প্রকাশ: ০১ আগস্ট ‘ ২০২৫ ।একটি বাংলাদেশ ডেস্ক ।একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক তরুণ প্রকৌশলী এবং আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। যাত্রী ওঠানামার জন্য ব্যবহৃত বোর্ডিং ব্রিজের চাকা পরিবর্তনের সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে, যা গোটা বিমানবন্দরকেই শোক ও আতঙ্কে আচ্ছন্ন করে এবং বিমানবন্দরে রক্ষণাবেক্ষণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে।
নিহত ব্যক্তির নাম রুম্মান আহমেদ, বয়স ২২ বছর। তিনি সিলেট নগরীর বিমানবন্দর থানাধীন তিলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। আহত অপর প্রকৌশলী এনামুলের বয়স ২৫ বছর এবং তিনি একই থানাধীন মহালদিগ গ্রামের বাসিন্দা। উভয়েই ছয়জনের একটি টেকনিক্যাল দলের সদস্য ছিলেন, যারা বোর্ডিং ব্রিজের চাকা রুটিন রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে প্রতিস্থাপন করছিলেন।
বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, ‘দুপুর নাগাদ বোর্ডিং ব্রিজের একটি চাকা খুলতে গিয়ে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। সম্ভবত ভুলভাবে হ্যান্ডলিং করায় বা চাকা স্লট থেকে সরাতে গিয়ে চাপ প্রয়োগে এই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দুইজন টেকনিশিয়ান গুরুতর আহত হন।’
দুর্ঘটনার পর আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা রুম্মানকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন, তবে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তিনি মারা যান বলে নিশ্চিত করেন পরিচালক হাফিজ আহমেদ। এনামুল গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনও নির্ধারিত হয়নি। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে করা হচ্ছে এটি মানবিক ভুলজনিত নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে ঘটে থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, বিস্ফোরণে কোনো উড়োজাহাজ কিংবা বিমানবন্দরের অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে বিমানবন্দরের কর্মীদের মধ্যে এটি প্রবল মানসিক প্রভাব ফেলেছে।
‘আমরা বিষয়টিকে একটি গুরুতর শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছি এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছি,’ বলেন পরিচালক হাফিজ আহমেদ। ‘প্রয়োজনীয় সব আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
ঘটনার খবর পেয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আনিসুর রহমান জানান, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের লিখিত বিবৃতি পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এই দুর্ঘটনা আবারও দেশের বিমানবন্দরগুলোতে কর্মরত প্রকৌশল ও টেকনিক্যাল কর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে দীর্ঘ সময় কাজ করা এসব কর্মীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নীতিমালা কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা দেশের সব বিমানবন্দরে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, এই ধরনের জীবনঘাতী সরঞ্জাম ব্যবহারে রাষ্ট্রীয় নজরদারি এবং স্বচ্ছতা আরও জোরদার করা জরুরি।
এদিকে সহকর্মী ও পরিচিতদের পক্ষ থেকে নিহত রুম্মান আহমেদের প্রতি শোক জানানো হচ্ছে। তাঁকে একজন পরিশ্রমী, বিনয়ী এবং দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে বর্ণনা করেছেন সবাই। তাঁর অকাল মৃত্যু বিমানবন্দরের কর্মজীবী সমাজে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
এই দুর্ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে এবং আগামী দিনগুলোতে আরও তথ্য প্রকাশের আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনার পটভূমিতে বৃহস্পতিবারের এই দুর্ঘটনা একটি তীব্র সতর্ক সংকেত হয়ে রইলো—যে, প্রতিটি উড্ডয়নের পেছনে থাকে অসংখ্য মানুষের শ্রম ও জীবন, যাঁদের নিরাপত্তা অবহেলা করার সুযোগ নেই।