প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের ত্রয়োবিংশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তাপ ও উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নির্ধারিত পূর্বঘোষণা অনুযায়ী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তাদের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট দাখিল করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির পক্ষ থেকেও তাদের মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ এই সাংবিধানিক পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এবারের নির্বাচন প্রক্রিয়াটি বিগত কয়েক দশকের তুলনায় ভিন্ন মাত্রা লাভ করেছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত তফসিলের নিয়মকানুন মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য নির্বাচন ভবনে উপস্থিত হন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এই নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও দায়িত্বশীল নেতাদের উপস্থিতিতে সকালের দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। এর আগে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের যৌথ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বীর বিক্রম ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি মাথায় রেখেই জোটের পক্ষ থেকে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি থেকেও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ব্যাপক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। দলের হাইকমান্ড ও নীতিনির্ধারক মহলের দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পর কাঙ্ক্ষিত সময়ের মধ্যে তাদের মনোনয়নপত্রও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর এমন সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও বেশি শাণিত ও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। ১৯৯১ সালের পর থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণত সর্বসম্মত একক প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার দীর্ঘদিনের যে সংস্কৃতি চলে আসছিল, এবারের নির্বাচনে একাধিক শক্তিশালী প্রার্থীর উপস্থিতি সেই ধারাকে ভেঙে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক রূপ দিতে যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সুনির্দিষ্ট তফসিল অনুযায়ী ত্রয়োবিংশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলোর দিনক্ষণ ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। জমা পড়া প্রামাণিক কাগজপত্র ও মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য আগামী ১৬ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর বৈধ প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত। সব প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত অধিবেশন কক্ষে সরাসরি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংবিধানের বিধান ও সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা গোপন বা নির্ধারিত প্রকাশ্য ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে দেশের আগামী রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করবেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি পদের এই নির্বাচন অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ এবং সুশৃঙ্খলভাবে মনোনয়ন দাখিলের এই পুরো প্রক্রিয়াটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সাংবিধানিক চর্চাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেছে যাতে নির্ধারিত সময়ে শান্তিপূর্ণভাবে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে।