তারেক-চীন বৈঠকে সম্পর্কের নতুন দিগন্তের বার্তা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
  • ৬৭ বার

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিং। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, রাজনৈতিক যোগাযোগ, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠক আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

বৈঠকের শুরুতেই লিউ হাইক্সিং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন এবং বিশেষভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চীন সফরগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি জানান, বেগম খালেদা জিয়া নয়বার চীন সফর করেছিলেন এবং ২০০১ সালে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ সফরের স্মৃতিচিত্র চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। এ তথ্য উল্লেখ করে তিনি দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেন।

চীনা মন্ত্রী বিএনপি এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-এর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিদ্যমান যোগাযোগ ও সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গণমাধ্যম, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা থিংক ট্যাংক, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচন, জীবনমান উন্নয়ন এবং উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

লিউ হাইক্সিং আরও বলেন, চীন সবসময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও এই সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন এবং অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাতে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বিশেষভাবে চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন এবং এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক বহু দশকের আস্থা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই সম্পর্কের উত্তরাধিকার বা লিগ্যাসি ভবিষ্যতেও অক্ষুণ্ন থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় আসে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি হিসেবে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে চীনও তার বৈশ্বিক উন্নয়ন সহযোগিতা ও বিনিয়োগ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ আরও উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ লাভ করবে বলে তারা আশাবাদী। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই বৈঠক শুধু একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং এটি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, বন্দর উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদি আমিন এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার সান হাইয়ান, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

কূটনৈতিক মহলের মতে, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। দুই দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে আগামী দিনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com