এনটিআরসিএতেই শিক্ষক নিয়োগ, বদলাচ্ছে পরীক্ষার পদ্ধতি

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ বার

প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের দায়িত্ব বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কাছেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বর্তমান কাঠামোতে পরিবর্তন এনে তিন ধাপে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রিলিমিনারি ও মৌখিক পরীক্ষার মাঝখানে লিখিত পরীক্ষা যুক্ত করা হবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে অনুষ্ঠিত এক সভায় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশসংক্রান্ত এসব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় এনটিআরসিএর সংশোধিত অনুসরণীয় পদ্ধতি এবং শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান আলিফ রুদাবা, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হেলালুজ্জামান সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন কাঠামোয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে থাকবে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তী ধাপে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় সফল প্রার্থীরাই শেষ ধাপে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

বর্তমান ব্যবস্থায় প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর মৌখিক পরীক্ষার যে কাঠামো রয়েছে, সেখানে লিখিত পরীক্ষা যুক্ত করাই নতুন উদ্যোগের অন্যতম প্রধান পরিবর্তন। এর ফলে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রার্থীদের জ্ঞান ও বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা আরও বিস্তৃতভাবে যাচাই করার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তবে নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়নি। সংশোধিত অনুসরণীয় পদ্ধতির প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হবে। এরপরই নতুন কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে এনটিআরসিএ।

পরীক্ষার ধাপ পরিবর্তনের পাশাপাশি সিলেবাসেও সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত সিলেবাসের প্রস্তাবও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। ফলে নতুন পরীক্ষাপদ্ধতি কার্যকর হলে প্রার্থীদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে।

এদিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ কোন প্রক্রিয়ায় করা হবে, তা নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এনটিআরসিএর পরিবর্তে অন্য কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করার বিষয়ে আগে যে উদ্যোগের কথা আলোচনায় এসেছিল, সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে সরকার।

সভায় আগের বিতর্কিত রেজুলেশন বাতিল করে এনটিআরসিএর মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করার ব্যবস্থা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের ক্ষেত্রে এনটিআরসিএর ভূমিকা বজায় থাকছে।

শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন ব্যবস্থা মূলত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষক নির্বাচনের একটি কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে। নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এই কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থার দায়িত্ব এনটিআরসিএর কাছেই থাকছে।

নতুন পরীক্ষাপদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা যুক্ত করার সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার কাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের পর লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক ও বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হবে। এরপর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে।

তবে লিখিত পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ কাঠামো, নম্বর বণ্টন, সময়সীমা, বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস এবং মৌখিক পরীক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পরীক্ষার ধাপ বাড়ানোর ফলে প্রার্থীদের প্রস্তুতির পরিধিও বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন সিলেবাস কার্যকর হলে কোন কোন বিষয়ে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে, সেটিও পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে নতুন কাঠামোর মূল উদ্দেশ্য হিসেবে শিক্ষক পদে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ করার বিষয়টি সামনে রয়েছে।

অন্যদিকে, এনটিআরসিএর মাধ্যমেই নিয়োগের সুপারিশ করার সিদ্ধান্তের ফলে এ বিষয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা অনেকটাই দূর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আগের রেজুলেশন বাতিল এবং নতুন অনুসরণীয় পদ্ধতি কার্যকর করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান বিধিব্যবস্থাই কার্যকর থাকবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর পরিপত্র জারি হলে নতুন নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। এরপর পরবর্তী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নতুন তিন ধাপের কাঠামোয় অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন বা পরিপত্রে বিস্তারিত জানানো হবে।

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এনটিআরসিএর সুপারিশ ব্যবস্থা বহাল রাখা এবং পরীক্ষায় লিখিত ধাপ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সিদ্ধান্তগুলো এখনো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও পরিপত্র জারির পরই নতুন পরীক্ষা কাঠামো এবং সংশোধিত নিয়োগ পদ্ধতির আনুষ্ঠানিক কার্যকারিতা শুরু হবে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত