রংপুরের হিন্দুপল্লীতে সহিংস হামলা: গ্রেপ্তার ৫, সেনা-পুলিশের নজরদারিতে চলছে পুনর্গঠন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৯ বার

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্মীয় সহিংসতার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ কেন্দ্র করে ওই হিন্দু পল্লীতে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট এবং পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ।

পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ বুধবার নিশ্চিত করেছে যে, যৌথ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে সোমবার রাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দা দেবেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে শ্রী রবীন্দ্রনাথ রায় (৫৫) অজ্ঞাতনামা এক হাজার থেকে এক হাজার দুইশ ব্যক্তির বিরুদ্ধে গংগাচড়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি রুজু হয় ৩৫ নম্বর হিসেবে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত রোববার সন্ধ্যায়, যখন ধর্মীয় কটূক্তি ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতা কয়েকটি হিন্দু পরিবারের ঘরবাড়িতে হামলা চালায় এবং কিছু ক্ষেত্রে লুটপাটের অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ এবং র‌্যাব সদস্যদের। পরদিন থেকেই শুরু হয় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়িগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম।

গংগাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “ঘটনার পরপরই প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের ঘরবাড়ি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রম তদারকি করছে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল ও পুলিশ সদস্যরা।”

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়িগুলো পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রিতি বজায় রাখতে প্রশাসন স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ঘটনার পেছনে কারা দায়ী, তাদের সঠিক পরিচয় এবং উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, দোষীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তারা এ-ও মনে করছেন, ধর্মীয় অনুভূতিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা বাংলাদেশের বহুসাংস্কৃতিক ও সহনশীল সমাজ ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা এই ঘটনার বিচার ও দায়ীদের যথোপযুক্ত শাস্তির পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি যেন আর না ঘটে, সেজন্য ধর্মীয় সচেতনতা ও সামাজিক সংলাপ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।

এই ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ানোর বিষয়টিও। প্রশাসন জানিয়েছে, এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনের সক্রিয়তা, সেনাবাহিনী-পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় রংপুরের আলদাদপুর গ্রামে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পথে। তবে সম্প্রতি দেশে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ঘিরে উদ্ভূত বিভিন্ন সহিংস ঘটনার আলোকে বিষয়টিকে প্রশাসন ও পর্যবেক্ষকরা একটি সতর্ক সংকেত হিসেবেই বিবেচনা করছেন।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত