সর্বশেষ :

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনায় আশা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ৬৭ বার
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনায় আশা

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিরোধীদলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোবে।

সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলের নেতা এ প্রত্যাশার কথা জানান। তিনি বলেন, তিস্তা অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আশা ও দাবির সঙ্গে এই মহাপরিকল্পনা জড়িত। তাই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী তিস্তা। দীর্ঘদিন ধরে নদীটির পানি প্রবাহ, ভাঙন, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষাকালে বন্যা পরিস্থিতি স্থানীয় মানুষের জীবন ও কৃষির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো নদী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব সমস্যা মোকাবিলা করা এবং নদীকে ঘিরে একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো তৈরি করা।

বিরোধীদলের নেতা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি আশা করেন, আলোচনার ধারাবাহিকতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাস্তব অগ্রগতি দেখা যাবে।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় সংসদের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, এই সংসদ যেন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটায়। জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি বলেন, এ সংসদ মজলুম মানুষের সংসদ। তাই সংসদে এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যা সাধারণ মানুষকে আহত করে। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্পর্ক নিয়েও নিজের মত তুলে ধরেন বিরোধীদলের নেতা। তিনি বলেন, সরকারি দলের মধ্যে বিরোধী দলকে সম্মান করার মানসিকতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে বিরোধী দলকেও দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারকে সহযোগিতা করার মানসিকতা রাখতে হবে।

তার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের কল্যাণে গঠনমূলক সমালোচনা এবং সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাজেট প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অতীতে সংসদ অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি তোষামোদির সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত ছিল। ভবিষ্যতে সেই ধরনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের প্রকৃত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি জনগণের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তাই বাজেটের মাধ্যমে কোথাও জনগণের ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা বিরোধী দল দায়িত্বশীলভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়েও সংসদে বক্তব্য দেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাজেটে পাচার হওয়া অর্থ কীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে বাইরে চলে গেছে। এসব অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে দেশের অর্থনৈতিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে এবং বাজেট ঘাটতির ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তবে শুধু অর্থ ফেরত আনাই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা দেশের অর্থ পাচার করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অর্থনৈতিক অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধীদলের নেতা। তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। সাধারণ মানুষ যাতে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পায়, সে জন্য স্বাস্থ্য খাতে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

তার মতে, একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে হয় না; মানুষের মৌলিক অধিকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উন্নয়ন, নৌ যোগাযোগ এবং নদীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আবার বর্ষায় অতিরিক্ত পানির কারণে বন্যা ও নদীভাঙনের সমস্যা দেখা দেয়। একটি সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব সমস্যা কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

চীনের সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার বিষয়টি এ অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত। অবকাঠামো উন্নয়ন, নদী ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে যেকোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সংসদে বিরোধীদলের নেতার বক্তব্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন ও জনকল্যাণমূলক খাতগুলো নিয়েও বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। তিনি সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি জনগণের স্বার্থে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সহযোগিতামূলক ভূমিকা থাকলে তা দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার মতো দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের সফলতা নির্ভর করবে পরিকল্পনা, অর্থায়ন, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com