মাদক ইস্যুতে আ.লীগকে কাঠগড়ায় তুললেন নিপুণ রায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ৪২ বার
মাদক ইস্যুতে আ.লীগকে কাঠগড়ায় তুললেন নিপুণ রায়

প্রকাশ: ২০ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক পটভূমি এবং তার পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্রটি আজ এক ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি। মাদকের করাল গ্রাসে আমাদের তরুণ প্রজন্ম যেভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে, তা কেবল একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর সমস্যা নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক চরম হুমকি। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন এক চাঞ্চল্যকর সত্য। ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকারের সময়কাল অর্থাৎ আওয়ামী লীগের শাসনামলে দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা কেবল দুর্নীতির সাথে নয়, বরং সরাসরি মাদকের ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদেই দেশে মাদকের অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছিল বলে তিনি দাবি করেন।

সোমবার সকালে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশকে যেভাবে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, তা ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি স্তরে মাদক যেভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তা ছিল এক ধরনের সুপরিকল্পিত নীলনকশা। যারা দেশের নীতিনির্ধারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তারাই যদি মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেন, তবে সাধারণ মানুষের কাছে মাদক সহজলভ্য হওয়াটা কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। আজকের সরকার এই ভেঙে পড়া সমাজকে পুনরুদ্ধার করতে এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মাদককে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং দেশের স্বার্থে মাদকের সাথে জড়িতদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

নিপুন রায় চৌধুরীর বক্তব্যে কেবল রাজনৈতিক অভিযোগই ছিল না, বরং ছিল বর্তমান প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গভীর উদ্বেগ। তিনি মনে করেন, তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনিক শক্তির পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দেশের ধর্মীয় নেতাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, মসজিদের ইমাম এবং মন্দিরের পুরোহিতদের নিজ নিজ জায়গা থেকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখতে হবে। ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে মাদকের কুফল পৌঁছে দেওয়া গেলে প্রতিটি পরিবার সচেতন হবে এবং তরুণরা মাদক থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত হবে। একটি সুস্থ সমাজ গড়ার লড়াইয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া প্রশাসনিক সফলতা অর্জন করা প্রায় অসম্ভব।

মাদক দমনের কৌশলের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং খেলাধুলার পরিবেশ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ তৈরির মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তার মতে, তরুণরা যদি মাঠের খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকতে পারে, তবে হতাশা তাদের গ্রাস করতে পারবে না এবং তারা মাদক থেকে শতহস্ত দূরে থাকবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তরুণদের সৃজনশীল কাজে নিয়োজিত করার যে লক্ষ্যমাত্রা সরকার নিয়েছে, তা সফল হলে বাংলাদেশের চিত্র আমূল বদলে যাবে। সমাজ ও রাষ্ট্রকে এই মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে হলে প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা, যেখানে শিক্ষক, অভিভাবক, রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ মানুষ সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ। তিনিসহ উপস্থিত অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরাও নিপুন রায় চৌধুরীর বক্তব্যের সাথে সুর মিলিয়ে মাদকবিরোধী এই লড়াইয়ের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করে মাদকবিরোধী এই সামাজিক আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৪০ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির এবং অসচ্ছল মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এই অনুদান কেবল মানুষের মানবিক প্রয়োজনই মেটাবে না, বরং তাদের মাঝে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ও মমতা জাগ্রত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নিপুন রায় চৌধুরী ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন এবং জেলার পরিচিতি সম্বলিত ম্যাপের ফলক উন্মোচন করেন। গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি পরিবেশ রক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরেন। তার মতে, একটি সুন্দর দেশ গড়ার জন্য যেমন মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন সবুজ ও নির্মল পরিবেশ। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি যেন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে পড়ে, সেজন্য সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার সঠিক পরিচর্যা করার পরামর্শ দেন তিনি। নিপুন রায়ের ঝিনাইদহ সফরের এই অনুষ্ঠানটি স্থানীয় মানুষের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

পরিশেষে বলা যায়, নিপুন রায় চৌধুরীর এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার খোরাক যুগিয়েছে। বিগত সরকারের মদদপুষ্ট মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচনের যে দাবি তিনি তুলেছেন, তা সচেতন নাগরিকদের মাঝে এক নতুন চেতনার জন্ম দিয়েছে। একটি দুর্নীতিমুক্ত ও মাদকহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার যে অঙ্গীকার করেছে, তার বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ কর্তৃক এই আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করার এই উদ্যোগটি অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। ভবিষ্যতে এই লড়াইয়ে আরও বেশি করে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেলে এবং সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদককে বয়কট করা সম্ভব হলে তবেই আমরা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার পাবো আগামী প্রজন্মের হাতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত