সর্বশেষ :

সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারে সোচ্চার গণমাধ্যম

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৩ বার
সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারে সোচ্চার গণমাধ্যমকর্মী

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের হত্যাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ জনগণ। নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে এবং নিহতের গ্রামের বাড়ি কলমাকান্দায় আয়োজিত জোড়া মানববন্ধনে উপস্থিত সাংবাদিকেরা অভিযোগ করেন যে, পেশাগত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বলি হতে হয়েছে তরুণ এই সংবাদকর্মীকে। দেশের স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ রক্ষা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে আলিফ হত্যার নেপথ্যে থাকা মূল অপরাধী ও পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে চরম দৃষ্টান্ত স্থাপনের জোরালো দাবি জানান বক্তারা।

বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর সকাল ১১টায় নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে ঘণ্টাব্যাপী এক বিশাল ও শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। রুরাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন বা আরজেএফ নেত্রকোনা জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের কর্মরত সংবাদকর্মীরা সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন। আরজেএফ নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি সুজাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এরশাদুল হকের দক্ষ সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সহসভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, প্রবীণ সাংবাদিক ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি শ্যামলেন্দু পাল এবং আরজেএফের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম সহ প্রমূখ।

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী তাঁর ক্ষুব্ধ বক্তব্যে বলেন যে, অতীতে সাংবাদিক সাগর-রুনির মতো অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ দিনেও বিচার না হওয়ার এক মর্মান্তিক ও নেতিবাচক নজির তৈরি হয়েছে। এই ধরনের বিচারহীনতার ভয়াবহ সংস্কৃতি সাংবাদিকদের জীবনকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আমাদের এই বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি থেকে অবিলম্বে বের হয়ে আসতে হবে এবং রাষ্ট্রকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। অন্যান্য বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পেশাগত কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সাংবাদিকরা অপরাধীদের টার্গেটে পরিণত হবেন আর বিচার মিলবে না—এমন অরাজক পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অনতিবিলম্বে আলিফ হত্যার সাথে যুক্ত প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

একই দিন সকালে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের গ্রামের বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার সুনই এলাকায় এক আবেগঘন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। দশধার-পোগলা সড়কের সুনই ফকিরবাড়ি মোড় এলাকায় আলিফের শোকাহত পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর যৌথ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত আলিফের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম ফকির বলেন যে, তাঁর ভাই সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন চোরাচালান, অনিয়ম ও অপরাধ চক্র নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করতেন। অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের কারণে অপরাধী চক্র ক্ষিপ্ত হয়েই অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। ভাই হারানোর বেদনা চেপে তিনি বলেন যে, তিনি তো তাঁর প্রিয় ভাইকে আর কখনো ফিরে পাবেন না, তবে যারা তাকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তিনি কেবল তাদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চান।

বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর সকাল ১১টায় নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে শত শত গণমাধ্যমকর্মীর অংশগ্রহণে ঘণ্টাব্যাপী এক বিশাল ও অভূতপূর্ব মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। রুরাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন বা আরজেএফ নেত্রকোনা জেলা শাখার উদ্যমী উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। আরজেএফ নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি সুজাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এরশাদুল হকের দক্ষ পরিচালনায় আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রেখে সংহতি জানান জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সহসভাপতি ও প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ঐতিহ্যবাহী দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি শ্যামলেন্দু পাল এবং আরজেএফের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলামসহ স্থানীয় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিবর্গ।

মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী অত্যন্ত আক্ষেপ ও ক্ষোভের সাথে স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির মতো অত্যন্ত আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বহু বছর পার হয়ে গেলেও আজও তার সঠিক বিচার না হওয়ার এক করুণ নজির তৈরি হয়ে আছে। এই ধরণের দীর্ঘমেয়াদী বিচারহীনতার ভয়াবহ সংস্কৃতিই মূলত অপরাধী চক্রকে বারবার সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হতে এবং অস্ত্রের মুখে বাকস্বাধীনতা স্তব্ধ করতে উৎসাহিত করছে। তিনি স্পষ্ট কণ্ঠে বলেন যে, আমাদের এই নিকৃষ্ট বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি থেকে অবিলম্বে বের হয়ে আসতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সাংবাদিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক গ্যারান্টি দিতে হবে। অন্যান্য বক্তারাও তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন যে, পেশাগত অনুসন্ধানী কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা একের পর এক হত্যাকাণ্ডের শিকার হবেন অথচ মূল আসামিরা ক্ষমতার ছায়ায় পার পেয়ে যাবে—এমন ভয়াবহ চিত্র কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।

একই দিন সকালে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের গ্রামের বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার সুনই এলাকায় দেখা যায় এক অত্যন্ত বুকফাটা ও অশ্রুসজল দৃশ্য। সেখানকার দশধার-পোগলা প্রধান সড়কের সুনই ফকিরবাড়ি মোড় এলাকায় আলিফের শোকাহত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও সর্বস্তরের গ্রামবাসীর যৌথ ব্যানারে আয়োজিত এক সুবিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিলে স্থবির হয়ে পড়ে পথঘাট। কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহত আলিফের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম ফকির বলেন যে, তাঁর ভাই অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকার সংঘবদ্ধ চোরাচালান, মাদক বাণিজ্য ও নানা অবৈধ অনিয়ম নিয়ে প্রতিনিয়ত সামাজিক মাধ্যম ও টিভিতে সত্য সংবাদ প্রকাশ করতেন। এই অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের কারণেই স্থানীয় চোরাচালানি ও দুর্বৃত্তদের আঁতাত তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং পরিকল্পনা করে তাকে দিনে-দুপুরে গুলি করে হত্যা করে। ভাই হারানোর গভীর শোক চেপে তিনি অশ্রুসজল নয়নে বলেন, তিনি বা তাঁর পরিবার তো আর কোনো দিন তাঁদের ভালোবাসার ভাইটিকে ফিরে পাবেন না; তবে যারা অত্যন্ত নির্দয়ভাবে তাঁর প্রাণপ্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছে, তাদের ফাঁসির মঞ্চে দেখতে চান তারা।

মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজার সংলগ্ন নির্জন তেলনজিয়া এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত ও নৃশংস গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। তিনি জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত থেকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতেন। পাশাপাশি তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আলোচিত ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন, যার মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার চোরাচালান ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর ভেতরের খবর নিয়মিত প্রকাশ্যে আনতেন। এই হত্যাকাণ্ডের পরের দিনই নিহত আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ৭ থেকে ৮ জনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার ও বাকি মূল আসামিদের জালে তুলতে পুলিশের একাধিক চৌকস দল নিরবচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজার সংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তের অতর্কিত গুলিতে নিহত হন লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি জনপ্রিয় পেজ পরিচালনা করতেন, যেখানে সীমান্ত এলাকার সংঘবদ্ধ অপরাধ ও চোরাচালানের আদ্যোপান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরতেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মূল রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com