সিলেটের আলোচিত রায়হান হত্যা মামলার প্রধান আসামি এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া জামিনে মুক্তি পেলেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৪ বার

প্রকাশ: ২৪শে জুন ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ঘটে যাওয়া রায়হান উদ্দিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি, পুলিশের বহিস্কৃত উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়া জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। হাইকোর্ট থেকে জামিন আদেশ পাওয়ার পর রোববার (১০ আগস্ট) বিকেলে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে বের হয়ে যান।

রায়গান হত্যাকাণ্ডের সময় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে ছিলেন এসআই আকবর। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেই রায়হান উদ্দিনকে ধরে এনে নির্যাতন করেছেন। এই ঘটনায় সিলেটবাসীসহ সমগ্র দেশে ব্যাপক তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার ঝড় উঠেছিল। পরবর্তীতে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর ডেপুটি জেলর মনিরুল হাসান জানান, ‘উচ্চ আদালত থেকে জামিনের কাগজ নেমে আসার পর রোববার বিকেলে আনুষ্ঠানিকতা শেষে আকবর হোসেনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।’ কারাগার সূত্রে জানা যায়, আকবর প্রথমে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন, পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন চালু হওয়া সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ স্থানান্তরিত হন এবং মুক্তির আগ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করছিলেন।

ঘটনাটি ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সংঘটিত হয়। রায়হান উদ্দিনকে সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরদিন সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। এই ঘটনায় পুলিশের ওপর ব্যাপক সমালোচনা ও তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

পরিবার অভিযোগ করেন, রায়হানের মৃত্যু ঘটে পুলিশের বর্বর নির্যাতনের কারণে। পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়টি তদন্তের জন্য মহানগর পুলিশের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে। তারা তদন্তে ফাঁড়িতে নির্যাতনের প্রমাণ পায়। তদন্তে প্রধান আসামি হিসেবে শনাক্ত হন এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া এবং তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর পুলিশি হেফাজত থেকে কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রধান আসামি আকবরকে ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০২১ সালের ৫ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। এছাড়াও সহকারী উপপরিদর্শক আশেক এলাহী, কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ, টিটু চন্দ্র দাস, সাময়িক বরখাস্ত এসআই মো. হাসান উদ্দিন এবং আকবরের আত্মীয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান অভিযোগে যুক্ত ছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তীতে এসআই আকবরের জামিন পাওয়ার ঘটনা সিলেটসহ জাতীয় রাজনীতিতে ও সমাজে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই মামলা বিচার ব্যবস্থায় সরকারের শুদ্ধিচিন্তা ও পুলিশের স্বচ্ছতার ওপর জনগণের আস্থা ধরে রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষণ স্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চলমান আইনি প্রক্রিয়া এবং এর ভবিষ্যৎ প্রভাব দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে নজরকাড়া ঘটনা হিসেবে দাঁড়াবে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত