প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলায় আবারও বড় আকারের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁও ইউনিয়নের খাগড়া এলাকায় বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ ও সংরক্ষণের কৌশল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও অবাক করেছে।
র্যাবের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, শনিবার (১৯ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, গোয়াইনঘাটের খাগড়া এলাকায় মোবাইল কোম্পানির টাওয়ারের সামনে একটি পাকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে একজন মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবার চালান নিয়ে লেনদেনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংবাদটি পেয়ে র্যাবের একটি আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে র্যাব সদস্যরা তাকে কৌশলে আটক করতে সক্ষম হয়।
পরে তার দেহ তল্লাশির সময় এক অভাবনীয় তথ্য বেরিয়ে আসে। অভিযুক্ত ব্যক্তি, সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার লামাকুটাপাড়া এলাকার হারিছ মিয়ার ছেলে কামরুল ইসলাম (৩৯), তার পরিহিত লুঙ্গির ভেতরে বিশেষ কায়দায় মাদক লুকিয়ে রেখেছিল। তার নিজ হাতে দেখিয়ে ও বের করে দেওয়া মতে লুঙ্গির ভাঁজ থেকে একটি কালো রঙের পলিথিন মোড়ানো ১৫টি বায়ুরোধক প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এসব প্যাকেটের ভেতরে মোট ২ হাজার ৮৩৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়, যার বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেফতারের পর কামরুল ইসলামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব জানতে পারে যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এ ধরনের মাদক পাচারের প্রবণতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে র্যাব। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার চালান কার কাছে হস্তান্তরের জন্য আনা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া অফিসার) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, “গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত ও আসামিকে গোয়াইনঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ফেনসিডিল ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে দেশে ইয়াবার প্রবাহ সবচেয়ে বেশি হওয়ায় র্যাব ও বিজিবি এ অঞ্চলে বিশেষ নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। তবুও মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারীরা কৌশল পাল্টে বারবার নতুনভাবে এ অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মাদক ব্যবসায়ীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য থেকে জানা গেছে। এ কারণে র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই অঞ্চলে টহল ও তল্লাশি জোরদার করেছে। তবুও মাদককারবারিদের দৌরাত্ম্য ঠেকানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, একটি ইয়াবা ট্যাবলেট সাধারণত সীমান্ত এলাকায় খুচরা পর্যায়ে ৫০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়, যা শহরে পৌঁছালে এর মূল্য দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যায়। সুতরাং উদ্ধার হওয়া এই বিপুল ইয়াবার আর্থিক পরিমাণ কয়েক লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। কামরুল ইসলামের মতো মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে মাদক সিন্ডিকেট মূল চালানগুলো দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়। ফলে বড় মাদক নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে হলে শুধু গ্রেফতার নয়, এর পেছনের মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
গোয়াইনঘাটের স্থানীয় সূত্র জানায়, এ ধরনের অভিযানে এলাকায় একদিকে স্বস্তি ফিরছে, আবার অন্যদিকে মাদক সিন্ডিকেটের শক্তিশালী দৌরাত্ম্যের কারণে সাধারণ মানুষ এখনও শঙ্কিত। অনেকে মনে করছেন, এভাবে নিয়মিত অভিযান চলতে থাকলে মাদক ব্যবসা পুরোপুরি নির্মূল না হলেও উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।