দুদকের মামলায় পাপিয়া দম্পতির কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও কারাভোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৯ বার

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমনকে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালত প্রত্যেককে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে দুজনকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাস কারাভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারক আবু তাহের এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার প্রেক্ষাপট অনুসারে, ২০২০ সালের ৪ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজ পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলের প্রেসিডেনসিয়াল স্যুট ও চেয়ারম্যান স্যুটসহ ২৫টি কক্ষে অবস্থান করে খাবার, মদ, স্পা, লন্ড্রি এবং বারের খরচ বাবদ নগদে ৩ কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৬১ টাকা পরিশোধ করেছেন। এছাড়া ওই সময়ে ৪০ লাখ টাকার কেনাকাটা, মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ৩০ লাখ টাকা বাসা ভাড়া, গাড়ির ব্যবসায় ১ কোটি টাকা এবং নরসিংদীতে কেএমসি কার ওয়াশ সলিউশনে ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগের তথ্য মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, পাপিয়া ও তার স্বামীর বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ৩০ লাখ ৫২ হাজার ৯৫৮ টাকার কোনো বৈধ উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময় ঢাকার শেরেবাংলা নগর ও নরসিংদীর পাপিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল সম্পদ জব্দ করা হয়। র‌্যাবের তথ্যমতে, বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং মফিজুর রহমান সুমনের নামে হোন্ডা সিভি ২০১২ মডেলের গাড়ি যার মূল্য ২২ লাখ টাকা।

গ্রেপ্তারের পর পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে র‌্যাব ও বিমানবন্দর থানা থেকে অস্ত্র, মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪-এর অধীনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া গুলশান থানায় মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে এবং দুদকের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাও প্রক্রিয়াধীন থাকে। ২০২৩ সালের ২৫ মে পাপিয়ার চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছিল। তবে তার স্বামী মফিজুর রহমান, সহযোগী সাব্বির খন্দকার, শেখ তায়িবা নূর ও জুবায়ের আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান

এই রায়ে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, প্রমাণিত অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পাপিয়া দম্পতিকে দণ্ডিত করা হয়েছে, যা দেশের দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি বার্তাও বহন করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত