৪ হাজার ৫০০ ইয়াবাসহ টেকনাফের সাবেক আ.লীগ নেতা আটক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৫১ বার
৪ হাজার ৫০০ ইয়াবাসহ টেকনাফের সাবেক আ.লীগ নেতা আটক

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভ এলাকায় পরিচালিত কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি হাফিজ উল্লাহকে আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকবিরোধী অভিযান এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় ইয়াবা পাচার রোধে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল প্রায় ১০টার দিকে কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অংশ নেন কোস্ট গার্ড স্টেশন ইনানীর সদস্যরা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হলে সন্দেহভাজন এক যাত্রীর কাছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তি হাফিজ উল্লাহ (৬৬) কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত তৈয়ম গোলালের ছেলে এবং অতীতে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় বাসে থাকা ওই ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাঁকে তল্লাশি করা হয়। পরে তাঁর কাছ থেকে ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। উদ্ধার করা মাদক জব্দ করে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিএন সুমন আল মুকিত বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয় এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, জব্দ করা মাদকদ্রব্য এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি যে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সম্ভাব্য গন্তব্য কোথায় ছিল বা এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত রয়েছে কি না। তদন্তের মাধ্যমে এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজার, বিশেষ করে টেকনাফ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন সময় মাদক পাচারকারীরা স্থল ও নৌপথ ব্যবহার করে ইয়াবা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের চেষ্টা করে। এ কারণে কোস্ট গার্ড, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান পরিচালনা করাই যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে মাদক সরবরাহ চক্র, অর্থায়ন এবং বিতরণ নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করাও জরুরি। কারণ, মাদকের অবাধ বিস্তার সামাজিক অপরাধ, সহিংসতা এবং তরুণ সমাজের বিপথগামিতার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় একাধিক মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ হয়েছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে তদন্তের মাধ্যমে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের আইনি অবস্থান চূড়ান্ত হবে।

হাফিজ উল্লাহর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি; আদালতের রায়ের আগে তাঁকে দোষী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।

স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হলে ইয়াবা পাচারের প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মাদকের উৎস, পরিবহন ব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রকে বিচারের আওতায় আনা গেলে মাদক নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা এবং আটক ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তী তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ভবিষ্যতেও এ ধরনের গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে বাহিনী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com