এআই চিপের চাহিদায় রেকর্ড মুনাফার পথে টিএসএমসি

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪ বার
এআই চিপের চাহিদায় রেকর্ড মুনাফার পথে টিএসএমসি

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের চিত্র বদলে দিচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এআই অবকাঠামো নির্মাণ, শক্তিশালী প্রসেসর তৈরি এবং উন্নত কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি)। এআই চিপের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সুবাদে প্রতিষ্ঠানটি টানা ষষ্ঠ প্রান্তিকেও রেকর্ড মুনাফা অর্জনের পথে রয়েছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের ধারণা, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বাড়তে পারে।

বিশ্বের বৃহত্তম উন্নত চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিএসএমসির এই সম্ভাব্য সাফল্য শুধু একটি কোম্পানির আর্থিক অগ্রগতির গল্প নয়; বরং এটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি অর্থনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরও প্রতিফলন। এআই মডেল প্রশিক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা পরিচালনার জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপের প্রয়োজন বাড়ছে। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান এসব চিপ উৎপাদনের প্রযুক্তি ও সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের ব্যবসায়িক গুরুত্বও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে টিএসএমসির নিট মুনাফা ৭৪৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন তাইওয়ান ডলারে পৌঁছাতে পারে। মার্কিন মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের ১৬ জন বিশ্লেষকের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। যদিও এটি বিশ্লেষকদের অনুমান, প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক আয়ের প্রবৃদ্ধি সেই পূর্বাভাসের পেছনে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।

গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্যে টিএসএমসি জানিয়েছে, তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এই আয় বাজারের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। ফলে বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে কোম্পানিটির মুনাফা নিয়ে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। চূড়ান্ত আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পরই বোঝা যাবে, বিশ্লেষকদের অনুমান কতটা সঠিক হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি সত্যিই টানা ষষ্ঠ প্রান্তিকে রেকর্ড মুনাফার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পেরেছে কি না।

টিএসএমসির প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এআই অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগ। বিশ্বজুড়ে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো উন্নত এআই মডেল তৈরি, তথ্যকেন্দ্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্রুততর কম্পিউটিং ব্যবস্থার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। এসব ব্যবস্থায় ব্যবহৃত চিপ সাধারণ প্রসেসরের তুলনায় অনেক বেশি জটিল ও উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি হয়। সেই চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় টিএসএমসির মতো কোম্পানিগুলো বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে।

এআই প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শুধু চিপের সংখ্যাই বাড়ছে না, বাড়ছে চিপের কর্মক্ষমতা, বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতা এবং একাধিক উপাদানকে একসঙ্গে যুক্ত করার প্রযুক্তির গুরুত্বও। এ ক্ষেত্রে উন্নত চিপ প্যাকেজিং প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। টিএসএমসির কো-ডব্লিউওএস বা CoWoS প্রযুক্তি বিভিন্ন চিপ ও উপাদানকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্যাকেজে একত্র করার সুযোগ দেয়। বিশেষ করে এআই কম্পিউটিংয়ে ব্যবহৃত উন্নত প্রসেসর ও সংশ্লিষ্ট মেমোরি ব্যবস্থার জন্য এই প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে চিপ উৎপাদনের পাশাপাশি প্যাকেজিং সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া ও অ্যাপল টিএসএমসির গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক। এনভিডিয়ার এআই প্রসেসর এবং অ্যাপলের বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তিপণ্যে ব্যবহৃত চিপ তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা রয়েছে। এআই প্রযুক্তির বাজার সম্প্রসারণের ফলে এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের উন্নত চিপের চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে স্মার্টফোন ও অন্যান্য ব্যক্তিগত প্রযুক্তিপণ্যে উন্নত প্রসেসরের প্রয়োজনীয়তাও টিএসএমসির জন্য ব্যবসার সুযোগ তৈরি করছে।

এই অবস্থান টিএসএমসিকে এশিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিগুলোর শীর্ষে নিয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের প্রায় দ্বিগুণ। বাজারমূল্যের এই ব্যবধান উন্নত চিপ উৎপাদন ও এআই অবকাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় টিএসএমসির গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে শেয়ারবাজারের মূল্যায়ন ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার ওপরও নির্ভর করে। তাই উচ্চ বাজারমূল্য ধরে রাখতে হলে প্রতিষ্ঠানটিকে উৎপাদন সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং মুনাফার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

শক্তিশালী চাহিদার কারণে চলতি বছরের বার্ষিক আয় বৃদ্ধির পূর্বাভাসও বাড়াতে পারে কোম্পানিটি। গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মরগান স্ট্যানলির বিশ্লেষক চার্লি চ্যান বলেন, তিন ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি চিপের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে টিএসএমসি পুরো বছরের আয় বৃদ্ধির পূর্বাভাস বর্তমান ৪০ শতাংশের বেশি অবস্থান থেকে আরও বাড়িয়ে ৪০ শতাংশের নিম্ন থেকে মধ্যবর্তী পরিসরে নিতে পারে। তিন ন্যানোমিটার প্রযুক্তি অত্যাধুনিক চিপ উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই প্রযুক্তিতে তৈরি চিপের মাধ্যমে উচ্চ কর্মক্ষমতা ও তুলনামূলক উন্নত শক্তি-দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। তবে এসব চিপ উৎপাদন করতে অত্যন্ত ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি, উন্নত প্রযুক্তি এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

বিনিয়োগকারীদের জন্য টিএসএমসির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে বছরের শেষ প্রান্তিকের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা এবং পুরো বছরের আয়সংক্রান্ত হালনাগাদ পূর্বাভাস। কোম্পানিটি আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এআই চিপের চাহিদা কত দিন একই গতিতে বাড়বে, উৎপাদন ব্যয় কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং নতুন কারখানাগুলো থেকে কখন পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন পাওয়া যাবে—এসব বিষয় ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতে টিএসএমসি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে চিপ কারখানা নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটি মোট ২৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে গত জুলাইয়ে ঘোষিত অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন সম্প্রসারণের মাধ্যমে কোম্পানিটি বড় গ্রাহকদের কাছাকাছি উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি এবং সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি মোকাবিলার সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে উন্নত চিপের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ প্রযুক্তি খাতের বৃহত্তর শিল্পনীতির সঙ্গেও সম্পর্কিত।

তবে এত বড় বিনিয়োগের সঙ্গে রয়েছে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ। উন্নত সেমিকন্ডাক্টর কারখানা নির্মাণে বিপুল মূলধন, দক্ষ কর্মী, নির্ভরযোগ্য সরবরাহব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। কারখানা নির্মাণ শেষ হলেও পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতায় পৌঁছাতে সময় লাগে। ফলে বাজারের চাহিদা ও উৎপাদন সক্ষমতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা টিএসএমসির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সম্ভাব্য সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা চলছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, টিএসএমসি সেখানে বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এদিকে টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, তাঁর বিভিন্ন কোম্পানি ‘টেরাফ্যাব’ নামে একটি এআই চিপ উৎপাদন কমপ্লেক্স নির্মাণ ও পরিচালনা করবে। ওই স্থাপনার কোনো অংশ টিএসএমসি সাবলিজ নিয়ে ব্যবহার করতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। তবে এ ধরনের সম্ভাবনা এবং বাস্তবায়িত বিনিয়োগের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; টেক্সাসে সম্প্রসারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সময়সূচি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে পরিকল্পনা বা সম্ভাবনা হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

মরগান স্ট্যানলির বিশ্লেষক চার্লি চ্যানের মতে, গ্রাহকদের চাহিদা বাড়তে থাকলে এবং অ্যারিজোনায় জমির সীমাবদ্ধতা দেখা দিলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে টেক্সাসে সম্প্রসারণ প্রয়োজন হতে পারে। বিপরীতে বিনিয়োগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান মর্নিংস্টারের জ্যেষ্ঠ শেয়ার বিশ্লেষক ফেলিক্স লি মনে করেন, এখনই সেখানে নতুন করে সম্প্রসারণের তেমন জরুরি প্রয়োজন নেই। তাঁর যুক্তি, অ্যারিজোনায় পরিকল্পিত কয়েকটি কারখানার নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। সেগুলো পুরোপুরি চালু হওয়ার আগে নতুন স্থাপনায় বড় বিনিয়োগ করলে ব্যয় ও উৎপাদন পরিকল্পনার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

লি মনে করেন, ২০৩০ বা ২০৪০-এর দশকে বড় পরিসরে সম্প্রসারণের জন্য টেক্সাস ভালো স্থান হতে পারে। সেখানে দীর্ঘদিনের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পব্যবস্থা এবং দক্ষ জনবলের উপস্থিতি রয়েছে। তবে সম্ভাব্য সম্প্রসারণের সময় নির্ধারণে শুধু বর্তমান চাহিদা নয়, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, উৎপাদন ব্যয়, বাজারের প্রবণতা এবং গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও বিবেচনায় নিতে হবে।

উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে টিএসএমসির মূলধনি ব্যয়ের পূর্বাভাসেও। গত জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের মূলধনি ব্যয়ের সম্ভাব্য পরিমাণ বাড়িয়ে ৬০ থেকে ৬৪ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করে। এর আগে পূর্বাভাস ছিল ৫২ থেকে ৫৬ বিলিয়ন ডলার। এই ব্যয়ের বড় অংশ উৎপাদন অবকাঠামো, উন্নত প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরিতে ব্যয় হওয়ার কথা। বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বাজারে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইলেও এসব ব্যয় থেকে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পেতে দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন ও বিক্রয় পরিকল্পনা সফল হওয়া প্রয়োজন।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত তাইওয়ানের শেয়ারবাজারে টিএসএমসির শেয়ারের দাম ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে দেশটির সামগ্রিক শেয়ারবাজার সূচক বেড়েছে ৬৯ শতাংশ। এই তুলনা দেখায়, কোম্পানিটির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি ঘটলেও সামগ্রিক বাজারও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতে শেয়ারের দাম কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে আর্থিক ফলাফল, এআই চিপের চাহিদা, বিনিয়োগের কার্যকারিতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

সব মিলিয়ে, টিএসএমসির সম্ভাব্য ষষ্ঠ প্রান্তিকের রেকর্ড মুনাফা বিশ্ব অর্থনীতিতে এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। উন্নত চিপের চাহিদা কোম্পানিটির আয় বাড়াচ্ছে এবং উৎপাদন সম্প্রসারণে নতুন বিনিয়োগের পথ তৈরি করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে বিপুল মূলধনি ব্যয়ের যথাযথ ব্যবহার, উৎপাদন সক্ষমতার সময়মতো সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব বজায় রাখা জরুরি। এআই খাতের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে টিএসএমসির সামনে আরও বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে; কিন্তু সেই সুযোগকে টেকসই মুনাফায় রূপান্তর করাই হবে প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী বড় পরীক্ষা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com