শনিবার ঢাকার যেসব এলাকায় ৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ বার
শনিবার ঢাকার যেসব এলাকায় ৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি মেরামত কাজের কারণে আগামীকাল শনিবার রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় টানা ছয় ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট এসব এলাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।

শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি মেরামত কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্ধারিত সময়জুড়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। একই সঙ্গে সরবরাহ বন্ধ থাকার সময়ের বাইরে তৎসংলগ্ন কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

তিতাস গ্যাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মোট ছয় ঘণ্টা সারুলিয়া, পূর্ব বক্সনগর, হাজীনগর, বড়ভাঙ্গা, কোনাপাড়া, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার ও আমুলিয়া এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। একই সময় রানীমহল, নিমাই কাসারি, রসূলনগর ও সুকুসি এলাকার গ্রাহকরাও গ্যাসের সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবেন।

এ ছাড়া কাঁচপুর ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে সুলতানা কামাল ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায়ও নির্ধারিত সময় গ্যাস থাকবে না। শনির আখড়া, মাতুয়াইল, পোস্তগোলা, জুরাইন এবং হাজী খোরশেদ আলী সড়কসংলগ্ন এলাকাগুলোও এই সাময়িক সরবরাহ বন্ধের আওতায় রয়েছে।

জিয়া সরণী, ধনিয়া, পাটের বাগ, জাপানি বাজার, খুদের বাজার, ধোলাইপার মোড়, মাদ্রাসা রোড, পাইপ রোড, কাজলার মোড়, মীরের বাগিচা এবং বাঘমারা এলাকাতেও একই সময়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস। এসব এলাকার বিদ্যমান সব শ্রেণির গ্রাহক এই সাময়িক সরবরাহ বন্ধের আওতায় থাকবেন।

রাজধানীর বিপুলসংখ্যক পরিবার রান্নাবান্নার জন্য পাইপলাইনের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কয়েক ঘণ্টার জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলেও অনেক পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে দুপুর থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে দুপুরের খাবার প্রস্তুত করা, বিকেলের নাশতা এবং রাতের খাবারের প্রস্তুতির সময় অনেক পরিবারকে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হতে পারে।

শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় অনেক পরিবার সাধারণ কর্মদিবসের তুলনায় বাড়িতে বেশি সময় কাটায়। ফলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার প্রভাব আবাসিক এলাকায় তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হতে পারে। যেসব পরিবার নিয়মিত রান্নার কাজে পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহার করে, তাদের জন্য নির্ধারিত সময়টি আগে থেকেই জানা থাকলে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।

একই সঙ্গে রেস্টুরেন্ট, হোটেল, খাবারের দোকান, বেকারি ও অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সাময়িক গ্যাস সংকটে পড়তে পারে। যেসব প্রতিষ্ঠান রান্না বা খাদ্য প্রস্তুতের কাজে গ্যাস ব্যবহার করে, তাদের কার্যক্রম নির্ধারিত ছয় ঘণ্টায় সীমিত রাখতে হতে পারে অথবা বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরও মেরামত কাজের সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

তিতাস গ্যাস জানিয়েছে, এটি একটি জরুরি মেরামত কার্যক্রম। পাইপলাইনের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময় পুরোনো বা সমস্যাগ্রস্ত পাইপলাইনে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে হয়। এ ধরনের কাজের সময় সংশ্লিষ্ট পাইপলাইনে গ্যাস প্রবাহ বন্ধ রাখা প্রয়োজন হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে সরবরাহ স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর নির্ধারিত সময় শেষ হলেই সব এলাকায় একই মুহূর্তে স্বাভাবিক চাপ ফিরে নাও আসতে পারে। তিতাস গ্যাসের বিজ্ঞপ্তিতে তৎসংলগ্ন এলাকায় সাময়িক স্বল্পচাপের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ সরবরাহ চালু হলেও আশপাশের কিছু এলাকায় গ্রাহকেরা কিছু সময়ের জন্য স্বাভাবিকের তুলনায় কম গ্যাসের চাপ পেতে পারেন।

গ্যাসের স্বল্পচাপ হলে রান্নার চুলায় আগুনের মাত্রা কমে যেতে পারে। এতে খাবার প্রস্তুত করতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবার বা প্রতিষ্ঠান একই সময়ে একাধিক চুলা ব্যবহার করে, তাদের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা বেশি অসুবিধার হতে পারে। তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে এই সাময়িক পরিস্থিতির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

রাজধানীর অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধের ঘটনা নতুন নয়। নগরীর পুরোনো ও ব্যস্ত এলাকাগুলোতে গ্যাস পাইপলাইনের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত বা জরুরি কারিগরি কাজের কারণে বিভিন্ন সময়ে সাময়িক সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। একদিকে পুরোনো অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের দৈনন্দিন জীবন সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহও জরুরি। ফলে মেরামতকাজের সময়সূচি এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করার বিষয়টি গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আগামীকাল শনিবারের নির্ধারিত মেরামত কাজের ক্ষেত্রেও সময়সীমা ছয় ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ থাকার কথা জানানো হলেও মেরামত কাজের বাস্তব অগ্রগতি এবং পরবর্তী কারিগরি প্রক্রিয়ার ওপর সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সময় নির্ভর করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের নির্ধারিত সময়ের আগে নিজেদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে যেসব পরিবারে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি বা অসুস্থ সদস্য রয়েছেন, তাদের দৈনন্দিন খাবারের বিষয়টি আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখা প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে রান্নার ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসা ও খাদ্যপ্রতিষ্ঠানগুলোরও ছয় ঘণ্টার সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করা দরকার।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকাকালে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের ভেতরে অনিরাপদভাবে কোনো জ্বালানি ব্যবহার করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই সাময়িক সংকট মোকাবিলায় পরিবারগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আগে চুলা ও গ্যাসের সংযোগ যথাযথভাবে বন্ধ রাখাও জরুরি।

রাজধানীর যেসব এলাকায় আগামীকাল গ্যাস থাকবে না, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্ধারিত সময় সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত থাকা। কারণ হঠাৎ করে রান্নার সময় গ্যাস না পেলে দৈনন্দিন কাজে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। আগে থেকে সময় জানা থাকলে অনেক পরিবার রান্না এগিয়ে নেওয়া বা প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা করার সুযোগ পাবে।

তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জরুরি মেরামত কাজের কারণে এই সাময়িক অসুবিধা তৈরি হচ্ছে। মেরামত শেষ হলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। গ্রাহকদের অসুবিধার জন্য সংস্থাটি দুঃখ প্রকাশ করেছে।

রাজধানীর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ঘনবসতিপূর্ণ বেশ কিছু এলাকা এই সরবরাহ বন্ধের আওতায় থাকায় আগামীকাল দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ এর প্রভাব অনুভব করতে পারেন। বিশেষ করে ডেমরা, মাতুয়াইল, শনির আখড়া, জুরাইন, পোস্তগোলা, ধোলাইপার ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচপুর ব্রিজ থেকে সুলতানা কামাল ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাতেও সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

গ্যাস সরবরাহের মতো মৌলিক নাগরিক সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার খবর সাধারণ মানুষের কাছে সবসময়ই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে পাইপলাইনের জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয়। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ দ্রুত ও নিরাপদে সম্পন্ন করে সরবরাহ স্বাভাবিক করাই এখন সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান দায়িত্ব।

শনিবারের এই ছয় ঘণ্টার সাময়িক সংকট তাই রাজধানীর নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের জন্য দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা অসুবিধা তৈরি করলেও এটি একটি নির্ধারিত কারিগরি কাজের অংশ। গ্রাহকদের আগাম প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভোগান্তি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা সম্ভব। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেরামত কাজ শেষ করে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে—এটাই এখন সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের প্রধান প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত