৭১ ছিল অর্জনের আর ২৪ ছিল রক্ষার সংগ্রাম: গণঅভ্যুত্থান দিবসে তারেক রহমানের বার্তা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৯০ বার

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের ইতিহাসে ৫ আগস্ট একটি অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে — এমনটাই দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টকে ‘স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধের বিজয় দিবস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার ভাষায়, “১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ ছিল স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ।”

তারেক রহমান বলেন, এক বছর আগে ঠিক এই দিনেই বাংলাদেশ ‘ফ্যাসিস্ট শাসন’ থেকে মুক্ত হয়। শাসকগোষ্ঠী গোপনে দেশত্যাগ করে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। তিনি দিনটিকে ‘রাহুমুক্তির দিন’, ‘গণজাগরণের দিন’, এবং ‘আনন্দের দিন’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “এই দিনটির কথা ভুলে গেলে চলবে না। ইতিহাসের এমন নজিরবিহীন মুহূর্ত শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসেও বিরল।”

তারেক রহমান ভিডিও বার্তায় যে চিত্র তুলে ধরেন, তা ছিল এক ভয়াল অধ্যায়ের প্রতিফলন। তিনি বলেন, “একুশ শতকের বাংলাদেশে পলাতক স্বৈরাচার একটি বিভীষিকার রাজত্ব কায়েম করেছিল। গুম, খুন, অপহরণ, মামলা, নির্যাতন— সবকিছুই যেন ছিল নৈমিত্তিক। গোপনে তৈরি করা হয়েছিল শত শত ‘আয়নাঘর’, যেখানে নাগরিকদের বিনাবিচারে দিনের পর দিন আটকে রাখা হতো। আজও নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের কোনো সন্ধান মেলেনি।”

তিনি আরও বলেন, ওই স্বৈরাচারী আমলে দেশের অর্থনীতি চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়েছিল। সরকারি ব্যাংকগুলো ধ্বংসের মুখে পড়ে, রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির চাকা হোঁচট খায়, এবং দুর্নীতির অব্যাহত মহোৎসবে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যায়। দেশে তখন কেবল লুটপাট আর স্বজনপ্রীতির রাজনীতি চলছিল, যার ফলে ব্যক্তি-পর্যায়ের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপরে।

তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে তিনি দেখছেন গণতন্ত্রের পুনরুত্থান এবং জনগণের বিজয় হিসেবে। তারেক রহমান বলেন, “৭১-এর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ আজও ভুলে যায়নি। তেমনি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতিও থাকবে চিরভাস্বর।”

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, “গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রথম ও প্রধান পদক্ষেপ হচ্ছে— জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত, তাদের কাছে দায়বদ্ধ একটি সরকার গঠন। বর্তমানে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করছে, সেটি সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।”

তিনি সতর্ক করেন, কিছু মহল বর্তমান সরকারের তুলনা আগের স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে করতে চাইছে, যা সম্পূর্ণভাবে বিভ্রান্তিকর এবং ইতিহাসের সঙ্গে প্রতারণার সামিল। তিনি বলেন, “ডাকাতি করে কেউ যদি চ্যারিটি করেও, জনগণের চোখে সে ডাকাতই থেকে যায়। ঠিক তেমনি, যারা অতীতের ফ্যাসিস্ট শাসনের ব্যর্থতা আড়াল করতে চায়, তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হবে।”

তারেক রহমান বার্তায় বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের সম্মিলিত প্রতিবাদ ও সংগ্রামের ফল। সেই দিন সরকারের প্রধানরা, সংসদ সদস্য, বিচারপতি এমনকি ধর্মীয় নেতারাও পালিয়ে যান। “গণভবন ছেড়ে পালিয়েছে ফ্যাসিস্ট, সংসদ ভবন ফেলে পালিয়েছে সাংসদ, আদালত ছেড়েছে প্রধান বিচারপতি, বায়তুল মোকাররম মসজিদ ছেড়েছে প্রধান খতিব— এই ছবি বিশ্ব রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন অধ্যায়,” মন্তব্য তারেক রহমানের।

তিনি বলেন, “দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ কায়েম হবে না। কাউকে আর গণতন্ত্র হত্যা করতে দেওয়া হবে না, এবং বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।”

তারেক রহমান আরও বলেন, গণতন্ত্রে মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সেটি যেন কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ কিংবা চরমপন্থার জন্ম না দেয়— এই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। মতপার্থক্য গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলেও, জাতীয় স্বার্থে সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বার্তার শেষাংশে জনগণকে অনুপ্রাণিত করে বলেন, “স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত জনগণকে তার ভোটাধিকার প্রয়োগের পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে। তবেই রাষ্ট্র ও সরকারে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হবে।”

তারেক রহমানের এই বক্তব্য এখন পর্যন্ত দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একদিকে তাঁর বার্তাকে অনেকে স্বাগত জানালেও, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যকে ‘পুনরুজ্জীবিত বিভ্রান্তি’ বলেও অভিহিত করা হচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৫ আগস্টের স্মৃতিকে ঘিরে রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় রচিত হচ্ছে, যার তরঙ্গ দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের গণতন্ত্রচর্চা ও ক্ষমতার ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত