করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ৮ বার
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রস্তাবিত বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে ব্যক্তিগত করদাতাদের স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন এবং সম্পত্তির নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব কিছু ক্ষেত্রে শিথিল বা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছেন তিনি।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব প্রস্তাব দেন। বাজেটকে আরও করদাতাবান্ধব, স্বচ্ছ ও জনমুখী করার লক্ষ্যে কয়েকটি ক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, সাধারণত করসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি বিরোধী দলের পক্ষ থেকেই আসে। তবে এবার তিনি মানসিকভাবে বিরোধী দলের পাশে দাঁড়িয়ে করদাতাদের স্বস্তির বিষয়গুলো তুলে ধরতে চান।

প্রস্তাবিত বাজেটে বর্তমানে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে এই সীমা ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

তবে সাধারণ করদাতাদের ওপর চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রী এই সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতায় করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হলে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে কর ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও বাড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটে স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শনসংক্রান্ত বিধান নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, জমি প্রকৃত মূল্যে নিবন্ধন না হওয়ার কারণে করদাতাদের হয়রানি কমানোর উদ্দেশ্যে এ ধরনের বিধান আনা হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, অনেকে এটিকে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাই এই বিধান প্রত্যাহারের জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

এ ছাড়া করের আওতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন এবং সম্পত্তি নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব নিয়েও আপত্তি জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই বাধ্যবাধকতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ফলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বর্তমান সময়ে কর ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর আদায়ের পাশাপাশি করদাতাদের সেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করা সম্ভব।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত কর নিয়েও সংসদে প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর যে ১০ শতাংশ কর রয়েছে, তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন তিনি।

তবে কর সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তের কথা উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, কর কমানোর সুবিধার বিনিময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণ, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব প্রতিষ্ঠা এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা বেতনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে।

তারেক রহমানের মতে, শিক্ষা খাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই কর সুবিধাকে শুধু আর্থিক সুবিধা হিসেবে না দেখে গবেষণা, উদ্ভাবন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।

পার্বত্য ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য কর সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে পার্বত্য এলাকায় পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয়ের করমুক্ত সুবিধার পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বেতনভুক্ত আয়ের ক্ষেত্রেও করমুক্ত সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি।

এ ছাড়া দেশের চিংড়ি শিল্পের বিকাশ ও রপ্তানি বাড়াতে বিভিন্ন উপকরণের ওপর আরোপিত শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। চিংড়ি চাষে ব্যবহৃত ফিড অ্যাডিটিভ, প্রোবায়োটিকস, ভিটামিন, মিনারেলস এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে কর সুবিধার কথা তুলে ধরেন তিনি।

স্থানীয় শিল্পের বিকাশের জন্য বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। ওষুধ ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত মধু আমদানির ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের পাশাপাশি পিইটি রেজিন, পিভিসি, কোল্ড-রোলড শিটসহ বিভিন্ন শিল্প কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন তিনি।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা শেষে তা পাস হওয়ার কথা রয়েছে।

সংসদে বাজেট আলোচনার সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক এবং করদাতাবান্ধব করতে কাজ করছে। রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমানোও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজেট পাসের আগে প্রধানমন্ত্রীর এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ব্যক্তিগত করদাতা, ব্যবসায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন শিল্প খাতে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। তবে এসব পরিবর্তনের আর্থিক প্রভাব এবং রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে এর সামঞ্জস্য বজায় রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত