অর্থনীতি পুনরুদ্ধার নয়, বাজেট সংকট আরও বাড়াবে: এবি পার্টি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ বার
অর্থনীতি পুনরুদ্ধার নয়, বাজেট সংকট আরও বাড়াবে: এবি পার্টি

প্রকাশ: ০১ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দর্শনের অপেক্ষায় ছিল দেশবাসী। স্বৈরাচারী পতনের পর যে সংস্কারের স্বপ্ন সাধারণ মানুষ দেখেছিল, বর্তমান সরকার ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সেই প্রত্যাশাকে কতটা পূরণ করতে পেরেছে, তা নিয়ে এখন জনমনে দেখা দিয়েছে গভীর সংশয়। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) সরাসরি অভিযোগ করেছে যে, বর্তমান বাজেট কেবল অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থই নয়, বরং এটি বিদ্যমান সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করবে। বাজেট পাস হওয়ার পরপরই দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই বাজেটে জনগণের প্রত্যাশা ও জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার কোনো স্পষ্ট প্রতিফলন নেই। তিনি দাবি করেছেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলে যে ভ্রান্ত অর্থনৈতিক কাঠামো এবং অকার্যকর পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র চালানো হতো, বর্তমান বাজেট মূলত তারই একটি ধারাবাহিকতা। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, জনগণের ওপর ঋণের বোঝা কমানো বা করের চাপ হ্রাস করার পরিবর্তে সরকার যে পথ বেছে নিয়েছে, তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, বৈষম্য এবং দুর্নীতি—এই চার প্রধান শত্রুকে মোকাবিলায় বাজেটে যে কার্যকর রূপরেখার প্রয়োজন ছিল, তা চরমভাবে অনুপস্থিত।

অর্থনীতিবিদ ও পর্যবেক্ষকদের একাংশও এবি পার্টির এই দাবির সাথে একমত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, বাজেটটি উৎপাদন ও বিনিয়োগমুখী না হয়ে মূলত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাকেই বড় করে দেখেছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রশাসনিক সংস্কার এবং অর্থপাচার রোধে যে বলিষ্ঠ পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল, বাজেটে তার কোনো প্রতিফলন নেই। জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল লুটপাট ও গোষ্ঠীস্বার্থনির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থার অবসান ঘটানো। অথচ এবি পার্টির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাজেটটি সেই অঙ্গীকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা মনে করেন, এটি একটি গতানুগতিক বাজেট, যা অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার চেয়ে বরং মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেবে।

এবি পার্টি বাজেট ঘোষণার প্রাথমিক পর্যায়েই এটি পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছিল। বাস্তব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন, রাষ্ট্রীয় অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক জনকল্যাণমুখী বাজেট তৈরির দাবি তারা আগেই জানিয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত বাজেটে সেসব গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশের প্রতিফলন না ঘটায় হতাশা প্রকাশ করেছে দলটি। তাদের মতে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিবর্তে জনগণের ওপর যে নতুন করে করের বোঝা চাপানো হয়েছে, তা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের জন্য চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। দেশের অর্থনীতি যখন অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন এই ধরনের বাজেট অদূরদর্শী বলে দাবি তাদের।

জুলাই মাসের সেই উত্তাল দিনগুলোতে সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে লড়াই করেছিল, তার পেছনে বড় একটি কারণ ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এবি পার্টির মতে, সেই আকাঙ্ক্ষার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি। যদি বাজেটেই তার প্রতিফলন না ঘটে, তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো অসম্ভব। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও পুরনো ধারার অর্থনৈতিক নীতি বজায় রেখে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। বিশেষ করে যখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বাজারের অস্থিরতা নিয়ে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন, তখন এই বাজেট বাজার নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন থেকেই যায়।

দলের নেতারা আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে যদি সত্যিকার অর্থেই পুনরুদ্ধারের পথে নিতে হয়, তবে আমূল কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন। রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ছাড়া কেবল করের হার বাড়িয়ে বাজেট ভারসাম্য রক্ষা করা যাবে না। তারা মনে করেন, সরকার যদি এখনো সময় থাকতে এই বাজেটের সীমাবদ্ধতাগুলো স্বীকার করে এবং সংশোধনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ না করে, তবে অর্থনৈতিক সংকটটি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেবে। বিশেষ করে বেকারত্ব দূরীকরণে নতুন কোনো আশার বাণী এই বাজেটে নেই, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হতাশা তৈরি করবে।

সবশেষে, এবি পার্টির দেওয়া এই প্রতিক্রিয়া কেবল রাজনৈতিক বিরোধিতার অংশ নয়, বরং এটি একটি নাগরিক দৃষ্টিভঙ্গি। বাজেট যদি জনগণের না হয়, তবে সেই বাজেট উন্নয়ন নিয়ে এলেও তার সুফল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই থেকে যায়। এখন দেখার বিষয়, সরকার সমালোচনার এই জায়গাগুলোকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে কি না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করতে হলে অর্থনৈতিক দর্শনে যে পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল, তা আগামী দিনে সরকার কীভাবে সমন্বয় করে, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্য অর্জনে অর্থনীতিই মূল চালিকাশক্তি, আর সেখানেই যদি ঘাটতি থেকে যায়, তবে সমৃদ্ধ আগামীর স্বপ্ন ধূলিসাৎ হতে বাধ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত