পুকুরের কচুরিপানায় লুকানো ৮৮ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২ বার
পুকুরের কচুরিপানায় লুকানো ৮৮ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পুকুরের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা ৮৮ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আব্দুল মলেক নামে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই মদ উদ্ধার করা হয় এবং অভিযানের সময় পুকুরে নেমে আত্মগোপনের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার পাথরেরচর চিংটিমারি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

গ্রেপ্তার আব্দুল মলেক পাথরেরচর চিংটিমারি এলাকার মৃত শফিউদ্দিনের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মদ এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানতে পারেন, ভারতীয় মদের একটি চালান পাথরেরচর চিংটিমারি এলাকা দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। খবর পাওয়ার পর সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা দ্রুত এলাকায় অবস্থান নেন এবং সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করেন।

পুলিশের উপস্থিতি টের পাওয়ার পর আব্দুল মলেক পালানোর চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। একপর্যায়ে তিনি মদের বোতলগুলো নিয়ে একটি পুকুরের দিকে চলে যান। পুলিশের চোখ এড়িয়ে আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে তিনি পুকুরে নেমে কচুরিপানার নিচে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকায় শেষ পর্যন্ত তার চেষ্টা সফল হয়নি। পুলিশ সদস্যরা পুকুর ও আশপাশের এলাকা তল্লাশি করে কচুরিপানার নিচ থেকে ৮৮ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকেই আব্দুল মলেককে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাতের অন্ধকারে পুকুরের কচুরিপানার নিচে মদের বোতল লুকিয়ে রাখার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার হলে সীমান্তবর্তী ও দুর্গম বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে অবৈধ মাদক পরিবহনের সুযোগ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, অভিযানে ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ সময় মলেক নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মদের উৎস এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।

দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের কার্যক্রম শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এখনো স্পষ্ট নয়, উদ্ধার হওয়া মদের চালানটি কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বাংলাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও বিভিন্ন ধরনের বিদেশি মদসহ অবৈধ মাদক দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে উদ্ধার হওয়ার ঘটনা প্রায়ই সামনে আসে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলো বিভিন্ন কৌশলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে এসব পণ্য পরিবহন ও সংরক্ষণের চেষ্টা করে থাকে।

কখনো বসতবাড়ি, কখনো নির্জন এলাকা, আবার কখনো জলাশয় বা ঝোপঝাড়কে মাদক লুকিয়ে রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দেওয়ানগঞ্জের এ ঘটনায় পুকুরের কচুরিপানার নিচে মদের বোতল লুকিয়ে রাখার অভিযোগও সেই ধরনের একটি কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে শুধু বাহক বা ছোট পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর পেছনে থাকা সরবরাহকারী, অর্থদাতা এবং সংগঠিত চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ মাদক পরিবহনের সম্ভাব্য রুটগুলোতে নজরদারি বাড়ানোও জরুরি।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা নদী ও সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন। দুর্গম ও অপেক্ষাকৃত নির্জন পথ ব্যবহার করে অপরাধীরা বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য পরিবহনের চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান গুরুত্বপূর্ণ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহজনক কোনো কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত তথ্য দিলে অপরাধ প্রতিরোধে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানেও তথ্যের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।

তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। আইন অনুযায়ী, তদন্ত ও বিচার শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।

বর্তমানে উদ্ধার হওয়া ৮৮ বোতল ভারতীয় মদের উৎস এবং সম্ভাব্য গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পুলিশ আরও তদন্ত করে দেখছে, এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংগঠিত চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করার মধ্যেই অভিযান সীমাবদ্ধ না রেখে মাদক সরবরাহ ও পরিবহনের পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য বের করা হবে। কারণ মাদক ব্যবসার পেছনে থাকা মূল চক্র শনাক্ত করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা যাবে।

পাথরেরচর চিংটিমারি এলাকায় রাতের অভিযানে পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে ৮৮ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধারের ঘটনাটি মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে নানা ধরনের কৌশল ব্যবহার করতে পারে।

তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে এ ঘটনায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। মামলা দায়ের এবং আদালতে পাঠানোর পর আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত