প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে চান্দিনা উপজেলার দরিয়াপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের উদ্ধার করেন। পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। বাসটির নাম এভারগ্রীন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মহাসড়কের ব্যস্ত অংশে হঠাৎ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাসটি পানিতে পড়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক আশরাফ উদ্দিন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত যাত্রীদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী এভারগ্রীন বাসটি চান্দিনার দরিয়াপুর এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। বাসটি খাদে পড়ার পর ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসায় দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ শুরু হতে বেশি সময় লাগেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ সুমন মিয়া জানান, সকালে হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শুনতে পান তিনি। শব্দ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান একটি যাত্রীবাহী বাস পানিতে পড়ে আছে। পরে আশপাশের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের উদ্ধারে এগিয়ে যান তারা।
সুমন মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। তবে তাদের মধ্যে কেউ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে তিনি দেখতে পাননি। স্থানীয়দের তৎপরতায় দ্রুত যাত্রীদের বাস থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে নেওয়া সম্ভব হয়। পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে থাকা কক্সবাজার এলাকার যাত্রী নাদিম আহমেদ জানান, তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বাসটির চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে সেটি মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
নাদিম আহমেদের বর্ণনায়, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে যাত্রীরা নিজেদের সামলে ওঠার সুযোগও পাননি। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি সড়ক থেকে নিচে নেমে যায়। এরপর বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চিৎকার ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে যাত্রীদের উদ্ধারে সহযোগিতা করেন।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে খাদে পড়ে থাকা বাসটি নিরাপদে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়কপথ। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকার মধ্যে দূরপাল্লার বাস চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ এটি। ফলে এই সড়কে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে যানবাহনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
চান্দিনার দরিয়াপুর এলাকায় শুক্রবার সকালের দুর্ঘটনাটিও এমন একটি ব্যস্ত সময়ে ঘটে। সকালে মহাসড়কে যান চলাচল থাকলেও বাসটি খাদে পড়ে যাওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আটজন আহত হওয়ায় দুর্ঘটনাটি নিয়ে যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গতি, চালকের অসতর্কতা, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা সড়কের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। যাত্রী নাদিম আহমেদের বক্তব্যে বাসটির অতিরিক্ত গতির অভিযোগ উঠে এসেছে। বিষয়টি তদন্তের পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে আহত যাত্রীদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাথমিকভাবে যে সহযোগিতা করেছেন, তা দুর্ঘটনার পর মানবিক সহায়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে। মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে অনেক সময় প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় মানুষই প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। চান্দিনার এই ঘটনাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। আহত আটজনের চিকিৎসা চলছে। তাদের কারও অবস্থা গুরুতর কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে খাদে পড়ে থাকা বাসটি উদ্ধারের কাজও শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
দূরপাল্লার যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য চালকদের দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালানো, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং দীর্ঘ যাত্রায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি মুহূর্তের অসতর্কতা বহু মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। কুমিল্লার চান্দিনায় এভারগ্রীন বাস খাদে পড়ে আটজন আহত হওয়ার ঘটনাটি আবারও মহাসড়কে নিরাপদ ও সতর্কভাবে যানবাহন চালানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এনেছে।
দুর্ঘটনায় আহত যাত্রীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। এখন পুলিশের তদন্ত ও বাস উদ্ধারের পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।