জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৩ বার
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এবারের সফরটি আগের পরিকল্পনার তুলনায় সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে এবং নিউইয়র্ককেন্দ্রিক কর্মসূচির মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর অধিকাংশ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে এবং এ অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ’। ফলে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের বক্তব্যে বৈশ্বিক সহযোগিতা, উন্নয়ন, শান্তি, মানবাধিকার এবং চলমান আন্তর্জাতিক সংকটের মতো বিষয় গুরুত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরুতে আরও দীর্ঘ করার পরিকল্পনা ছিল। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ২১ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পাশাপাশি নিউইয়র্কের পর সান ফ্রান্সিসকো সফরের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পর ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিদলের আকারও তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হচ্ছে। দীর্ঘ সফরের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠককে গুরুত্ব দিয়ে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংক্ষিপ্ত সফরের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও সময় ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে উন্নয়ন, মহামারি প্রতিরোধ ও প্রস্তুতি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয় আলোচনায় আসবে। জাতিসংঘের নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যেও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর এবং মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও সাড়াদান বিষয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কথা রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে গুরুত্ব পেতে পারে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এর আগে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের অধিবেশনে বাংলাদেশের জলবায়ু-সংক্রান্ত অবস্থান তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব এবং বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো সামনে আনার কথা বলা হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে একাধিক আলোচনা আয়োজন করছে। দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও সংকটের টেকসই সমাধান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়েছে। নিউইয়র্কের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে এ সংকট নিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগও তৈরি হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গেও বৈঠকের প্রস্তুতির কথা জানা গেছে। এসব বৈঠক শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নেতাদের সময়সূচি ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করবে।

এ ছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে এ ধরনের বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, মানবাধিকার, জলবায়ু, শরণার্থী সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ঘিরেও কূটনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে। এটি সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে দেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে এবারের ভাষণটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বরবরই বহুপক্ষীয় কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং নীতিনির্ধারকদের এক জায়গায় পাওয়া যায়। ফলে আনুষ্ঠানিক অধিবেশনের পাশাপাশি সাইডলাইন বৈঠক ও বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের আলোচনাও দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে।

এবারের সফরে সেই সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন, জলবায়ু ঝুঁকি, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো সামনে আনার প্রস্তুতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের কর্মসূচিতে আরও একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় বিভিন্ন দেশের নেতাদের সম্মানে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক আয়োজন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হয়ে থাকে।

এদিকে সফরের সময়সূচি সংক্ষিপ্ত করার ফলে নিউইয়র্কের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে। আগে সান ফ্রান্সিসকো সফরের যে প্রস্তুতি ছিল, তা আর থাকছে না। নিউইয়র্কেই জাতিসংঘকেন্দ্রিক কর্মসূচি, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও বাংলাদেশের আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর এই যুক্তরাষ্ট্র সফরের মূল কেন্দ্র থাকবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের বক্তব্য তুলে ধরার পাশাপাশি কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের বিভিন্ন স্বার্থ ও অগ্রাধিকারের বিষয় তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। সংক্ষিপ্ত সময়ের এই সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার উদ্দেশে নিউইয়র্ক ছাড়ার কথা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com