সর্বশেষ :

এনসিপির নতুন নীতিনির্ধারণী পর্ষদ পুনর্গঠন

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫ বার
এনসিপির নতুন নীতিনির্ধারণী পর্ষদ পুনর্গঠন

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের রাজনীতির সার্বিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করে পুনর্গঠিত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’। দলীয় কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সর্বোচ্চ স্তরের এই পরিষদ ঢেলে সাজানো হয়েছে। নতুন অন্তর্ভুক্তির পর বর্তমানে এই পর্ষদের সদস্যসংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে উন্নীত হয়েছে।

সংগঠনটির দপ্তর সেলের কর্মকর্তা সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ পুনর্গঠনের বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে এনসিপির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ভেরিফায়েড পাতায় পুনর্গঠিত রাজনৈতিক পর্ষদের এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি শেয়ার করা হলে তা দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত হতে থাকে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই পরিবর্তনকে সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে বিশ্লেষকরা ইতিবাচক চোখেই দেখছেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর নেতৃত্ব গঠন এবং নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৈচিত্র্য ও অভিজ্ঞতা যুক্ত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন করে পুনর্গঠিত পর্ষদে যুক্ত করা হয়েছে সংরক্ষিত নারী আসনের দুই সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম ও ডা. মাহমুদা আলম মিতুকে। নারী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ বাড়ানো ও জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব আরও জোরদার করার অভিপ্রায় থেকেই তাঁদের এই নীতি নির্ধারণী ফোরামে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুনর্গঠিত রাজনৈতিক পর্ষদের নেতৃত্বে রয়েছেন দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন। ফোরামের সিনিয়র সারিতে রয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ একাধিক তরুণ ও দক্ষ সংগঠক। তাঁদের মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে স্থান পেয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহ। একইভাবে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পদে পর্ষদে নিজেদের দায়িত্ব ধরে রেখেছেন মো. সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

একই সঙ্গে পর্ষদে স্থান পেয়েছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তক ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আতিক মুজাহিদ এবং জনপ্রিয় ছাত্রনেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ। তাঁদের উপস্থিতিতে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদের রাজনৈতিক বিশ্লেষণের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে দলটি।

তাছাড়াও সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী এই পর্ষদে নতুন ও অভিজ্ঞদের চমৎকার সমন্বয় ঘটাতে অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে আরিফুল ইসলাম আদীব, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন এবং সালেহ উদ্দিন সিফাতের। তৃণমূলের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে শুরু করে শীর্ষ রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় এই উদীয়মান নেতারা আগামী দিনে এনসিপির নীতিনির্ধারণ ও দলীয় কর্মসূচি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পর্ষদ পুনর্গঠনের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই তা এনসিপির ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পাতায় প্রচার করা হলে রাজনীতি সচেতন সাধারণ পাঠক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়। সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে নতুন এই পর্ষদ নিয়ে যেমন বেশ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তেমনি জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন অঙ্গনেও এটি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা ও পর্যালোচনা।

সংগঠনের বেশ কিছু দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, একটি দ্রুত বিকাশমান রাজনৈতিক দল হিসেবে সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া ও জাতীয় আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতেই সর্বোচ্চ স্তরে এই পরিবর্তন সাধন করা হয়েছে। এই পুনর্গঠনে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে সংরক্ষিত নারী আসনের দুজন সংসদ সদস্যের অন্তর্ভুক্তি। নুসরাত তাবাসসুম এবং ডা. মাহমুদা আলম মিতু—এই দুজন প্রতিশ্রুতিশীল সংসদ সদস্যকে নীতিনির্ধারণী রাজনৈতিক পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে এনসিপি কেবল নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকেই উৎসাহিত করেনি, বরং জাতীয় রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের কার্যকর ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ভূমিকার স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেছে। তাঁদের মত ও অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক পলিসি নির্ধারণে ইতিবাচক আলো ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুনর্গঠিত সর্বোচ্চ এই রাজনৈতিক পর্ষদের শীর্ষ নেতৃত্বে যথারীতি অবস্থান করছেন দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন। রাজপথের অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে গঠিত এই নেতৃত্বের পাশাপাশি সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পালন করবেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং তরুণ প্রজন্মের পরিচিত মুখ হাসনাত আব্দুল্লাহ। পর্ষদে একই সাথে নিজেদের অবস্থান ও দায়িত্ব অব্যাহত রেখেছেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পদে থাকা মো. সারজিস আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শীর্ষ পর্ষদে এই নেতৃত্বের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা দলকে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সাহায্য করবে।

এছাড়াও জাতীয় রাজনীতি, সংসদীয় ভূমিকা ও সামাজিক চিন্তার নানামুখী মেলবন্ধন ঘটাতে এই পর্ষদে রাখা হয়েছে একাধিক প্রতিশ্রুতিশীল আইনপ্রণেতা ও শিক্ষাবিদদের। সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আতিক মুজাহিদ এবং সংগঠক ও রাজনৈতিক কর্মী আব্দুল হান্নান মাসউদ এই নীতিনির্ধারণী ফোরামে তাদের বিশ্লেষণাত্মক অভিজ্ঞতা নিয়ে অবদান রাখবেন। সংসদীয় কার্যক্রমের সঙ্গে দলের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঠিক সুসমন্বয় ঘটাতে এই নেতাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এই সর্বোচ্চ ফোরামকে আরও বিস্তৃত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে রাজপথ থেকে উঠে আসা একঝাঁক উদ্যমী ও প্রতিভাবান তরুণকে যুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন আরিফুল ইসলাম আদীব, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন এবং সালেহ উদ্দিন সিফাত। এই তরুণ ও উদীয়মান নেতারা তৃণমূলের তৃণমূল পর্যায়ে গণমানুষের চাহিদা এবং রাজনৈতিক মনোভাব সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন। ফলে এনসিপির আগামী দিনের যেকোনো কর্মসূচি নির্ধারণ কিংবা জাতীয় ইস্যুতে তাদের নেওয়া যেকোনো রাজনৈতিক অবস্থান বাস্তবমুখী ও জনবান্ধব করতে এই নবীন নেতৃত্বের অবদান অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে।

সংগঠনটির ইতিহাস এবং সাংগঠনিক বিবর্তনের দিকে তাকালে দেখা যায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম তথা রাজনৈতিক পর্ষদ মাত্র ১০ জন সদস্য নিয়ে তার প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছিল। পরবর্তীতে দেশের রাজনীতির প্রসার এবং দলীয় পরিধি বিস্তৃত হওয়ার কারণে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে আরও দুই বিশিষ্ট সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে ফোরামটির আকার ও কার্যকারিতা কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়। আর সবশেষ ২৩ অক্টোবরের এই ঐতিহাসিক পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে সর্বমোট ১৬ সদস্য বিশিষ্ট এক পূর্ণাঙ্গ ও বহুমাত্রিক নীতিনির্ধারণী রাজনৈতিক পর্ষদ আত্মপ্রকাশ করল।

দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষণ দলগুলোর একাংশের অভিমত, তরুণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, নারী জনপ্রতিনিধি, অভিজ্ঞ চিন্তক এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয় নেতাদের সমাহারে গঠিত এই ১৬ সদস্যের পর্ষদ এনসিপিকে বহুমাত্রিক গতিশীলতা দেবে। একদিকে যেমন এতে রয়েছে নতুন ধারণার অনুপ্রবেশ ঘটানোর সুযোগ, অন্যদিকে তেমনি রয়েছে দূরদর্শী ও প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষণের চমৎকার মেলবন্ধন। একটি সুসংগঠিত দলীয় কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে গণমুখী পথচলা সুগম করতে এনসিপির এই উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশে একটি ইতিবাচক সংকেত বহন করে।

গঠনসূত্রে জানা যায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিষ্ঠার একেবারে শুরুর দিকে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সংখ্যা মাত্র ১০ জন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। পরবর্তীতে দলের সাংগঠনিক পরিধি বৃদ্ধি এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে আরো দুজন সদস্যকে পর্ষদে যুক্ত করা হয়েছিল। সবশেষ ২৩ অক্টোবরের এই নতুন সংযোজন ও পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে পর্ষদের পূর্ণাঙ্গ রূপ এখন ১৬ সদস্যের শক্তিশালী নীতিনির্ধারণী সংস্থায় পরিণত হলো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করছেন, নবীন ও প্রবীণ, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য এবং সক্রিয় ছাত্র ও তরুণ নেতাদের এই সম্মিলনে গঠিত রাজনৈতিক পর্ষদ এনসিপির রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নতুন মুখ যুক্ত হওয়ায় নীতি নির্ধারণে যেমন অভিনব ভাবনা আসবে, তেমনি মাঠ পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে এনসিপি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক যাত্রায় একটি সুসংগঠিত এবং গণমুখী রূপরেখা দিতে সক্ষম হবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com