১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫ বার
১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের পরিবেশ, প্রস্তুতি, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিতে এই সংলাপের আয়োজন করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ হতে পারে। এরপর ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে। ইসি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় সেই সংলাপ বাতিল করা হয়। পরবর্তী সময়ে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নতুন করে রোডম্যাপ তৈরি করে কমিশন। সেই রোডম্যাপ অনুযায়ী পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন নির্বাচনের সময়সূচি সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবারও আলোচনা করতে চায় সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠান।

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের জন্য ইসি সচিবালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে। কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পর সংলাপের তারিখ ও অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি দল থেকে দুজন করে প্রতিনিধি এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

ইসির কর্মকর্তাদের মতে, জাতীয় নির্বাচন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার পর এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই ধরনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় কমিশন। ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাদের সঙ্গে আগেই আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নেওয়ার লক্ষ্যেই এই সংলাপের আয়োজন করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করলে সম্ভাব্য জটিলতা চিহ্নিত করা এবং সেগুলো সমাধানের পথ খুঁজে বের করা সহজ হবে বলে মনে করছে কমিশন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সবচেয়ে সরাসরি সম্পর্কিত নির্বাচনী প্রক্রিয়াগুলোর একটি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্বের কাঠামো গড়ে ওঠে। ফলে ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ যেমন থাকে, তেমনি প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও ব্যাপক প্রস্তুতি দেখা যায়। দীর্ঘদিন পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় এবারও মাঠপর্যায়ে এ নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক তৎপরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ১২ অক্টোবর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচ ধাপে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১ জানুয়ারি। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ও শেষ ধাপে ২৭ মে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ধারাবাহিক ভোট আয়োজন।

ইসি জানিয়েছে, ধাপে ধাপে ভোট গ্রহণের আগে পর্যায়ক্রমে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী ডিসেম্বর থেকেই বিভিন্ন ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা শুরু হতে পারে। তবে ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট যেহেতু ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, তাই সেই ভোটের তফসিল ডিসেম্বরের শুরুতেই ঘোষণা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ কারণে নভেম্বরের শেষ দিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ আয়োজনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী ২১ জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরু হয়ে ২৭ মে শেষ হবে। ভোট গ্রহণের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই হিসাবে প্রথম ধাপের নির্বাচনের আগে নভেম্বরের শেষ দিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিকে নির্বাচন কমিশন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ নির্বাচনের মাঠে রাজনৈতিক দল, সম্ভাব্য প্রার্থী, স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের প্রত্যাশা এবং বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের তথ্য পাওয়া সংলাপের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনের ভূমিকা এবং ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতাও চাইতে পারে কমিশন।

এদিকে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায়ও ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে কমিশন। বিপুলসংখ্যক ইউনিয়নে একসঙ্গে ভোট আয়োজনের পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে ভোট হলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপ তুলনামূলকভাবে ভাগ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী উপকরণ সরবরাহ, ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত এবং মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টনের কাজও ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়েও আগেভাগে সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। নির্বাচন কমিশনের জন্য তাই ভোটের তারিখ নির্ধারণের পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় সমান সুযোগ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের বর্তমান পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ এবং এরপর ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। সম্ভাব্য প্রার্থী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ভোটারদের মধ্যেও তখন নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন মূল নজর নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নভেম্বরের শেষ দিকে সংলাপ অনুষ্ঠিত হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ও পরামর্শের পর ডিসেম্বরের শুরু থেকেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোট দিয়ে যে যাত্রা শুরু হবে, তা পাঁচ ধাপে ২৭ মে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এর আগে তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়বে এবং দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠবে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com