প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত ও গ্ল্যামারাস চিত্রনায়িকা পরীমনি মানেই সব সময় নতুন কোনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা। তার প্রতিটি মন্তব্য, প্রতিটি পদক্ষেপ কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি সাধারণ পোস্টও মুহূর্তের মধ্যে ভক্ত ও অনুরাগীদের মাঝে ঝড় তুলতে সক্ষম। ঠিক তেমনই সম্প্রতি ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে তার করা একটি মজার মন্তব্য এবং পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে তার সাবলীল ও খোলামেলা উপস্থিতি পুরো দেশের বিনোদন অঙ্গনে এক নতুন হাস্যরস ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভক্তদের মন জয় করা তার সেই চঞ্চল স্বভাব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে করা বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নগুলো আবারও প্রমাণ করেছে যে কেন তিনি সব সময় মিডিয়ার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে ভালোবাসেন। তার জীবনের নানান রঙ ও রূপ নিয়ে চলা এই কৌতূহল যেন কখনোই ফুরোবার নয়, বরং দিন দিন তা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল এবারের বিশ্ব মাতানো ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনাকর সময়টাতে। সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর সঙ্গে পরীমনিও মজেছিলেন ফুটবলের জাদুতে। তবে তার মূল আকর্ষণ ছিল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি আর্জেন্টিনার প্রতি অন্ধ ভালোবাসা ও সমর্থন। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তিনি নানাভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার আর্জেন্টিনা প্রীতি প্রকাশ করেছিলেন। কখনো আকাশি-সাদা রঙের ঐতিহ্যবাহী জার্সি গায়ে জড়িয়ে ভিডিও তৈরি করে নেটিজেনদের নজর কেড়েছেন, আবার কখনো বা মাঠে জাদুকর লিওনেল মেসির অসাধারণ সব প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করে আবেগী স্ট্যাটাস দিয়েছেন। আর্জেন্টিনা দলের প্রতিটি জয়কে তিনি অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন করেছিলেন। আর ঠিক সেই উন্মাদনার রেশ ধরেই আর্জেন্টিনা দল যখন অত্যন্ত রোমাঞ্চকরভাবে ফাইনালে প্রবেশ করে, তখন দলের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর উন্মাদনা থেকেই একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি মজা করে ঘোষণা দেন যে আর্জেন্টিনা যদি এবার বিশ্বকাপ কাপ জেতে, তবে তিনি আরও একবার বিয়ে করবেন। তার এই আকস্মিক ও মজার ঘোষণাটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখ লাখ ভক্তের প্রতিক্রিয়া ও হাজার হাজার শেয়ারে এক বিরাট আলোচনার ঝড় তোলে।
তবে ফুটবলের রোমাঞ্চকর ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার ১-০ গোলের কষ্টের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয় কোটি কোটি সমর্থকের, যার মধ্যে পরীমনিও ছিলেন। প্রিয় দলের এমন হৃদয়বিদারক হারের পর স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের কৌতূহল ছিল যে তবে কি তার সেই মজার বিয়ের ঘোষণা আর বাস্তবায়িত হচ্ছে না? খেলার ফলাফল প্রকাশের পর নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত মজার ছলে বলেছিলেন যে বিয়েটা আর করতে হলো না, এই আরকি এবং ভালোবাসার আর্জেন্টিনাকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন তাদের সঙ্গে আবার ভবিষ্যতে দেখা হবে। কিন্তু এখানেই গল্পের শেষ হয়নি। গত বুধবার রাতে রাজধানীর একটি জমকালো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এই তারকা। সেখানে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্বাভাবিকভাবেই ঘুরেফিরে চলে আসে তার সেই আলোচিত বিয়ের প্রসঙ্গটি। সাংবাদিকরা যখন বিষয়টি নিয়ে আবারও রসিকতা শুরু করেন, তখন পরীমনি বিন্দুমাত্র রাখঢাক না করে উল্টো এক দারুণ মজার প্রশ্ন ছুড়ে দেন উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে।
সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে স্বভাবসুলভ মিষ্টি হাসিতে তিনি জানতে চান যে তারা সবাই মিলে আসলে তাকে আবার বিয়ে দিতে চান কি চান না। তার এই অপ্রত্যাশিত ও কৌতুকপূর্ণ প্রশ্ন শোনার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সকলের মাঝে হাসির এক রোল পড়ে যায়। এরপর তিনি আরও একটু মজা করে উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে জানতে চান যে এই বিষয়ে সবার উত্তর হ্যাঁ নাকি না। নিজের কথা চালিয়ে তিনি আরও বলেন যে তিনি খুব ভালো করেই জানেন দেশের বেশিরভাগ মানুষ বা তার অনুরাগীরা তাকে আজীবন সিঙ্গেল বা একা দেখতেই ভালোবাসে। এমনকি তিনি যদি নিজের স্নেহের ভাইয়ের সঙ্গেও কোনো ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন, তবুও তাকে নেটিজেনদের অপ্রয়োজনীয় সমালোচনার শিকার হতে হয় এবং বকা খেতে হয়। সবাই তাকে কেবল একা দেখতে চায় অথবা তার ফুটফুটে সন্তানের সঙ্গেই দেখতে ভালোবাসে। সাধারণ মানুষের এই মানসিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি হাস্যরসের সুরে বলেন যে এর মধ্যে ঠিক কী ধরনের আনন্দ বা তৃপ্তি লুকিয়ে আছে তা তার নিজের কাছেও সম্পূর্ণ অজানা।
পরে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন যে আর্জেন্টিনার সেই বেদনাদায়ক হারের পর তিনি ঠিক কী করেছিলেন বা তার মানসিক অবস্থা কেমন ছিল। এই প্রশ্নের উত্তরে পরীমনি আবারও তার স্বভাবসুলভ রসিকতা বজায় রেখে বলেন যে ভাই, এই জীবনের নানান বিপদ এবং রিস্ক থেকেই তো তিনি সেদিন বলে ফেলেছিলেন যে দল জিতলে আবার বিয়ে করবেন। ফাইনালের আগে তার সেই মজার পোস্টটি যে তার নিজের জীবনের জন্য কিছুটা হলেও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তা তিনি সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে তোলেন। এর আগে প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি এই বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছিলেন যে তিনি এর আগে কখনো কোনো ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকঢোল পিটিয়ে বিয়ে করেননি। তিনি যখনই প্রেম করেছেন, এরপর হুট করে নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিয়ে করে ফেলেছেন। কিন্তু এবারের এই মজার ঘোষণাটি তাকে একপ্রকার অপ্রত্যাশিত বিপদে বা মুসিবতে ফেলে দিয়েছিল। তিনি স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি যে সাধারণ মানুষের জন্য করা একটি নিছক মজার পোস্টকে সবাই এত বেশি সিরিয়াসলি নিয়ে নেবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তার কাছে এত এত সিরিয়াস এবং অপ্রত্যাশিত বিয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু করেছিল যে তিনি নিজেই বুঝতে পারছিলেন না আসলে কী করা উচিত বা পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেবেন।
ফুটবল বিশ্বকাপের সেই মজার আলোচনার পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে তার ব্যক্তিগত জীবনের অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন কঠিন সময় এবং বিতর্কিত মামলার প্রসঙ্গও সামনে চলে আসে। এক সাংবাদিক যখন তাকে জেলখানা বা আইনি ঝামেলা সংক্রান্ত কোনো একটি অতীত প্রশ্ন করেন, তখন পরীমনি অত্যন্ত পরিণত ও দৃঢ় কন্ঠে তার অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান যে এই বিষয়গুলো নিয়ে তিনি কি অতীতে কখনো সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো অপ্রয়োজনীয় কথা বলেছেন? কেউ যদি তাকে এই বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করে থাকে, তবে কি তিনি কখনো তার কাঙ্ক্ষিত বা সন্তোষজনক কোনো উত্তর পেয়েছেন? তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনগুলোতে তার একটাই গভীর বিশ্বাস কাজ করত যে সত্য একদিন ঠিকই প্রকাশ পাবে এবং আলোর মুখ দেখবে। যতই কেউ সেই সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করুক না কেন, সঠিক সময় ঠিকই তা সবার সামনে উন্মোচিত হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন। পরীমনির এই সাবলীল উপস্থিতি, তার প্রাণবন্ত কথাবার্তা এবং জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোকে সহজে উড়িয়ে দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা আবারও প্রমাণ করে যে তিনি কতটা শক্ত মনের মানুষ। ব্যক্তি জীবনের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি আজ যেভাবে নিজের মতো করে জীবনকে উপভোগ করছেন, তা তার অগণিত ভক্তদের কাছে এক আলাদা প্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকের এই বিনোদন জগতের পর্দায় পরীমনি মানেই বিনোদন, রোমাঞ্চ আর খবরের শিরোনামে থাকার এক চিরন্তন নাম।