দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে আজ দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৪ বার
দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে আজ দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ পাঁচ মাসের বেশি সময় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন শেষে আজ বুধবার দেশে ফিরছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার দেশে ফেরার খবরে রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।

দলীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ৯টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মির্জা আব্বাসের ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিদেশে চিকিৎসার দীর্ঘ সময় শেষে মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শে তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, চিকিৎসার পর মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও মেডিক্যাল বোর্ডের অনুমোদনের ভিত্তিতেই তিনি দেশে ফিরছেন। তবে সুস্থতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দেশে ফেরার পরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

মির্জা আব্বাসের অসুস্থতার খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত ১১ মার্চ। ওই দিন ইফতারের সময় পানি পান করতে গিয়ে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারান। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে রাজধানীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করে।

পরবর্তীতে তার শারীরিক জটিলতা বিবেচনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও চিকিৎসকদের পরামর্শে পুনর্বাসন ও ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন দেখা দেয়। এ কারণে পরবর্তী সময়ে তাকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ধরে তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলে।

দীর্ঘ এই চিকিৎসা-প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর তার শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এ কারণেই মেডিক্যাল বোর্ড তাকে দেশে ফেরার অনুমতি দিয়েছে।

মির্জা আব্বাস বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির অন্যতম পরিচিত ও অভিজ্ঞ নেতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় রাজনীতিতে তার দায়িত্ব আরও বিস্তৃত হয়। এমন একটি সময়ে তার দীর্ঘ অসুস্থতা এবং বিদেশে চিকিৎসা রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা দ্রুত সুস্থতার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং প্রার্থনা করেন।

বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার সময়ও মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন তার পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠজনরা। বিভিন্ন সময়ে দলীয় সূত্র থেকে জানানো হয়, চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত সেই উন্নতিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা।

মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরা শুধু একটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা-পর্বের সমাপ্তি নয়, বরং তার রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্যও স্বস্তির খবর। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার কারণে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে তার অনুপস্থিতি অনুভূত হয়েছে বলে মনে করছেন অনেক নেতাকর্মী। বিশেষ করে দীর্ঘ অসুস্থতার পর একজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতার সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার বিষয়টি মানবিক দিক থেকেও ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে।

দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, দেশে ফেরার পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার মাধ্যমে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন। তার ঘনিষ্ঠদের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর এখন তার জন্য বিশ্রাম এবং নিয়মিত চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজ রাতের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘ চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে দেশে ফেরার পর তাকে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একজন রাজনীতিকের জীবনে জনসম্পৃক্ততা ও রাজনৈতিক ব্যস্ততা স্বাভাবিক বিষয় হলেও দীর্ঘ অসুস্থতার পর সুস্থ হয়ে ওঠার পথটি অনেক সময় ধৈর্য, চিকিৎসা এবং পরিবারের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে। মির্জা আব্বাসের গত কয়েক মাসের চিকিৎসাজীবনও ছিল এমনই একটি দীর্ঘ ও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলার গল্প।

১১ মার্চ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার, এরপর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর যাত্রা এবং পরে মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ পুনর্বাসন—সব মিলিয়ে গত কয়েক মাস ছিল তার এবং পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান ও দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে অবশেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই আশা করছেন, মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরা তার সুস্থতার পথে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। চিকিৎসকদের নির্দেশনা মেনে চললে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন বলেও প্রত্যাশা করছেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

আজ রাত ৯টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ মাসের বেশি সময় বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পর দেশের মাটিতে ফেরার এই মুহূর্ত মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি তার রাজনৈতিক সহকর্মী ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

সব মিলিয়ে দীর্ঘ অসুস্থতা, জটিল চিকিৎসা এবং কয়েক মাসের পুনর্বাসনের পর মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। এখন সবার প্রত্যাশা, দেশে ফিরে তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও চিকিৎসা গ্রহণ করে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত