রামমন্দির অর্থ কাণ্ডে যোগী সরকারকে ওয়াইসির কটাক্ষ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ২৩ বার
রামমন্দির অর্থ কাণ্ডে যোগী সরকারকে ওয়াইসির কটাক্ষ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রামমন্দির নির্মাণের জন্য ভক্তদের দেওয়া বিপুল অঙ্কের অনুদানের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। অভিযোগ, মন্দির নির্মাণ তহবিলের কোটি কোটি রুপির হিসাব নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য সরকার ও মন্দির ট্রাস্টের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা। এরই মধ্যে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান ও হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ করেছেন।

বিজনৌর জেলায় এক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ওয়াইসি বলেন, রামমন্দির ট্রাস্টে যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জড়িত থাকতেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে সরকারের প্রতিক্রিয়া অনেক কঠোর হতো। তিনি দাবি করেন, এমন পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তিকে ‘এনকাউন্টার’ এবং তার বাড়ি ‘বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া’ হতে পারত।

ওয়াইসির এই মন্তব্য মূলত উত্তর প্রদেশ সরকারের আইন প্রয়োগের ধরন নিয়ে তার দীর্ঘদিনের অভিযোগের অংশ। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নজির থাকলেও রামমন্দির অনুদানের অর্থ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একই ধরনের দ্রুত পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, মন্দির ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরও তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে এবং তদন্তে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

রামমন্দির অনুদান কাণ্ডের সূত্রপাত হয় সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের উত্থাপিত প্রশ্নের মধ্য দিয়ে। পরে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয় এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে কয়েকটি স্থানে তল্লাশি চালানো হয় এবং কিছু নগদ অর্থ উদ্ধারের কথা জানানো হয়। পাশাপাশি মন্দিরের কর্মী, হিসাব সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

অযোধ্যার বিতর্কিত জমি নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি গঠন করা হয় শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। রামমন্দির নির্মাণ, অর্থ সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয় এই ট্রাস্টকে। পরবর্তীতে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্ত মন্দির নির্মাণে অর্থ, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য সম্পদ দান করেন।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রামমন্দির উদ্বোধন করেন। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প ঘিরে মানুষের আবেগ ও প্রত্যাশা ছিল ব্যাপক। ফলে অনুদানের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো অভিযোগ সামনে আসায় তা দ্রুত জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় উঠে আসে।

অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাস্টের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের পদত্যাগের খবর রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি করে। পরে ট্রাস্টি অনিল মিশ্রও পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে জানা যায়।

তবে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে জানানো হয়েছে। উত্তর প্রদেশ সরকারও জানিয়েছে, জনসাধারণের বিশ্বাস ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার মতো কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, মানুষের আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার জানিয়েছে, তদন্ত নিরপেক্ষভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্দিরের হিসাব-নিকাশে কয়েক কোটি রুপির অমিলের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত কয়েকজনের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এবং অভিযোগের পেছনে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলগুলো বলছে, ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন পক্ষের দাবি, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

রামমন্দির ভারতের কোটি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। তাই এর নির্মাণ তহবিল নিয়ে ওঠা যেকোনো অভিযোগ শুধু আর্থিক অনিয়মের বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এটি জনবিশ্বাস, স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

ওয়াইসির বক্তব্য সেই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। এখন সবার নজর তদন্তের পরবর্তী ধাপ এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণের দিকে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা কতটা কঠোর হয় এবং মন্দির ট্রাস্টের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটিই হবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত