ে শোকে ভারী জনপদ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ৩৫ বার

টাঙ্গাইলের আলোচিত কৃষক ও কনটেন্ট নির্মাতা কবির হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি কৃষকদের জন্য আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘কৃষক কার্ড’ গ্রহণের সময় দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া এই কৃষকের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বুধবার সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নিজ গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, আত্মীয়-স্বজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। মরহুমের জন্য দোয়া ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে উপস্থিত হন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে নিজ বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন কবির হোসেন। পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, প্রতিবেশী এবং পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

জানাজার আগে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে শোকবার্তা পাঠানো হয়। অনেকেই তাকে একজন পরিশ্রমী কৃষক, সংগ্রামী মানুষ এবং কৃষকদের কণ্ঠস্বর হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মৃত্যুতে কৃষি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কবির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি কৃষি, গ্রামীণ জীবন এবং সাধারণ মানুষের নানা বিষয় তুলে ধরতেন। তার সহজ-সরল উপস্থাপনা এবং অকপট বক্তব্যের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

সম্প্রতি একটি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কৃষকদের পক্ষে তার দেওয়া বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সেই বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ তার সম্পর্কে জানতে শুরু করেন। অনেকেই তাকে সাধারণ কৃষকের প্রতিনিধি হিসেবে দেখেছিলেন।

তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তাকে ঘিরে নানা বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পরিচয় ও পেশা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তার কৃষিকাজের বাস্তবতা যাচাই করেন।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, কবির হোসেন বাস্তবিক অর্থেই কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজ এলাকায় কৃষি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইও করা হয়েছিল।

জানাজায় অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়ার পরও কবির হোসেন তার স্বাভাবিক জীবনযাপন বজায় রেখেছিলেন। গ্রামের মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল আন্তরিক। যে কারণে তার মৃত্যুতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোকের বার্তা দিতে দেখা গেছে অনেককে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার স্মৃতিচারণ করে পোস্ট ও মন্তব্য করেছেন। কেউ তাকে সংগ্রামী কৃষক, কেউ আবার সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কৃষকের পরিচয়ে আলোচনায় আসা একজন মানুষের এমন আকস্মিক মৃত্যু শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার জন্যই একটি বড় ক্ষতি। তারা বলেন, অল্প সময়ে পরিচিতি পেলেও মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন কবির হোসেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন। ভবিষ্যতে কৃষি খাতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনাও ছিল তার। কিন্তু হঠাৎ মৃত্যু সেই সব পরিকল্পনার ইতি টেনে দিল।

জানাজা শেষে উপস্থিত মুসল্লিরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য দোয়া করেন। স্থানীয়দের অনেকেই পরিবারটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

কবির হোসেনের মৃত্যুতে টাঙ্গাইলের গ্রামীণ জনপদে যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে, তা তার জনপ্রিয়তা এবং মানুষের সঙ্গে গভীর সংযোগেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একজন সাধারণ কৃষক থেকে আলোচিত ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠা এই মানুষের বিদায়ে এলাকাবাসী আজ স্মৃতিচারণ আর প্রার্থনায় ব্যস্ত।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত