প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ক্যাম্পাস আজ নতুন প্রাণের স্পন্দনে মুখরিত হওয়ার অপেক্ষায়। প্রকৌশলবিদ্যার এই বিদ্যাপীঠে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া মেধাবী নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নবীন শিক্ষার্থীদের অরিয়েন্টেশন বা পরিচিতি পর্ব। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাদের পদার্পণ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। দীর্ঘ প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার বাধা পেরিয়ে যারা চুয়েটের আঙিনায় পা রাখার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের জন্য এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিকতার নয়, বরং জীবনের নতুন এক স্বপ্নযাত্রার সূচনালগ্ন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অরিয়েন্টেশনের পর আগামী রোববার থেকেই এই নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম বা ক্লাস শুরু হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দুই পর্বে বিভক্ত করা হয়েছে। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া প্রথম পর্বে থাকছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের নতুন শিক্ষার্থীরা। এই পর্বে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল, জৈব চিকিৎসা কৌশল এবং ইলেকট্রনিকস ও টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তিকৃত নবীনরা অংশগ্রহণ করবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব, যেখানে পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, পানিসম্পদ কৌশল, মেকাট্রনিক্স ও শিল্প প্রকৌশল, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়ালস ও মেটালার্জিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা যোগ দেবেন। কেন্দ্রীয় এই অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের পর প্রতিটি শিক্ষার্থী তাদের নিজস্ব বিভাগে পরিচিতি ও দিকনির্দেশনামূলক সভায় অংশ নেবেন, যা তাদের একাডেমিক জীবনের পথচলা সহজ করে দেবে।
এই বিশেষ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের। তার উপস্থিতি নবীন প্রকৌশলীদের জন্য বড় ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া। এছাড়া সভাপতিত্ব করবেন ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম। চুয়েটের বিভিন্ন অনুষদের ডিনসহ ঊর্ধ্বতন শিক্ষকরা এই মিলনমেলায় উপস্থিত থেকে নবীনদের উৎসাহ দেবেন। বিশেষ করে ডিনদের পরামর্শ নবীনদের প্রকৌশলী হওয়ার দীর্ঘ পথচলায় দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
এবারের অরিয়েন্টেশন আয়োজনের একটি বিশেষ দিক হলো এর স্থান নির্বাচন। আবহাওয়া অনিশ্চয়তার বিষয়টি মাথায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবার খোলা মাঠের পরিবর্তে সুপরিসর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। স্থানসংকুলান ও শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনা করেই দুই ধাপে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে এবং নবীনদের বরণ করে নিতে পুরো ক্যাম্পাস সেজেছে নতুন সাজে। শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হলের আনুষ্ঠানিকতা নিয়েও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, অরিয়েন্টেশনের সকল কার্যক্রম শেষ করে দুপুর আড়াইটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ আবাসিক হলে রিপোর্ট করতে হবে। হলগুলোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করার মাধ্যমে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে পথচলা শুরু হবে।
চুয়েটের এই নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মেধার লড়াইয়ে বিজয়ী ৯৩১ জন শিক্ষার্থী এবার চুয়েটের বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন। এই শিক্ষার্থীদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন, তাদের জন্য চুয়েট ক্যাম্পাসটি এখন নতুন এক পরিবারের মতো। ক্যাম্পাসের সবুজ প্রকৃতি, আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং সমৃদ্ধ লাইব্রেরি তাদের আগামীর দক্ষ প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্নকে আরও গতিশীল করবে। অরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে তারা কেবল বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নয়, বরং প্রকৌশলী হিসেবে দেশ গড়ার যে দায়িত্ব তাদের কাঁধে বর্তাবে, তার প্রাথমিক পাঠও গ্রহণ করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেবল পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান আহরণের মাধ্যম নয়, এটি ব্যক্তিত্ব গঠন ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনেরও সেরা সময়। চুয়েট বরাবরই প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখে আসছে। এই নবীনরা ভবিষ্যতে তাদের উদ্ভাবনী শক্তি ও মেধা দিয়ে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার। অরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতি, ঐতিহ্য এবং গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়া সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সান্নিধ্যে তারা ক্যাম্পাসের সংস্কৃতি ও ক্লাব কার্যক্রমের সাথেও পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
পরিশেষে বলা যায়, চুয়েটের নবীনবরণ কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি তরুণদের চোখে হাজারো স্বপ্নের নতুন রঙ লাগানোর মাহেন্দ্রক্ষণ। আগামীকাল যখন ক্যাম্পাস নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে, তখন থেকেই শুরু হবে এক নতুন চ্যালেঞ্জের। রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া নিয়মিত ক্লাস তাদের প্রকৌশলবিদ্যার গভীর সমুদ্রে ডুব দেওয়ার সুযোগ করে দেবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। আমরা আশা করি, চুয়েটের এই নবীনরা তাদের মেধা, দক্ষতা ও সততা দিয়ে আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তাদের জন্য রইল শুভকামনা ও আগাম অভিনন্দন।