সহিষ্ণুতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান গবেষক সাঈদ ফেরদৌসের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ বার
সহিষ্ণুতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান গবেষক সাঈদ ফেরদৌসের

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের চরম দমন-পীড়ন, শোষণ এবং নির্বিচারে হত্যার বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্র-জনতার অদম্য প্রতিরোধ শেষ পর্যন্ত এক ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছিল, যার ফলশ্রুতিতে পতন ঘটেছিল দীর্ঘদিনের এক অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী সরকারের। সেই অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলোর নানা পক্ষের দর-কষাকষি ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল, তাদের হাত ধরে দেশের সামগ্রিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটে যাবে—এমনটি আশা করাটাই ছিল এক ধরনের আকাশকুসুম কল্পনা। এ কথা সত্য যে, সেই সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে যাঁদের স্থান দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের অনেকেই হয়তো নিজ নিজ পেশাগত জীবনে অত্যন্ত সফল কিংবা উচ্চ ডিগ্রিধারী বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন; কিন্তু অভ্যুত্থান-পরবর্তী অস্থিতিশীল সময়ে গতানুগতিক চিন্তা ও চর্চার গণ্ডি পেরিয়ে পুরো সমাজ বা রাষ্ট্রকে একেবারে গোড়া থেকে বদলে দেওয়ার মতো সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন দেখার বা দেখানোর মানসিক সামর্থ্য তাঁদের ছিল না। তা সত্ত্বেও দেশের সাধারণ মানুষ সেই সরকারের ওপর গভীর ভরসা রেখেছিল এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও ভাবমূর্তিকে বিশ্বমঞ্চে ভূরাজনৈতিক সমীকরণের একটি রক্ষাকবচ বা ঢাল হিসেবে গণ্য করে তাঁর নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেই আশায় বুক বেঁধেছিল।

কিন্তু ‘জুলাইয়ের স্বপ্ন’ বা সাম্য ও ন্যায়ের সমাজ গঠনের যে আকাঙ্ক্ষা সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছিল, তা সরকার গঠনের প্রথম মুহূর্ত থেকেই নানামুখী ধাক্কা খেতে শুরু করে এবং নতুন সরকারকে আক্ষরিক অর্থেই পাহাড়সমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে মানুষের মনে জমে থাকা তীব্র বঞ্চনা, ক্ষোভ এবং অমীমাংসিত নালিশের দীর্ঘ ফর্দ হাতে নিয়ে সাধারণ মানুষ যখন দলে দলে রাজপথে নেমে এসেছিল, তখন তাদের মধ্যে এক ধরনের অসহিষ্ণুতা কাজ করাটাই ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক। অনেকেই মনে করেন যে, কথায় কথায় মানুষের রাজপথে নেমে আসার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার পেছনে ক্ষেত্রবিশেষে পতিত স্বৈরাচারী রেজিমের ঘাপটি মেরে থাকা কুশীলব ও চক্রান্তকারীরাও নানাভাবে মদদ জুগিয়েছিল। সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে প্রথম দিন থেকেই অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছিল, যেখানে তাদের মূল সম্বল বলতে ছিল সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাটে ছিবড়ে হয়ে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, দলীয়করণে জর্জরিত আমলাতন্ত্র এবং ক্ষমতাচ্যুতদের রেখে যাওয়া দুর্বল নির্বাহী বিভাগ। এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর যেমন পুরোপুরি ভরসা করার উপায় ছিল না, তেমনি রাতারাতি এসব ত্রুটি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো জাদুকরি উপায়ও সরকারের হাতে ছিল না।

সেই ক্রান্তিলকালে শ্রমিক বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো সাধারণ মানুষের বেশ কিছু ন্যায্য দাবিদাওয়ার আন্দোলনও অনেক ক্ষেত্রে নির্মমভাবে দমন করা হয়েছে, যা অভ্যুত্থানের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। অন্যদিকে, আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা তরুণ তুর্কিরা রাষ্ট্র মেরামতের জন্য ‘নয়া বন্দোবস্ত’-এর জোরালো স্লোগান তুললেও দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো বিগত দেড় দশকের সমস্ত অপ্রাপ্তি ও সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার গ্লানি সুদে-আসলে পুষিয়ে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে তৎপর হয়ে উঠেছিল। এর ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার পুরোনো ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বন্দোবস্তে ফিরে যাওয়াটাই যেন এক অবধারিত নিয়তিতে পরিণত হয়েছিল। সরকারের বিভিন্ন স্তরে নিজেদের দলের লোকজনদের জোরপূর্বক নিয়োগ পাইয়ে দেওয়া কিংবা প্রয়োজনে পূর্বতন পদধারীকে টেনেহিঁচড়ে কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে সেই আসনে নিজেদের অনুসারীদের বসিয়ে দেওয়ার মতো দলীয়করণের পুরোনো সংস্কৃতি সচিবালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুল-কলেজ পর্যন্ত সমানভাবে চলতে থাকে।

জনমনে বিরাজমান অস্থিরতা এবং জোড়াতালি দিয়ে চালানো প্রশাসনের নানা দুর্বলতার চেয়েও সে সময় রাজনীতির মাঠে সবচেয়ে বড় ও ভীতিপ্রদ সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছিল ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণু রাজনীতি। গণ-অভ্যুত্থানের সূচনা পর্বে সবচেয়ে জোরালো যে আওয়াজটি উঠেছিল, তা ছিল সর্বগ্রাসী বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর। অথচ সেই অভ্যুত্থানের সুফলভোগী ও উত্তরসূরি পক্ষগুলো রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সমাজের প্রতিটি স্তরে বৈষম্যমূলক ও বিভাজনের আচরণ আরও বেশি প্রকট হয়ে উঠল। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগের সেই রক্তক্ষয়ী দিনগুলোতে স্বৈরাচারের প্রতীক বা স্মারকগুলোর ওপর জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটলেও এটি স্বীকার করতেই হবে যে সাধারণ মানুষ এবং আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব অত্যন্ত সহিষ্ণুতা ও সংযমের পরিচয় দিয়ে পুরো পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিল। তা না হলে কার্যত সরকার, থানা-পুলিশ ও প্রশাসনহীন ওই কয়টা দিনে পুরো দেশ এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী নৈরাজ্যের সমুদ্রে ভেসে যেতে পারত।

যদিও সেই সময়ে রাজনৈতিক লক্ষ্য পুরোপুরি এক ছিল না, তবুও অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তাদের মাঠে দেখা গেছে নিজেদের মজলুম পরিচয়ের জোরালো দাবি নিয়ে এবং ইসলামের বিরুদ্ধে কল্পিত বা বাস্তব যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার প্রত্যয়ে তারা তৌহিদী জনতা নামে নিজেদের সংগঠিত করতে শুরু করে। তাদের কাছে যা কিছু ধর্মবিরোধী বা সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে মনে হয়েছে, তার প্রতিটি চর্চা ও পরিচয়কে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে থামিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা তারা চালিয়েছে। অন্যদিকে, বামপন্থী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো যখন জুলাইয়ের গণআন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হয়েছিল, তখন কিন্তু তারা শহীদ আবু সাঈদ কিংবা অন্যান্য আন্দোলনকারীরা ব্যক্তিগতভাবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতাদর্শ বা জামায়াতের অনুসারী কি না, সেই প্রশ্ন তুলে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবিভক্ত বা বিচলিত হয়নি। অথচ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির এই উচ্চকিত ও আক্রমণাত্মক উপস্থিতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে বাম ও প্রগতিশীল ঘরানার রাজনীতি আবার সেই পুরনো ও সংকীর্ণ বিশ্বাসেই ফিরে গেল যে যাঁরা ধর্মীয় রাজনীতি চর্চা করেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনার কোনো টেবিল বা ন্যূনতম সুযোগই থাকতে পারে না।

বামপন্থীরা যখন রাজনৈতিক মাঠে একাত্তরে জামায়াতের সেই ঐতিহাসিক ও অমার্জনীয় ভূমিকার কথা বারবার সামনে নিয়ে এল, তখন জামায়াত বরাবরের মতো নিজেদের অতীত অপরাধের সুনির্দিষ্ট দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করে নানা চাতুর্য ও কূটকৌশলের আশ্রয় নিতে শুরু করে। ঠিক যেমনটি আওয়ামী লীগ নিজেদের সীমাহীন দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অপকর্ম ঢাকার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধকে একটি চতুর ঢাল হিসেবে ব্যবহার করত, ঠিক তেমনিভাবে জামায়াতও একাত্তরের ঐতিহাসিক দায় পুরোপুরি এড়ানোর জন্য ইসলাম ধর্মকে নিজস্ব রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পিছপা হয়নি। আওয়ামী লীগের সেই সুবিধাবাদী কৌশল নিয়ে মূলত বড় দাগে বামেরা কখনো জোরালো কোনো প্রতিবাদ তোলেনি, ঠিক তেমনিভাবে অপরাপর ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোও জামায়াতের ক্ষেত্রে একই ধরনের কৌশল অবলম্বন করে রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ থাকে। এর ফলে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান বহু রক্তের বিনিময়ে প্রথমবারের মতো এই বাইনারি বা বিভাজনের রাজনীতি চিরতরে ঘোচানোর যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল, তা হাতছাড়া হয়ে গেল এবং পুরোনো বিভাজন ও ঘৃণার রাজনীতি আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠল।

ভিন্ন ধারার রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আলাপের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সমাজজুড়ে পুরোনো বিভেদ ও বিদ্বেষের রাজনীতি ফিরে আসাটাই হলো জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় মর্মান্তিক ক্ষতি। আর এই ঐতিহাসিক ব্যর্থতার মূল দায় ডান ও বাম—উভয় রাজনৈতিক শিবিরের কাঁধেই সমভাবে বর্তায়। এরা প্রত্যেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শক্তি অথচ বর্তমান সময়ে এসে তারা একে অন্যকে বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী শাসনের প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী হিসেবে দেগে দিয়ে পরস্পরের আত্মত্যাগ ও অবদানকে সম্পূর্ণরূপে নাকচ করে দিতে চায় এবং একে অন্যকে রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার অশুভ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। এই অসহিষ্ণুতার সুস্পষ্ট লক্ষণ हालেই দেখা গিয়েছিল যখন বিশিষ্ট কার্টুনিস্ট মেহেদী হকের একটি কার্টুন প্রকাশিত হওয়ার পর এনসিপি এবং জামায়াতপন্থী মহলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখানো হয়, এবং পরবর্তীতে প্রথম আলো পত্রিকায় ফিরোজ আহমেদের ‘চব্বিশের কাঠগড়ায় বামপন্থী রাজনীতি’ শীর্ষক লেখা প্রকাশের পর বামপন্থী মহলের ভেতরে যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল, তা পুনরায় উন্মোচন করে দেয় যে আমাদের সমাজে সুস্থ আত্মসমালোচনার সংস্কৃতি কতটা অনুপস্থিত এবং অসহিষ্ণুতা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

অথচ একটি রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থান সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা একটি রাজনৈতিক দলটিকে দেশের সবকিছু নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন করে ভাবার এবং একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ার এক অপূর্ব ও ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছিল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি অতীতেও বিপুল জনসমর্থন নিয়ে একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের প্রথিতযশা লেখক, বরেণ্য শিল্পী, নির্ভীক সাংবাদিক, সম্মানিত শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং সংস্কৃতিকর্মীসহ সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের যে অভূতপূর্ব ও ব্যাপক সমর্থন দলটি এবার অর্জন করেছে, তাদের সেই সুপ্ত প্রত্যাশা, উন্নত স্বপ্ন এবং দেশপ্রেমকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন ও কাজে লাগাতে দলটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে কি না, সেই গুরুতর প্রশ্নটি আজ তাদের নিজেদের কাছেই জোরালোভাবে করতে হবে। জন্মলগ্ন থেকেই বিএনপির রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন মতাদর্শ ও পন্থার মানুষ এসে জড়ো হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অনেকের রাজনৈতিক অতীতে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গেও গভীর সম্পৃক্ততা ছিল।

দল হিসেবে বিএনপি ঐতিহাসিকভাবে কখনো কট্টর বামঘেঁষা দল ছিল না, এবং অতীতে তারা জামায়াতের সঙ্গে মিলেমিশে কৌশলগত রাজনীতিও করেছে। কিন্তু জুলাই-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব ও ফাটল তৈরি হয়েছে। বর্তমান এই ভূরাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুচারু সদ্ব্যবহার করে বিএনপি চাইলে ডান ও বাম ধারার মধ্যকার চিরকালীন এই ঐতিহাসিক বিভাজন ও অনাস্থা ঘুচিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যপন্থার রাজনীতির মজবুত পরিসর গড়ে তুলতে পারে। দলটিকে কেবল একটি মৌলিক সত্য গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে যে, এ দেশের সাধারণ মানুষ যার যার ব্যক্তিজীবনে যেমন যার যার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ইবাদত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে, ঠিক তেমনই তারা অন্য ধর্মের বা মতের মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে একই পঙক্তিতে বসে খাবার খায়, অন্যের সুখে-দুঃখে কাঁদে ও হাসে, গ্রামের মেলায় ঘোরে, পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে এবং লোকসংস্কৃতির নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এমন একটি অসাধারণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অপূর্ব দেশে সব মত ও পথের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করে সহিষ্ণুতার রাজনীতি প্রিতষ্ঠা করাই হতে পারে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর প্রধান ও পবিত্রতম কর্তব্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত