ঢাকাসহ ১৩ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৩ বার

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রোববার (১২ জুলাই) দুপুরের আগেই ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্তত ১৩টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর রোববার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানায়। সংস্থাটি বলেছে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাব এবং বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বল্প সময়ের জন্য ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তাই নদীপথে চলাচলকারী নৌযান, জেলে এবং সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সতর্কবার্তা অনুযায়ী, রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার কোথাও কোথাও বজ্রপাতসহ মাঝারি ধরনের বৃষ্টিও হতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্ষাকালে এমন আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা অস্বাভাবিক নয়। তবে বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় খোলা মাঠ, নদী কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থানকারীদের বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে কৃষিকাজে নিয়োজিত ব্যক্তি, জেলে, মাঝি এবং নৌযানচালকদের আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেতের অর্থ হলো, আবহাওয়ার সাময়িক অবনতি হতে পারে এবং দমকা হাওয়া বা বজ্রবৃষ্টির কারণে নৌযান চলাচলে সতর্কতা প্রয়োজন। যদিও এটি বড় ধরনের দুর্যোগ সংকেত নয়, তবুও ছোট নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারকে বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে মেঘের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দিনের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে বজ্রমেঘ সৃষ্টি হওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে কোনো কোনো এলাকায় তীব্র দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে দুপুরের আগে এবং বিকেলের দিকে এমন পরিস্থিতি বেশি দেখা দিতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন।

রাজধানী ঢাকাসহ মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় সকাল থেকেই আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। দিনের বিভিন্ন সময়ে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই ধরনের আবহাওয়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলাতেও বিরাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া, খোলা মাঠে অবস্থান করা কিংবা মোবাইল টাওয়ার বা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছাকাছি থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বজ্রপাত শুরু হলে নিরাপদ ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে চলাচল এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।

অন্যদিকে ঝড়ো হাওয়ার কারণে নদীপথে ঢেউয়ের উচ্চতা সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এ কারণে ছোট নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকাতেও স্থানীয় প্রশাসনকে আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে নতুন সতর্কবার্তা বা পূর্বাভাস প্রকাশ করা হবে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশে প্রায়ই স্থানীয়ভাবে বজ্রঝড়ের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে দিনের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে এমন আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে স্বাভাবিক কাজের পাশাপাশি যাতায়াত ও নৌপথ ব্যবহারকারীদের আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য জেনে পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com