তারেকের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা চলছে: ত্রিবেদী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২২ বার
তারেকের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা চলছে: ত্রিবেদী

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬  । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নতুন করে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের জনগণের স্বার্থ ও পারস্পরিক সম্পর্ককে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন বলে তিনি আশা করছেন। এ সফর হলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান বিভিন্ন আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বুধবার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দীনেশ ত্রিবেদী এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও জনগণকেন্দ্রিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক ও সংসদীয় পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে সফরের নির্দিষ্ট সময়সূচি নিয়ে তিনি কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেননি। তাঁর বক্তব্যে মূলত দুই দেশের জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশাই প্রকাশ পেয়েছে।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ধারাবাহিক যোগাযোগ প্রয়োজন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে শুধু সরকার পর্যায়ে নয়, জনগণ, সংসদ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও যোগাযোগ বাড়ানো দরকার। এ ধরনের যোগাযোগ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বোঝাপড়া ও আস্থার জায়গা আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। গত কয়েক সপ্তাহে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এর আগে দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। সেই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে আগ্রহও বাড়ছে।

দীনেশ ত্রিবেদী এর আগেও তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, দুই দেশের নেতাদের সরাসরি বৈঠক হলে বিদ্যমান বিভিন্ন মতপার্থক্য ও জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা সহজ হতে পারে। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যেও একই ধরনের ইতিবাচক অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। ভৌগোলিক নৈকট্য, সীমান্ত, বাণিজ্য, যোগাযোগ, পানি, জ্বালানি, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং মানুষের যাতায়াত—সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের দৈনন্দিন স্বার্থ জড়িত। ফলে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে এসব বিষয়ে সমন্বয় ও সমাধানের সুযোগ বাড়ে।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ। দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সংসদ ও ভারতের সংসদ কীভাবে আরও ঘনিষ্ঠভাবে একে অপরের সঙ্গে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সংসদীয় কূটনীতিকে দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখছে ভারত। সংসদ সদস্যদের পারস্পরিক সফর, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বোঝাপড়া আরও গভীর হতে পারে।

ভারতীয় হাইকমিশনার দুই দেশের মধ্যে একটি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন। এ ধরনের সংসদীয় বন্ধুত্ব গোষ্ঠী দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় এবং জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে।

বৈঠকের প্রসঙ্গে বাংলাদেশের স্পিকার সম্পর্কে দীনেশ ত্রিবেদী ইতিবাচক মন্তব্য করেন। তিনি স্পিকারকে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তাঁর ফুটবল খেলার দক্ষতার কথাও বলেন। কূটনৈতিক বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এমন ব্যক্তিগত ও মানবিক প্রসঙ্গ দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আন্তরিক যোগাযোগের একটি দিকও তুলে ধরে।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানোর কথাও জানিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার। সংসদীয় পর্যায়ের সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।

ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে জনগণের স্বার্থের বিষয়টি। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাই এতে প্রতিফলিত হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের যোগাযোগ, বাণিজ্য, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের যাতায়াত, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক—এসব ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, দুই দেশের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ভারসাম্য, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের নিজস্ব স্বার্থ ও অবস্থান রয়েছে। এসব বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা প্রয়োজন। ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যেও সংলাপ ও পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলতে থাকবে এবং এটিই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তাঁর এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আলোচনার দরজা খোলা রাখাকে ভারত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ধারাবাহিক সংলাপ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা হতে পারে। সফরে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের সুযোগ তৈরি হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগও তৈরি হতে পারে।

তবে সফরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা হয়নি। ফলে কবে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্য মূলত তাঁর প্রত্যাশা ও আশাবাদকে তুলে ধরেছে।

দুই দেশের জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার যে বার্তা দীনেশ ত্রিবেদী দিয়েছেন, তা আগামী দিনের বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সংসদীয় যোগাযোগ, কূটনৈতিক আলোচনা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগ সফল হলে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল ও কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে চলমান আলোচনা কোন পর্যায়ে পৌঁছায় এবং তা শেষ পর্যন্ত কবে বাস্তবে রূপ নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত