দাতব্য কাজে ২৬ মিলিয়ন ডলার দান করলেন টেইলর ও ট্র্যাভিস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৬ বার
দাতব্য কাজে ২৬ মিলিয়ন ডলার দান করলেন টেইলর ও ট্র্যাভিস

প্রকাশ: ০৩ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বের বিনোদন ও ক্রীড়া জগতের অন্যতম আলোচিত জুটি টেইলর সুইফট ও ট্র্যাভিস কেলসি। তাদের প্রেম, ব্যক্তিগত জীবন এবং সম্ভাব্য বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে যখন ভক্তরা উত্তাল, ঠিক তখনই এই তারকা জুটি মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় তারা সম্মিলিতভাবে ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই বিশাল অংকের দান কেবল তাদের উদারতাকেই তুলে ধরে না, বরং অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তারা যে কতটা সংবেদনশীল, তাও প্রমাণ করে। এই সপ্তাহের শুরুতেই তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে জানানো হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত বিশটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে এই অনুদান পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

যদিও বিয়ের গুঞ্জনের মাঝেই এই দানকে অনেকেই তাদের ব্যক্তিগত উদযাপনের অংশ হিসেবে দেখছেন, তবুও এই অনুদান দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। অনুদানের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা না হলেও, কয়েকটি বড় সংস্থা তাদের প্রাপ্তি স্বীকার করেছে। নিউ ইয়র্কভিত্তিক খাদ্য সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘সিটি হারভেস্ট’ জানিয়েছে, তারা এই জুটির কাছ থেকে এক মিলিয়ন বা দশ লাখ ডলার অনুদান পেয়েছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী জিলি স্টিফেনস অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে জানান যে, এই মুহূর্তে যখন ফেডারেল তহবিল হ্রাসের কারণে শহরের অসংখ্য ফুড প্যান্ট্রিতে মানুষের ভিড় বাড়ছে, তখন এই অনুদান তাদের সেবাকার্যক্রমকে সচল রাখতে এবং হাজারো মানুষের মুখে অন্ন জোগাতে অপরিহার্য ভূমিকা রাখবে।

একইভাবে রোড আইল্যান্ড কমিউনিটি ফুড ব্যাংকও নিশ্চিত করেছে যে, তারাও টেইলর ও ট্র্যাভিসের কাছ থেকে এক মিলিয়ন ডলারের অনুদান পেয়েছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী মেলিসা চেরনি বলেন, এই অর্থ কেবল কিছু সংখ্যার সমষ্টি নয়, এটি অসংখ্য মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা। তাদের এই মহতী উদ্যোগ অন্যান্য বিত্তবানদেরও জনকল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। টেইলর সুইফট বরাবরই তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথ চলায় মানবিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। তার অভাবনীয় জনপ্রিয় সফর ‘এরাস ট্যুর’ চলাকালেও তিনি যেসব শহরে সফর করেছেন, সেসব শহরের ফুড ব্যাংকগুলোতে উদারহস্তে অনুদান দিয়ে অনন্য নজির সৃষ্টি করেছিলেন।

পপ সম্রাজ্ঞী টেইলর সুইফট কেবল একজন সংগীতশিল্পী নন, তিনি আর্তমানবতার সেবায় সবসময়ই অগ্রগামী। এর আগেও তিনি প্রাণী উদ্ধার সংস্থা, হারিকেন ও টর্নেডোয় দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানল ত্রাণ থেকে শুরু করে শিশু হাসপাতাল এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত ভক্তদের চিকিৎসার জন্য তিনি নিয়মিত বিশাল অংকের অর্থ সাহায্য করে আসছেন। ট্র্যাভিস কেলসির সাথে সম্পর্কের শুরুর পর থেকেই তাদের এই মানবিক কার্যক্রম আরও গতি পেয়েছে। ক্রীড়া জগতের তারকা ট্র্যাভিসও তার নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করে আসছেন। তাদের এই জুটির সমন্বিত উদ্যোগ যেন এখন সাধারণ মানুষের কাছে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এদিকে তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের ঘোষণা এখনো আসেনি, তবুও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, এই সপ্তাহান্তেই নিউ ইয়র্কে হয়তো পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হতে পারেন এই আলোচিত জুটি। বৃহস্পতিবার একটি রিহার্সাল ডিনার এবং শুক্রবার মূল বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা বাতাসে ভাসছে। এই গুঞ্জনের সত্যতা সময় বলে দেবে, তবে বিয়ের প্রস্তুতির এই ব্যস্ততার মধ্যেও তারা ২৬ মিলিয়ন ডলারের মতো বড় অংকের অনুদান দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ব্যক্তিগত জীবনের চেয়েও সামষ্টিক মানুষের কল্যাণে তাদের গুরুত্ব অনেক বেশি। এই দাতব্য উদ্যোগটি তাদের বিয়ের গুঞ্জনের আমেজকে আরও মানবিক ও মহিমান্বিত করে তুলেছে।

বিনোদনের ঝলমলে পৃথিবীতে থেকে মানুষের কষ্টের কথা অনুভব করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। কিন্তু টেইলর সুইফট ও ট্র্যাভিস কেলসি তাদের অবস্থানের সর্বোচ্চ চূড়ায় থেকেও মাটির মানুষগুলোর কথা ভোলেননি। এই বিশাল অংকের দান কেবল বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নয়, বরং এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদী জনকল্যাণমূলক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। তাদের এই অনুদান অসংখ্য ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে এবং শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো দারিদ্র্যকে কিছুটা হলেও লাঘব করবে। বিশ্বব্যাপী টেইলরের কোটি কোটি ভক্তের কাছে এই মানবিক কর্মকাণ্ড তাকে একজন আদর্শ তারকা হিসেবে আরও উঁচুতে স্থান দিয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, টেইলর ও ট্র্যাভিসের এই বিশাল দান শুধু অর্থবিনিময় নয়, বরং এটি এক গভীর মানবিক বার্তা। তারা প্রমাণ করেছেন যে, মানুষের অর্জিত সাফল্য যদি মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা না হয়, তবে সেই সাফল্যের পূর্ণতা আসে না। তাদের এই পথচলা যেন সব তারকাদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মহৎ প্রয়াস তাদের সম্পর্কের ভিত্তি আরও মজবুত করবে এবং তাদের ভক্তদের মনেও এক গভীর শ্রদ্ধার জায়গা তৈরি করবে। বিয়ের গুঞ্জনের মাঝেই মানবিকতার এমন অনন্য উদযাপন সত্যিই বিরল। আমরা আশা করি, তাদের এই মানবিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং তারা একইভাবে মানুষের প্রয়োজনে সবসময় পাশে থাকবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত