‘দৃশ্যম ৩’-এর বিশ্বব্যাপী আয় ৫০০ কোটি রুপি ছাড়াল

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৪ বার
‘দৃশ্যম ৩’-এর বিশ্বব্যাপী আয় ৫০০ কোটি রুপি ছাড়াল

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে দাপট অব্যাহত রেখেছে বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগণের রহস্য-রোমাঞ্চধর্মী সিনেমা ‘দৃশ্যম ৩: দ্য কনক্লুশন’। মুক্তির ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও দর্শকদের আগ্রহ ধরে রেখেছে সিনেমাটি। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী ছবিটির মোট আয় ৫০০ কোটি রুপির গণ্ডি ছাড়িয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ভালো ব্যবসা করায় সিনেমাটি চলতি বছরের অন্যতম সফল হিন্দি চলচ্চিত্র হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে। একই সঙ্গে এটি অজয় দেবগণের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা হিসেবে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে বলে প্রকাশিত বক্স অফিসের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বক্স অফিসের পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির ১২তম দিনে ভারতে সিনেমাটি থেকে নেট আয় হয়েছে ৮ কোটি ৫০ লাখ রুপি। এদিন দেশটির ১৪ হাজার ৮৪৬টি প্রদর্শনী থেকে এই আয় আসে। এর ফলে ভারতের বাজারে ‘দৃশ্যম ৩’-এর মোট নেট আয় দাঁড়িয়েছে ৩২৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি। অন্যদিকে, করসহ মোট গ্রস আয় পৌঁছেছে ৩৮৭ কোটি ৮০ লাখ রুপিতে। আন্তর্জাতিক বাজারের আয় যুক্ত করার পর সিনেমাটির বিশ্বব্যাপী মোট গ্রস আয় হয়েছে ৫০১ কোটি ৮০ লাখ রুপি।

ভারতের বাইরের বাজারেও সিনেমাটির সাফল্য উল্লেখযোগ্য। মুক্তির ১২তম দিনে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আরও ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করেছে ছবিটি। এতে বিদেশের বাজারে এর মোট গ্রস আয় দাঁড়িয়েছে ১১৪ কোটি রুপি। ভারতীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছেও সিনেমাটির গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হওয়ায় এর সামগ্রিক ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে বিভিন্ন বক্স অফিস পর্যবেক্ষণ সংস্থার হিসাবের পদ্ধতি এবং আয় গণনার সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে। সে কারণে চূড়ান্ত আয়ের ক্ষেত্রে পরবর্তী হালনাগাদ পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

‘দৃশ্যম ৩’-এর এই সাফল্যের অন্যতম দিক হলো মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহেও দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখা। সাধারণত কোনো সিনেমা মুক্তির প্রথম কয়েক দিনে ব্যাপক প্রচার, তারকা অভিনয়শিল্পীদের জনপ্রিয়তা এবং উদ্বোধনী প্রদর্শনীর চাহিদার কারণে বড় আয় করতে পারে। কিন্তু পরবর্তী দিনগুলোতে সেই গতি ধরে রাখতে হলে দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া, গল্পের আকর্ষণ এবং মুখে মুখে প্রচারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ‘দৃশ্যম ৩’-এর বক্স অফিসের ধারাবাহিকতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, রহস্য ও উত্তেজনানির্ভর গল্পের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ এখনো প্রবল।

চলতি বছরের সর্বোচ্চ আয় করা হিন্দি সিনেমার তালিকায় ‘ধুরন্ধর ২’-এর পর দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ‘দৃশ্যম ৩’ বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজয় দেবগণের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা হিসেবেও এটি পরিচিতি পেয়েছে। ভারতের বাজারে ৩০০ কোটি রুপির বেশি নেট আয় করা তাঁর প্রথম সিনেমা হিসেবেও ছবিটি নতুন রেকর্ড গড়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একজন অভিনেতার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এমন বাণিজ্যিক সাফল্য তাঁর তারকাখ্যাতির পাশাপাশি দর্শকদের কাছে নির্দিষ্ট ধরনের গল্প ও চরিত্রের গ্রহণযোগ্যতাকেও সামনে নিয়ে আসে।

অজয় দেবগণ দীর্ঘদিন ধরে বলিউডে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে আসছেন। অ্যাকশন, পারিবারিক নাটক, কমেডি এবং রহস্যনির্ভর গল্প—বিভিন্ন ধারার সিনেমায় তাঁর উপস্থিতি রয়েছে। ‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তাঁর অভিনীত চরিত্রটি বিশেষভাবে পরিচিত, কারণ এখানে প্রচলিত নায়কোচিত অ্যাকশনের পরিবর্তে বুদ্ধি, পরিকল্পনা, মানসিক চাপ এবং পারিবারিক সম্পর্ক গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। এই চরিত্রের মাধ্যমে দর্শক এমন একজন মানুষকে দেখেন, যিনি জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও নিজের পরিবারকে রক্ষা করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করেন।

সিনেমাটির আরেকটি বড় আকর্ষণ এর রহস্যনির্ভর কাহিনি। ‘দৃশ্যম’ সিরিজের গল্পে কোনো ঘটনার সত্যতা, প্রমাণের ব্যাখ্যা এবং তদন্তের গতিপথ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। গল্পের বিভিন্ন সূত্র ধীরে ধীরে সামনে আসার কারণে দর্শককে চরিত্রগুলোর বক্তব্য ও আচরণ বিশ্লেষণ করতে হয়। এই ধরনের চলচ্চিত্রে শুধু ঘটনার পরিণতি নয়, বরং সেই পরিণতিতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াও দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখে। ফলে রহস্যের পাশাপাশি চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক দিকও সিনেমার আকর্ষণের অংশ হয়ে ওঠে।

অভিনয়ের ক্ষেত্রেও প্রশংসা পাচ্ছে ‘দৃশ্যম ৩’। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় চলচ্চিত্র সমালোচক শৈবাল চ্যাটার্জি অজয় দেবগণ ও জয়দীপ আহলাওয়াতের অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মূল্যায়নে অজয় দেবগণ নিজের অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করেছেন। অন্যদিকে, জয়দীপ আহলাওয়াতের অভিনয় সিনেমাটিতে বাড়তি গভীরতা তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই অভিনেতার উপস্থিতি গল্পের উত্তেজনা ও চরিত্রগুলোর সংঘাতকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে বলে পর্যালোচনায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

জয়দীপ আহলাওয়াত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজে শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর অভিনয়ের বৈশিষ্ট্য হলো চরিত্রের মানসিক অবস্থাকে সংলাপের পাশাপাশি অভিব্যক্তি ও আচরণের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা। রহস্যনির্ভর সিনেমায় এমন অভিনয় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ চরিত্রের উদ্দেশ্য সব সময় স্পষ্ট থাকে না। অন্যদিকে, অজয় দেবগণের সংযত অভিনয় এবং টাবুর মতো অভিজ্ঞ শিল্পীর উপস্থিতি সিনেমাটির অভিনয়শিল্পীদের সমন্বয়কে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীদের একটি অংশ।

অভিষেক পাঠক পরিচালিত সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে প্যানোরামা স্টুডিওস ও স্টার স্টুডিও১৮। ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দৃশ্যম ২’-এর পরবর্তী কিস্তি হিসেবে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। তবে আগের কিস্তিগুলোর মতো মালয়ালম সংস্করণের সরাসরি অনুসরণে নয়, বরং সম্পূর্ণ মৌলিক গল্পের ভিত্তিতে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ভবিষ্যৎ গল্প নির্মাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরিচিত চরিত্র ও গল্পের আবহ বজায় রেখেও নতুন কাহিনি দর্শকদের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়।

সিনেমাটিতে অজয় দেবগণের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন জয়দীপ আহলাওয়াত, টাবু, শ্রিয়া শরণ, রজত কাপুর, প্রকাশ রাজ ও ইশিতা দত্ত। অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীদের সমন্বয় সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। রহস্যনির্ভর কাহিনিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র থাকলে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। সে ক্ষেত্রে অভিনয়শিল্পীদের পর্দায় উপস্থিতি, সংলাপ পরিবেশন এবং চরিত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা গল্পের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রভাবিত করে।

‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই প্রথম সিনেমা মুক্তির মধ্য দিয়ে। শুরু থেকেই পারিবারিক সম্পর্ক, অপরাধের রহস্য এবং তদন্তের জটিলতা নিয়ে নির্মিত গল্প দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করে। প্রথম সিনেমার সাফল্যের পর দ্বিতীয় কিস্তিও দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করে। সেই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় কিস্তির বাণিজ্যিক সাফল্য ফ্র্যাঞ্চাইজিটির জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়েছে। পরিচিত চরিত্রকে নতুন পরিস্থিতিতে উপস্থাপন করার পাশাপাশি গল্পে নতুন রহস্য যোগ করা এই সিরিজের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে সিনেমাটির বক্স অফিসে এই গতি কত দিন বজায় থাকবে, তা নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর একাধিক হিন্দি সিনেমা মুক্তির কথা রয়েছে। নতুন ছবিগুলো প্রেক্ষাগৃহে আসার পর দর্শকদের মনোযোগ ও প্রদর্শনীর সময় ভাগ হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে নতুন কোনো বড় বাজেটের সিনেমা ভালো সাড়া পেলে চলমান ছবির দৈনিক আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকলে প্রতিযোগিতার মধ্যেও কোনো সিনেমা শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারে।

বক্স অফিসে ৫০০ কোটি রুপির মাইলফলক অতিক্রম করা নিঃসন্দেহে ‘দৃশ্যম ৩’-এর জন্য বড় অর্জন। তবে একটি সিনেমার সাফল্য শুধু মোট আয়ের অঙ্ক দিয়ে পুরোপুরি বিচার করা যায় না। নির্মাণ ব্যয়, প্রচার ও বিপণনের খরচ, পরিবেশক ও প্রেক্ষাগৃহের অংশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের আয় বণ্টনের মতো বিষয়ও এর আর্থিক ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত। ফলে বিশ্বব্যাপী মোট আয় এবং নির্মাতা বা প্রযোজকের প্রকৃত আর্থিক লাভ এক বিষয় নয়। তা সত্ত্বেও বিপুল দর্শকসংখ্যা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত অবস্থান সিনেমাটির বাণিজ্যিক গুরুত্ব তুলে ধরে।

সব মিলিয়ে ‘দৃশ্যম ৩: দ্য কনক্লুশন’ অজয় দেবগণের ক্যারিয়ারে নতুন সাফল্যের অধ্যায় যোগ করেছে। রহস্যনির্ভর কাহিনি, পরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ, অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পীদের উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা—সবকিছু মিলিয়ে ছবিটি বক্স অফিসে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন সিনেমার প্রতিযোগিতার মধ্যেও এটি কতটা আয় ধরে রাখতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মোট সংগ্রহ কোথায় গিয়ে পৌঁছায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com