বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
  • ৭ বার

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সমঝোতার মাধ্যমে দুই দলের পারস্পরিক যোগাযোগ, রাজনৈতিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং জীবনমান উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উভয় পক্ষের নেতারা।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং সৌজন্য সাক্ষাতের প্রেক্ষাপটে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি সামনে আসে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নয়, বরং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের বৃহত্তর পরিসরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিং। বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের নানা বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান লিউ হাইক্সিং। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিশেষভাবে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একাধিক চীন সফরের কথা স্মরণ করেন।

লিউ হাইক্সিং জানান, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে মোট নয়বার চীন সফর করেছিলেন, যা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার চীন সফরের একটি ঐতিহাসিক ছবি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। এই তথ্য উল্লেখ করে তিনি দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক গভীরতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বিষয়টি তুলে ধরেন।

বৈঠকে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রসঙ্গও আলোচনায় আসে। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে রাজনৈতিক যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করার আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে গণমাধ্যম খাত, থিংক ট্যাংক বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই দলের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়ক হবে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করবে।

বৈঠকে চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতি অব্যাহত সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়। লিউ হাইক্সিং বলেন, চীন সবসময় পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চায়। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা উভয় দেশের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বিশেষভাবে চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক বহু বছরের বন্ধুত্ব, আস্থা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সম্পর্কের উত্তরাধিকার ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দুই দেশের জনগণ এর সুফল ভোগ করবে।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ আরও উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ পাবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার পরিধি আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদি আমিন এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার সান হাইয়ান, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক সংলাপ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। বৃহত্তর পরিসরে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রেও এই সমঝোতা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ভবিষ্যতে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত