বক্তব্যের সুযোগ না পেয়ে বিএনপির সমাবেশে চেয়ার ছোড়াছুড়ি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ বার
বক্তব্যের সুযোগ না পেয়ে বিএনপির সমাবেশে চেয়ার ছোড়াছুড়ি

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজশাহীর দুর্গাপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, ধাক্কাধাক্কি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দলীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন বলে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্যে ঘটনার কারণ ও প্রকৃতি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুর উপজেলা এলাকায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিভিন্ন নেতা বক্তব্য দেন। পরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল বক্তব্য দিচ্ছিলেন।

এ সময় জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর বুলেট অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রগুলো দাবি করেছে।

একপর্যায়ে সমাবেশস্থলে থাকা চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে কিছু সময়ের জন্য অনুষ্ঠানস্থলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। উপস্থিত নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিয়ে এমন বিরোধের ঘটনা দলীয় শৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের অভিমত। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো কর্মসূচিতে সাধারণত দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ বেশি থাকে। ফলে কে বক্তব্য দেবেন এবং অনুষ্ঠানের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে আগে থেকেই সমন্বয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর বুলেট। তিনি ধাক্কাধাক্কি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি এ বিষয়ে ছবি বা অন্য কোনো প্রমাণ থাকলে তা দেখানোর কথাও বলেন।

অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান আয়নাল ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে সমাবেশে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। উত্তেজনা দেখা দিলে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল নিজেই সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

তবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের দাবি অনুযায়ী, পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও উত্তেজিত কয়েকজন নেতাকর্মী তা মেনে নেননি। পরে তারা ধাক্কাধাক্কি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার মতে, একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয় এবং দলীয় কর্মসূচির ভাবমূর্তির সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ঘটনার সময় সমাবেশস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল না বলে জানা গেছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভূমিকা রাখে। পরে সমাবেশের পরিবেশ শান্ত হয়।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পঞ্চানন্দ সরকার জানান, তিনি ঘটনার সময় ছুটিতে ছিলেন। পরে রাতে থানায় ফিরে তিনি সমাবেশে একটি অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। তবে ঘটনায় কেউ আহত হননি।

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মতভেদ বা বক্তব্যের সুযোগ নিয়ে বিরোধ নতুন কোনো বিষয় নয়। বিশেষ করে বড় দলগুলোর স্থানীয় পর্যায়ের কর্মসূচিতে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের অংশগ্রহণ থাকায় কখনো কখনো নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণের প্রশ্নে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন মতপার্থক্য যদি প্রকাশ্যে সংঘাতের রূপ নেয়, তাহলে তা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জনসমক্ষে দলের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দুর্গাপুরের এ ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঘটনার প্রকৃতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। এক পক্ষ চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা অস্বীকার করলেও অন্য পক্ষ অপ্রীতিকর ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। পুলিশও ঘটনাস্থলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়ার কথা জানিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সাধারণত নিজেদের ঐক্য, সংগঠনের শক্তি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এমন একটি আয়োজনে অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে চলে এলে তা নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কর্মসূচি পরিচালনায় সমন্বয়, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহনশীলতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

এ ঘটনায় কেউ আহত না হওয়ায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল, তা ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচিতে আরও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

রাজশাহীর দুর্গাপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করাই হওয়া উচিত সবার প্রধান লক্ষ্য। মতপার্থক্য থাকলেও তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা গেলে দলীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত