কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ৬০ বার
কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পাঁচটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পাশাপাশি পৃথক দুটি অভিযোগে তাকে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অপর পাঁচটি অভিযোগে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এ রায় ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। মামলার শুনানি চলাকালে নিহতদের পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনাল মামলার বিভিন্ন তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত সহিংসতায় ছয়জন নিহত হন। এসব ঘটনায় হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ ছিল, ওই সময় হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা, উসকানি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা ছিল।

ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের মার্চ মাসে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরে ৩০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বিচার চলাকালে নিহতদের পরিবারের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী এবং তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের জবানবন্দি, নথিপত্র ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে গত ১৩ মে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ ইনুর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় কঠোর শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগগুলো অস্বীকার করে তাকে খালাস দেওয়ার আবেদন করেন।

হাসানুল হক ইনু বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি জাসদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময় মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তবে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ওঠে। এই মামলার বিচারকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার পরিচালনা করেছে। এসব মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের দায় নির্ধারণ করা হয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ প্রমাণের জন্য শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ। ইনুর মামলার রায়েও ট্রাইব্যুনাল অভিযোগভিত্তিক প্রমাণ বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার পর মামলার বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহতের ঘটনা জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংস ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। নিহতদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করে আসছিল। ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের মাধ্যমে সেই বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো।

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে সংঘটিত সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো নিয়ে যে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় হাসানুল হক ইনুর মামলার রায়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com