ম্যানসিটি ছেড়ে বেনফিকায় আর্জেন্টাইন তারকা এচেভেরি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ বার
ম্যানসিটি ছেড়ে বেনফিকায় আর্জেন্টাইন তারকা এচেভেরি

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬  । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ম্যানচেস্টার সিটির আকাশি-নীল জার্সিতে প্রত্যাশিতভাবে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ খুব একটা পাননি আর্জেন্টিনার তরুণ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ক্লাউদিও এচেভেরি। ইংলিশ ক্লাবটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেও মূল দলে মাত্র এক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। তবে ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজের জায়গা তৈরি করার স্বপ্ন থেকে পিছিয়ে যাননি ১৯ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান ফুটবলার। এবার নতুন অধ্যায়ের সন্ধানে পর্তুগালের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বেনফিকায় যোগ দিয়েছেন তিনি।

ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর জার্মানি ও স্পেনের দুই ক্লাবে ধারে খেলেছেন এচেভেরি। বেয়ার লেভারকুসেন ও জিরোনা এফসির হয়ে মাঠে নামলেও কোনো দলেই নিয়মিত একাদশে জায়গা করে নিতে পারেননি তিনি। সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই এবার পর্তুগিজ ফুটবলের অন্যতম বড় শক্তি বেনফিকায় ধারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার। নতুন ক্লাবে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে নিয়মিত খেলার সুযোগ এবং নিজের সামর্থ্য প্রমাণের আরেকটি বড় মঞ্চ।

বেনফিকার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে লিসবনে পৌঁছেছেন এচেভেরি। নতুন ক্লাবের সঙ্গে তাঁর চুক্তিটি ধারে খেলার ভিত্তিতে হলেও ভবিষ্যতে তাঁকে স্থায়ীভাবে দলে নেওয়ার সম্ভাবনাও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ পর্তুগালের ফুটবলে নিজের অবস্থান শক্ত করতে পারলে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে স্থায়ীভাবে বেনফিকায় যাওয়ার পথও তাঁর সামনে খোলা থাকতে পারে।

এচেভেরির বেনফিকায় যোগ দেওয়ার পেছনে ম্যানচেস্টার সিটির দুই পরিচিত মুখের পরামর্শও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সিটির বর্তমান তারকা রুবেন দিয়াজ এবং বার্নার্দো সিলভা—দুজনেই বেনফিকার সাবেক খেলোয়াড়। পর্তুগিজ ক্লাবটির পরিবেশ, ফুটবল সংস্কৃতি ও খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তরুণ এচেভেরিকে বেনফিকায় যাওয়ার বিষয়ে তাঁদের পরামর্শ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে জানা গেছে।

বেনফিকায় এচেভেরির সামনে সবচেয়ে বড় সুযোগ হতে পারে নিয়মিত মাঠে নামার সম্ভাবনা। ম্যানচেস্টার সিটির মতো তারকাসমৃদ্ধ দলে প্রতিটি পজিশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত তীব্র। সেখানে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দেরও দীর্ঘ সময় বেঞ্চে কাটাতে হয়। এচেভেরির ক্ষেত্রেও ইউরোপে পা রাখার পর সেই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এখন বেনফিকার মতো ক্লাবে গিয়ে নিয়মিত খেলার মাধ্যমে তিনি নিজের ম্যাচ অভিজ্ঞতা বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারেন।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আর্জেন্টিনার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিভার প্লেট থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন এচেভেরি। তখন তাঁকে ঘিরে ছিল বড় ধরনের প্রত্যাশা। দক্ষিণ আমেরিকার বয়সভিত্তিক ফুটবলে তাঁর পারফরম্যান্স ইতোমধ্যে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর কেড়েছিল। সিটির মতো ক্লাব তাঁকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দলে নেয়। কিন্তু ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে মানিয়ে নেওয়ার পথটি তাঁর জন্য সহজ হয়নি।

সিটির মূল দলে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল দলের আক্রমণভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিশ্বমানের একাধিক খেলোয়াড়ের উপস্থিতিতে নিয়মিত একাদশে জায়গা পাওয়া তরুণদের জন্য কঠিন। ফলে এচেভেরিকে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ধারে পাঠানোর পথ বেছে নেয় ক্লাবটি। জার্মানির বেয়ার লেভারকুসেন এবং পরে স্পেনের জিরোনা এফসিতে খেলেছেন তিনি। তবে ধারাবাহিকভাবে শুরুর একাদশে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব হয়নি তাঁর।

এই বাস্তবতাই বেনফিকার নতুন অধ্যায়কে এচেভেরির ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। নতুন ক্লাবে তাঁকে শুধু প্রতিভাবান তরুণ হিসেবে নয়, বরং আক্রমণভাগে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বেনফিকার কোচ মার্কো সিলভার কৌশলগত পরিকল্পনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। এমনকি ক্লাবটির ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সিও তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে।

১০ নম্বর জার্সি সাধারণত কোনো দলের সৃজনশীলতা, আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা এবং গোল তৈরির সঙ্গে জড়িত খেলোয়াড়ের পরিচয় বহন করে। এচেভেরির খেলার ধরনও সেই ভূমিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আক্রমণভাগের পেছনে থেকে খেলা তৈরি করা, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে জায়গা খুঁজে নেওয়া এবং গোলের সুযোগ তৈরি করার দক্ষতার কারণে তাঁকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হয়। তবে এই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে তাঁকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।

এচেভেরির প্রতিভার প্রথম বড় প্রমাণ পাওয়া যায় বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক ফুটবলে। ২০২৩ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি পাঁচ গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট করে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। ওই প্রতিযোগিতায় তাঁর পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনার ফুটবলমহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর একই বছর অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে আরও বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দেন তিনি।

বিশেষ করে ব্রাজিলের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে করা তাঁর হ্যাটট্রিক এখনো এচেভেরির ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিন গোল করে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি পান। সেই পারফরম্যান্সের পর থেকেই ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজরে আসেন এই আর্জেন্টাইন তরুণ।

দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপে পাড়ি জমানোর পর অবশ্য বয়সভিত্তিক ফুটবলের সাফল্যকে সিনিয়র পর্যায়ে নিয়ে আসা তাঁর জন্য সহজ হয়নি। ইউরোপীয় ফুটবলের শারীরিক গতি, কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং প্রতিযোগিতার তীব্রতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগছে। এচেভেরির বেনফিকায় যাওয়া তাই কেবল আরেকটি ধারের চুক্তি নয়; তাঁর ক্যারিয়ারের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ।

বেনফিকার হয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়ার পাশাপাশি ম্যাচ পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাও উন্নত হতে পারে। একই সঙ্গে পর্তুগিজ লিগের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তাঁকে ইউরোপীয় ফুটবলের সঙ্গে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে। ম্যানচেস্টার সিটিও তাঁর অগ্রগতির দিকে নজর রাখবে, কারণ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এচেভেরিকে এখনো সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এখন এচেভেরির সামনে চ্যালেঞ্জ একটাই—প্রতিভার যে স্বাক্ষর তিনি বয়সভিত্তিক ফুটবলে রেখেছিলেন, সেটিকে সিনিয়র পর্যায়ে নিয়মিত পারফরম্যান্সে রূপ দেওয়া। বেনফিকার মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে ১০ নম্বর জার্সির সম্ভাবনা এবং আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর ওপর প্রত্যাশার চাপ বাড়াবে। সেই চাপ সামলে তিনি কতটা ধারাবাহিক হতে পারেন, সেটিই হবে তাঁর পরবর্তী ইউরোপিয়ান অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে মাত্র এক ম্যাচে সীমাবদ্ধ থাকা অধ্যায় আপাতত পেছনে ফেলে নতুন ঠিকানায় পা রেখেছেন এচেভেরি। ১৯ বছর বয়সে তাঁর সামনে এখনো দীর্ঘ ক্যারিয়ার পড়ে আছে। বেনফিকায় নিয়মিত সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে একদিকে যেমন নিজের পরিচিতি আরও শক্ত করতে পারবেন, অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতেও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তাই লিসবনের এই নতুন যাত্রা তাঁর ক্যারিয়ারে কতটা পরিবর্তন আনে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত