চুয়াডাঙ্গায় জুলাইয়ের মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ বার
চুয়াডাঙ্গায় জুলাইয়ের মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের এক শীর্ষস্থানীয় সাংগঠনিক নেতাকে গভীর রাতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট একটি বিশেষ অভিযানে চুয়াডাঙ্গা শহররক থেকে তাকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ওই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে বিগত ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন নিরপরাধ ছাত্রছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালানো, মারধর করা এবং ভাঙচুর ও নাশকতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার প্রধান ও এজাহারভুক্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে পাকড়াও করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের কার্যক্রম তীব্র গতিতে চলমান রয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন সূত্রে আরও বিস্তারিতভাবে জানা গেছে যে, গ্রেপ্তার হওয়া সানজিদ আহমেদ চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী পদে বহাল থেকে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের শেষ দিকে ছাত্র আন্দোলনে দমনপীড়ন চালানোর ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিগত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের সেই ঐতিহাসিক ও রক্তক্ষয়ী দিনগুলোতে যখন সারা দেশের আপামর ছাত্রসমাজ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে বুক চিতিয়ে লড়ছিল, ঠিক সেই সময়ে চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় রাজপথে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ও মুক্তিকামী জনতার ওপর সংঘটিত বর্বরোচিত হামলা ও শারীরিক নির্যাতনের সঙ্গে এই ছাত্রলীগ নেতার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে আসে। দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া ও সিসিটিভি ফুটেজ বা ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত করার পরই জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল মধ্যরাতে এই সফল অভিযান পরিচালনা করে তাকে আইনশৃঙ্খলার আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়।

এই বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করে জানান যে, গত বছর জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজপথে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে সরাসরি অভিযুক্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে সানজিদ আহমেদকে চুয়াডাঙ্গা শহর এলাকা থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিগত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের ভয়াল দিনগুলোতে ছাত্রছাত্রীদের নির্মমভাবে পেটানো ও হামলা চালানোর অভিযোগে একাধিক গুরুতর মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই সুনির্দিষ্ট মামলাগুলোতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার বা গ্রেফতার দেখানোর সুপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যারা সরাসরি অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল এবং রাষ্ট্রবিরোধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত রেখেছিল, তাদের প্রত্যেকের একটি সুনির্দিষ্ট ও হালনাগাদ তালিকা প্রশাসনের কাছে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সমাজে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এই ধরনের অপরাধীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকেই তাদের খুঁজে বের করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি বর্তমানে অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে যাতে পলাতক বা ছদ্মবেশে থাকা অন্য কোনো অভিযুক্ত অপরাধী সহজেই পালিয়ে যেতে না পারে। স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও জুলাই আন্দোলনের আহত বা শহীদ পরিবারের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্ত অপরাধীর সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনার ধারাবাহিক অভিযانের অংশ হিসেবে সানজিদ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগে একাধিক মামলা রুজু করা হয়েছিল। পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই মামলাগুলো তদন্ত করে আসছে এবং অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত কাউকে ছাড় না দেওয়ার নীতিতে অটল রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতে সোপর্দ করার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের মাধ্যমে তাকে রিমান্ডে নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চালানো হতে পারে, যাতে এই হামলার নেপথ্যে আর কারা উসকানিদাতা বা মদদদাতা হিসেবে কাজ করেছিল তা স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই বিজয়ের পর থেকেই দেশজুড়ে হামলাকারীদের বিচারের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর যে নিপীড়ন চালানো হয়েছিল, তার ক্ষত এখনো স্থানীয় মানুষের মনে তাজা রয়েছে। প্রকাশ্য রাজপথে শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করা, ধাওয়া করা এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হওয়ার দৃশ্য আজও সাধারণ মানুষের মনে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি করে। এসব মামলার আসামিরা একের পর এক গ্রেপ্তার হওয়ায় নিহত ও আহত শিক্ষার্থীদের পরিবার এবং সাধারণ জনগণের মাঝে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পাওয়ার আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা পুলিশ প্রশাসনের এই ত্বরিত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত