সর্বশেষ :
বিশ্ববাজারে আরও কমলো স্বর্ণ ও রুপার দাম, বিনিয়োগে নতুন অনিশ্চয়তা ৪ কোটি লিটার ভোজ্যতেল কিনবে সরকার, ব্যয় নিয়ে আলোচনা ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসার লাইসেন্স দেওয়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী মালদ্বীপে রেমিট্যান্স ব্যবস্থায় নতুন উদ্যোগ, স্থানীয় মুদ্রায় পাঠানোর সুযোগ নিয়ে বৈঠক তারেক রহমানের সঙ্গে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা ‘এটা ঘটবেই’: ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পরিদর্শক পাঠানো হবে, জানাল আইএইএ ২৪ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েও হামের টিকা পায়নি অনেক শিশু, উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্যখাতে টাঙ্গাইলে ভাইরাল কৃষক কবির হোসেনের দাফন সম্পন্ন, শেষ বিদায়ে শোকে ভারী জনপদ সঠিক নীতিসহায়তা পেলে রফতানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর সম্ভাবনা: বাণিজ্যমন্ত্রী

১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসার লাইসেন্স দেওয়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ১৮ বার

ব্যবসা শুরু করতে উদ্যোক্তাদের সময় ও জটিলতা কমাতে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, এখন থেকে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসার লাইসেন্স পাওয়া যাবে। প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাজধানীতে আয়োজিত একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। দীর্ঘসূত্রতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সংস্কার বাস্তবায়ন করছে।

মন্ত্রী বলেন, “উদ্যোক্তারা যদি ব্যবসা শুরু করতেই মাসের পর মাস অপেক্ষা করেন, তাহলে বিনিয়োগে আগ্রহ কমে যায়। তাই আমরা এমন ব্যবস্থা করছি যাতে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসার লাইসেন্স প্রদান করা যায়।”

তিনি আরও জানান, লাইসেন্স প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজ করার কাজ চলছে। এতে আবেদন থেকে শুরু করে অনুমোদন পর্যন্ত অধিকাংশ কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। ফলে উদ্যোক্তাদের দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হবে না।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সব ধরনের ব্যবসা নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এতে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং দুর্নীতির সুযোগ কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের জন্য সহজে ব্যবসা শুরু করার সুযোগ তৈরি করা গেলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তবে তারা কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন। তাদের মতে, শুধু ঘোষণা নয়, মাঠপর্যায়ে দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সব দপ্তরের সমন্বয় নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলেন, অনেক সময় লাইসেন্স প্রক্রিয়া বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে। তাই সব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকলে ১৪ দিনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনা হচ্ছে। প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করা হবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ব্যবসা শুরু করার সময় কমে এলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। বিশেষ করে স্টার্টআপ এবং নতুন উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি নিয়মনীতি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে, যাতে অনিয়মের সুযোগ না তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে “সিঙ্গেল উইন্ডো” সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যবসার লাইসেন্স দ্রুত প্রদান করা হয়। বাংলাদেশেও একই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ব্যবসার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে লাইসেন্সিং ছাড়াও কর নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, আমদানি-রপ্তানি অনুমোদনসহ বিভিন্ন সেবা একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে উদ্যোক্তারা এক জায়গা থেকেই সব সেবা পাবেন।

সব মিলিয়ে, ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসার লাইসেন্স প্রদান করার ঘোষণা দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে প্রশাসনিক দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তঃদপ্তর সমন্বয়ের ওপর।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত