প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম ১৪ দিনের দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। তাঁর এ সফরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়, মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটিতে দাওয়াতি সভায় বক্তব্য এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে চরমোনাই পীর প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটির আয়োজনে ধর্মীয় আলোচনা ও দাওয়াতি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া ব্যবসায়ী এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন তিনি। তবে সফরের প্রতিটি কর্মসূচির স্থান, সময় এবং অংশগ্রহণকারীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মঙ্গলবার বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানাতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলটির পক্ষ থেকে সফরটিকে ধর্মীয় দাওয়াত, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে মতবিনিময়ের একটি উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসীরা একদিকে নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখার চেষ্টা করেন, অন্যদিকে নতুন সমাজের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নাগরিক জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলেন। এ বাস্তবতায় ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সফর প্রবাসী কমিউনিটির সদস্যদের একত্র হওয়ার, ধর্মীয় আলোচনা শোনার এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
দাওয়াতি কার্যক্রমের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। মসজিদ ও কমিউনিটিকেন্দ্রিক আয়োজন প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ধরনের সফরের প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করে আয়োজিত কর্মসূচির বিষয়বস্তু, স্থানীয় কমিউনিটির অংশগ্রহণ এবং আলোচনার ধারাবাহিকতার ওপর।
চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির হিসেবে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত। তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফরে ধর্মীয় দাওয়াতি কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পরিকল্পনা থাকায় সফরটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও তৈরি করতে পারে। তবে এসব আলোচনায় কী কী বিষয় গুরুত্ব পাবে বা কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, তা সফরের কর্মসূচি ও পরবর্তী বক্তব্যের ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি দেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। সৌদি আরবগামী বা সৌদি আরব থেকে যাতায়াতের পরিকল্পনা করা প্রবাসী শ্রমিকদের ফ্লাইট বাতিলের কারণে সৃষ্ট ভোগান্তি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন। সংগঠনটি দাবি করেছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বহু প্রবাসী শ্রমিক আটকে পড়েছেন। তাঁদের থাকা-খাওয়া এবং টিকিটের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান বলেন, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হামলার কারণে ৬০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে তাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক ঢাকার বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, সীমিত আয়ের এসব শ্রমিকের অনেকের পক্ষেই ঢাকায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করে নিজেদের খাবার ও থাকার খরচ বহন করা কঠিন।
সংগঠনটির সভাপতি সরকারের কাছে আটকে পড়া শ্রমিকদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বাতিল হওয়া ফ্লাইটের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীরা শুধু যাতায়াতের অনিশ্চয়তায় পড়ছেন না, বরং অতিরিক্ত খরচ ও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতেও রয়েছেন। তবে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর প্রকৃত সংখ্যা এবং রিফান্ডের অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তথ্য ছাড়া দাবিগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
বিদেশে কর্মরত বা কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য সময় ও অর্থ—দুটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শ্রমিক ঋণ করে, পরিবারের সঞ্চয় ব্যয় করে কিংবা জমিজমা বন্ধক রেখে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। যাত্রার দিন ফ্লাইট বাতিল হলে তাঁদের পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে। ঢাকায় অবস্থান দীর্ঘায়িত হলে খাবার, আবাসন, স্থানীয় যাতায়াত এবং নতুন করে টিকিটের ব্যবস্থা করার খরচ বাড়তে পারে। যাঁদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য বা ছোট শিশু থাকে, তাঁদের ভোগান্তি আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করা জরুরি। ফ্লাইট বাতিলের কারণ, সম্ভাব্য নতুন যাত্রার সময়, টিকিট পরিবর্তনের নিয়ম এবং অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস ও কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলে যাত্রীরা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। একই সঙ্গে যাঁরা বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় আটকে থাকেন, তাঁদের জন্য পানি, খাবার, বিশ্রামের জায়গা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা মানবিক দায়িত্বের অংশ।
ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকার, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস, জনশক্তি ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত দপ্তর এবং প্রবাসীকল্যাণের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। টিকিটের অর্থ ফেরত বা বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে যাত্রীদের অধিকার ও প্রযোজ্য নিয়ম পরিষ্কারভাবে জানানো প্রয়োজন। পাশাপাশি যাঁরা বিদেশে চাকরিতে যোগ দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাঁদের নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা করা গেলে অনিশ্চয়তা কমতে পারে।
চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের দাবি—দুটি পৃথক ঘটনা হলেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তাঁদের কল্যাণের প্রশ্নে উভয় বিষয়েই মানুষের আগ্রহ রয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক মতবিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে, অন্যদিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রাকারী শ্রমিকদের ভোগান্তি মোকাবিলায় সহায়তার দাবি উঠেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবন বাস্তবতায় ধর্মীয় ও সামাজিক সংযোগের পাশাপাশি নিরাপদ যাতায়াত, আর্থিক সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকর সহায়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
চরমোনাই পীরের ১৪ দিনের সফরে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কী ধরনের আলোচনা হয় এবং সফর শেষে কী বার্তা আসে, সেদিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের। একই সঙ্গে সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বাতিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের পরিস্থিতি, বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা এবং টিকিটের অর্থ ফেরতের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় যোগাযোগের পাশাপাশি প্রবাসীদের বাস্তব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে বিদেশে থাকা ও বিদেশগামী বাংলাদেশিদের জন্য তা বাস্তব উপকার বয়ে আনতে পারে।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত