সোনারগাঁয়ে বাসের সিটে ২৩ হাজার ইয়াবা, আটক ৩

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৩ বার
সোনারগাঁয়ে বাসের সিটে ২৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৩

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী একটি স্লিপার বাসের সিটের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২৩ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার করা এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৯ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাসটির সুপারভাইজার ও হেলপারসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত বাসটিও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালানটি উদ্ধার করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস, চালানটির গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামানও অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর দোয়েল বাস টার্মিনালে অভিযান চালানো হয়। কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আলফা এক্সপ্রেসের একটি স্লিপার বাসকে কেন্দ্র করে এ অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

গোপন সূত্রে বাসটিতে মাদকের চালান থাকার তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ সদস্যরা সেখানে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে বাসের একটি সিটের ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো পাওয়া যায়। গণনা শেষে মোট ২৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

দূরপাল্লার বাসে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কখনো কখনো পণ্য ও ব্যক্তিগত মালামালও বহন করা হয়। এ ধরনের পরিবহনব্যবস্থাকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা করা হলে তা শনাক্ত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে এ ঘটনায় বাসটির কোন সিটে মাদক রাখা হয়েছিল, সেটি কে বা কারা সেখানে রেখেছিল এবং পরিবহনের সময় কারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময় বাসের সুপারভাইজার ও হেলপারকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইনবোর্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে আটক করা হয়। এভাবে মোট তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চালানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা হলেন যশোরের শার্শা উপজেলার ভবেরবেড় এলাকার মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রাকিবুল হাসান (৩০), যশোরের কোতোয়ালি থানার নিউ মার্কেট বি-ব্লক এলাকার মৃত আজিজুল ইসলামের ছেলে মো. আশিক (২৮) এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ব্রাহ্মণগাঁও এলাকার মৃত শফি উদ্দিনের ছেলে সাইফুল হোসেন (৩৮)।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাকিবুল হাসান ঢাকার যাত্রাবাড়ীর বিবির বাগিচা এলাকায় এবং মো. আশিক রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় বসবাস করতেন। তবে তাঁদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা, চালানটির মালিকানা এবং মাদক পরিবহনের সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার প্রকৃতি তদন্তে যাচাই করা হবে।

আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কে মাদক সংগ্রহ, পরিবহন, সরবরাহ কিংবা গ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে শুধু আটকের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে ধরে নেওয়া যায় না। তদন্তে পাওয়া তথ্য, জব্দ করা আলামত, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রত্যেকের দায় নির্ধারণ করতে হবে।

পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা ২৩ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি ট্যাবলেটের গড় মূল্য প্রায় ৩০ টাকা ধরে এই হিসাব করা হয়েছে। তবে প্রকৃত বাজারমূল্য, মাদকের উৎস এবং চালানটির সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য নির্ধারণে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

ইয়াবা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের মধ্যে অন্যতম। এর অবৈধ উৎপাদন, সরবরাহ, পরিবহন ও বিপণন ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার জনস্বাস্থ্য, শিক্ষাজীবন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়।

এ ধরনের চালান আটক করা মাদক সরবরাহের একটি পথ শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। তবে একটি চালান উদ্ধারই পুরো সরবরাহব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার প্রমাণ নয়। মাদকের উৎস, পরিবহনের পদ্ধতি, অর্থের লেনদেন, সরবরাহকারীদের যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হলে চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ কোন তথ্য পেয়েছে এবং কোন তথ্য এখনো যাচাইাধীন, তা আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। প্রমাণ ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করা দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

প্রাথমিক অভিযানে বাসের সুপারভাইজার ও হেলপারকে আটক করার পর তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইনবোর্ড এলাকায় আরও একটি অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে ডিবি। সেখান থেকে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহে তৃতীয় ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

এ পর্যায়ে তদন্তকারীদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। চালানটি কক্সবাজার থেকে বাসে তোলার সময় কারা উপস্থিত ছিলেন, মাদক পরিবহনের পরিকল্পনা কোথায় করা হয়েছিল এবং ঢাকায় পৌঁছানোর পর তা কার হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল—এসব বিষয় অনুসন্ধানের মাধ্যমে পরিষ্কার হতে পারে।

পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাসের সিটের ভেতর থেকে ২৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার এবং তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। এ চক্রের মূল হোতাকে শনাক্ত ও আটক করতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

তদন্তের পরবর্তী ধাপে আটক ব্যক্তিদের বক্তব্যের সঙ্গে উদ্ধার করা আলামত ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে বাসটির মালিকানা, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং চালান পরিবহনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জ্ঞাতসারে কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

ঘটনার পর উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় এজাহার দায়ের করেন। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অভিযানে জব্দ করা বাসটি তদন্তের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আইন অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও আটকের পর সংশ্লিষ্ট আলামত যথাযথভাবে সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, সাক্ষ্য সংগ্রহ এবং মামলার নথি প্রস্তুত করা গুরুত্বপূর্ণ। আদালতে অভিযোগ প্রমাণের জন্য শুধু উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ নয়, অভিযুক্তদের সঙ্গে মাদকের সম্পর্ক এবং তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকার পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণও প্রয়োজন।

এ ঘটনায় এখনো তদন্ত চলছে। ফলে চালানটির প্রকৃত মালিক, এর পেছনে থাকা অর্থের উৎস এবং সম্ভাব্য সরবরাহকারীদের পরিচয় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় আসেনি।

কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বাসে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি আন্তজেলা পরিবহনের মাধ্যমে মাদক পাচারের ঝুঁকিকে আবারও সামনে এনেছে। তবে এই ঘটনা থেকে সব দূরপাল্লার বাস বা পরিবহনকর্মীকে সন্দেহের চোখে দেখার সুযোগ নেই। বরং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি, সন্দেহজনক চালানের অনুসন্ধান এবং পরিবহনব্যবস্থায় নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন।

মাদক পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যেমন জরুরি, তেমনি মাদকের চাহিদা কমাতে সচেতনতা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। মাদকনির্ভরতার সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে অবৈধ সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সোনারগাঁয়ে ২৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি এখন গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ জানিয়েছে, চালানটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে মাদকের উৎস, পরিবহনের পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে পুরো ঘটনার চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা অবশ্য আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com